ভারত ভ্রমণ ৯১ / India Travel 91:আজমীর জেয়ারত

 

ভারত ভ্রমণ ৯১ / India Travel 91:

Click



 ১৯
রাজস্থানের রাজধানী জয়পুরের পিঙ্ক সিটির অভিজ্ঞতা নিয়ে গভীর রাতে ওরা আজমীরের  উদ্দেশ্যে ট্রেনে রওনা দিল।  সারারাতের ট্রেনের অভিজ্ঞতা নিয়ে ভোরবেলা ওরা আজমীরে পৌছালো।  আগেই ঠিক করা ছিল ওরা মুন্না ভাইয়ের ওখানে উঠবে বেঙ্গল লজে , মুন্না ভাইয়ের অনেক চিঠি বাংলাদেশের বিভিন্ন লোকের কাছে আসে, বেঙ্গল লজ এর প্রতিবছর ঈদের সময় কোরবানির সময় যাদের কাছে চিঠি আসে তারা বলে দিয়েছে মুন্না ভাইয়ের সাথে যোগাযোগ করার জন্য।  মুন্না ভাইয়ের একটি পুরাতন বাড়ি।  তিন তালা বাড়িতে খাড়া সিড়ি পুরাতন আমলের বাড়ির মত সেখানে গিয়ে মুন্না ভাইয়ের সাথে দেখা করা হলো।  কালো গোলগাল মুখ মিষ্টি ব্যবহারের মুন্না ভাই প্রথমেই ওদেরকে একটি রুমে নিয়ে বসতে দিল নাস্তা খেতে দিল পরোটা ভাজি ডিম পোচ দিয়ে।  ওরা নাস্তা খেয়ে ব্যাগ রেখে বললো একটু ঘুরতে বের হবে , বের হয়ে হবার সময়  মুন্না ভাই বলল,
" তোমরা কি তারাঘরে যাবে প্রায় সাত কিলোমিটার পাহাড় ডিঙিয়ে তারা ঘরে যেতে হবে, ওখানে মীরা বাবার মাজার আছে। " 
যুবক বয়স তাই আমিনরা সহজেই রাজি হয়ে গেল। 


২০
 তারা ঘরের দিকে বের হয়ে রওনা দিল খাড়া পাহাড়ি পথ হাঁটতে হাঁটতে একপাশে পাহাড় মধ্যে সরু পাহাড়ি রাস্তা। আরেকপাশে দোকান ওরা দেখতে পেল, সেখানে একটু বিশ্রাম নিল, ওখানে চা খাওয়ার পরে ওরা আবার রওনা দিল।  যেতে যেতে অনেক দূর।  নিচে তাকালে ছোট ছোট বাড়িঘর দেখা যায় ওরা তারা ঘরে পৌঁছালো।  তারা ঘর একটা বিশাল স্থান।   রাজমহলটাকে একটা বাড়ি মনে হয় পাশে একটা ছোটখাটো লোকালয়ে একদমই ছোট কিছু খালি জায়গা মাঠের মতো পড়ে রয়েছে।  তারা বাইয়ের  পিতা পৃথ্বীরাজ চৌহানের গড়ে দেওয়া মহল, চৌহান খাজা বাবাকে অনেক যন্ত্রণা দিয়েছিল।  তারা বাই  অনেক যুদ্ধ করেছে খাজা বাবার সাথে কিন্তু তার অলৌকিক আল্লাহ প্রদত্ত ক্ষমতার সাথে পারেনি। সেখানে লোকালয়ে বিভিন্ন ছোট ছোট দোকান হোটেল আছে পাশেই মীরা বাবার মাজার মীরা বাবা অনেক যুদ্ধ করেছে পৃথ্বীরাজ এবং তার কন্যা তারাবাই এর সাথে, তার নিদর্শন পাহাড় দিয়ে ওঠার সময় দেখা গেছে মিরা বাবার মাজার জিয়ারত করে সেখানে দুই রাকাত নফল নামাজ পড়ে ওখানে বেশ কিছুক্ষণ সেখানে  বিশ্রাম নিল, কারণ পাহাড় বেয়ে উঠতে প্রচুর শ্রম গেছে।  এর পরে ওরা আবার নিচের দিকে রওনা দিলো নামতে নামতে এক জায়গায় এসে দেখে একজন বৃদ্ধ  মহিলা।  ওরা বৃদ্ধা মহিলাকে জিজ্ঞেস করল, "আব কাহাছে  আয়া? " 
আমিনদের  ভাষার  ধরন, জিজ্ঞেস করার ধরন দেখে, মহিলা বুঝতে পারল,  স্পষ্ট বাংলায় বলল,
" আমি বাংলাদেশ থেকে এসেছি। "
 বাংলাদেশ নামটা শুনে আমিনরা চমকে উঠলো। 
বললো,
"বাংলাদেশের  কোথা থেকে এসেছেন?"
 মহিলা বলল,
" আমি ফরিদপুর থেকে এসেছি। এখানে আজকে ২০ বছর ধরে বসবাস করছি। "
এই পাহাড়ের গুহায় মোটা গাটা কালো মহিলাকে দেখে ২০ বছর ধরে এখানে  অবস্থান করছে দেখে , ওরা  আশ্চর্য হয়ে গেল।  মহিলাকে বলল,
" আপনি জিনিসপত্র কোথা থেকে পান। "
 মহিলা বলল,
" নিচে প্রতিদিনই একবার দুইবার আমার যাওয়া পরে, সেখান থেকে নিয়ে আসি। "
নিচে তো আজমিরে বিশাল বাজার সুতরাং জিনিসপত্রে আনা তো অবাক হওয়ার কথা না। 
বললো,
"তা আপানার  চলে কিভাবে?"
 মহিলা বলল,
" আমাকে আজমীর শরীফ থেকে কিছু সাহায্য করা হয়, আমি কিছু কাজ করি এখানে বিভিন্ন জায়গায়, আর পথ চলতে লোকেরা কিছু দেয়। "
 আমিন রাও মহিলাকে ৫০ রুপি  দিল ৫০ টি রুপি ৯১ সালে কম কথা নয়। এরপরে আমিনরা নিচের দিকে আবার রওনা দিল তখন বাজে বেলা ১২.০০টা।  ওরা মুন্না ভাইয়ের শূন্যস্থানে যেখানে বসে মুন্নাভাই কথাবার্তা বলে, সেই খালি জায়গায় এসে বসলো খালি জায়গায় এসে বসার সাথে সাথেই বারান্দার মত জায়গায় মুন্না ভাইয়ের লোকেরা এসে খাবার দিয়ে গেল চিকন চালের ভাত, খাসির গোস্ত এবং ডাল।  একবাটি গোস্ত যা ওরা  কস্মিনকালেও খেতে পারার কথা নয় কিন্তু পুরাটাই শেষ করে ফেলল।  শেষ করার পরে ওরা এত লজ্জা পেল এতগুলি গোস্ত দিলেই কি  খেতে হবে?একটু কম খেলেও তো হত, ভদ্রতা বলে একটা কথা আছেনা, কিন্তু পাহাড়ে ওঠা নামায় ওদের খিদা যে এত শক্তিশালী হয়ে গিয়েছিল তা ওরা  বুঝতেও পারেনি।  জর্দা  একটু কম খেলো ইচ্ছা করেই, অথচ পুরা জর্দার বাটিটাই ওরা শেষ করে ফেলতে পারতো।  যা খাবার পরে দেওয়া হয়েছিল।  কিন্তু লজ্জা করে ওরা একটু কমই খেলো।  তারপরে ওরা ঘুমিয়ে পড়ল দুপুরে উঠে যোহরের নামাজ পড়ে ওরা মুন্না ভাইয়ের সাথে আজমীর শরীফের ভিতরে মাজারে গেল, দুই রাকাত নফল নামাজ পড়লো। আল্লাহপাকের নেয়ামত লাভের আশায়। তারপরে মুন্না ভাই ওদের আজমীর শরীফের ওয়ালের সাথে কপাল ঠেকিয়ে দিল, মুন্না ভাই কে আমিন বলল,
" কপাল ঠেকানো  তো ঠিক না আল্লাহ রাব্বুল আলামীন ছাড়া আর কারো কাছেই তো কপাল ঠেকানো যায় না। আমাদের পেয়ারে  নবী হুজুরে পাক সাঃ -কে বিভিন্ন পশুপাখি সিজদা করত তখন অনেক সাহাবারাও বলেছেন, "আমরা আপনাকে সেজদা করি। "
 তখন রসূল আঃ বলছেন ,
" সেজদা একমাত্র আল্লাহ পাকের জন্য যদি আল্লাহ পাক বাদে কাউকে সেজদা করতে বলা হত তাহলে নারীদেরকে তার স্বামীদেরকে সিজ্দা  করতে বলা হত। "
 মুন্না ভাই কোন জবাব দিলেন না। 




২১
যা হোক ওরা প্রস্তুতি নিতে লাগলো কিভাবে রাতের গাড়িতে দিল্লি ফেরত যাওয়া যায় মুন্না ভাইয়ের মাধ্যমে ওদের ব্যবস্থা হয়ে গেল রাতের গাড়িতে দিল্লিতে ফেরার থ্রি টায়ার  ট্রেন পাওয়া গেল যেখানে ঘুমিয়ে ওরা পরের দিন সকালবেলা দিল্লিতে ফিরতে পারবে।  বিকেলে আজমিরের বিভিন্ন মার্কেটে ঘুরতে বের হলো ওরা। আসরের নামাজ দরবার শরীফের মসজিদে পড়ল আজমীর শরীফটাকে সুন্দর করে ঘুরে দেখল ওরা ইঞ্জিন রিকশায়। রাতে ২০০ রুপি মুন্না ভাইয়ের হাতে দিয়ে না খেয়েই স্টেশনের দিকে রওয়ানা দিলো। স্টেশনের পাশের হোটেলে বাটার চিকেন দিয়ে তৃপ্তি সহকারে রুটি খেয়ে ওরা ট্রেনের আপার বাথে শুয়ে পড়লো। আজমীর ভ্রমণের রঙ্গীন চিন্তায় ওরা একসময় ঘুমিয়ে  পড়লো।




Keywords:

#ভ্রমণ,

#ভ্রমণ অভিজ্ঞতা,

#বাংলা ট্রাভেল ব্লগ

#Travel Story

📢 আপনার মতামত জানান:
  কি   আপনাকে সবচেয়ে বেশি অনুপ্রাণিত করে? নিচে কমেন্ট করুন ও পোস্টটি শেয়ার করুন।




Post a Comment (0)
Previous Post Next Post