২২
# খাজা মঈনুদ্দিন চিশতী (রহ.)-এর ১০টি কারামতের ঘটনা
১. অগ্নি পূজকদের আগুন নিভে যাওয়া
আজমীরে হিন্দু অগ্নি পূজকরা একটি বিশাল পূজা আয়োজন করেছিল। তারা দাবানলের মতো বড় আগুন জ্বালিয়েছিল। খাজা সাহেব (রহ.) যখন সেদিকে অতিক্রম করছিলেন, আল্লাহর নাম উচ্চারণ করতেই হঠাৎ আগুন নিভে যায়। আগুনের পূজারি সবাই হতবাক হয়ে যায়। অনেকেই বুঝতে পারে যে, সত্যিকারের শক্তি কেবল আল্লাহর হাতে। তাদের অনেকেই তাঁর হাতে ইসলাম গ্রহণ করে।
---
২. শুকনো কূপে পানি ভরে যাওয়া
আজমীর শহরে একবার ভয়ংকর খরা দেখা দিল। মানুষ পানির অভাবে কষ্ট পাচ্ছিল। খাজা সাহেব (রহ.) একটি শুকনো কূপের কাছে গিয়ে দোয়া করেন এবং একটি পাথর কূপে নিক্ষেপ করেন। মুহূর্তেই কূপ থেকে ঝর্ণার মতো পানি বের হতে থাকে। সেই পানি শহরের সকল মানুষ ব্যবহার করতে থাকে।
---
৩. মাটি ফেটে ঝর্ণা বের হওয়া
একদিন তাঁর মুরিদরা তীব্র তৃষ্ণায় কষ্ট পাচ্ছিল। চারপাশে কোনো পানির উৎস ছিল না। খাজা সাহেব (রহ.) মাটিতে হাত রাখেন এবং আল্লাহর নাম জপ করতে থাকেন। আশ্চর্যজনকভাবে সেই জায়গা ফেটে গিয়ে একটি ঝর্ণা বের হতে শুরু করে। সবাই পানি পান করে প্রাণ ফিরে পায়।
---
৪. অসুস্থ মানুষের আরোগ্য লাভ
তাঁর দরগাহে অসংখ্য মানুষ আসতো রোগমুক্তির আশায়। বলা হয়, শুধু খাজা সাহেব (রহ.)-এর দোয়ার বরকতেই বহু রোগী আরোগ্য লাভ করতো। এমনকি চিকিৎসায় অকার্যকর রোগও তাঁর দোয়ায় সেরে উঠত। এ কারণে তাঁকে “গরীব নবাজ” (গরীবের অভিভাবক) বলা হয়।
---
৫. গরিবের ঘরে খাবার পৌঁছে যাওয়া
এক দরিদ্র ব্যক্তি ক্ষুধায় কাতর হয়ে তাঁর কাছে আসেন। খাজা সাহেব (রহ.) দোয়া করেন এবং তাঁকে বলেন ঘরে ফিরে যেতে। দরিদ্র ব্যক্তি ঘরে ফিরে দেখেন তাঁর ঘর খাবারে পূর্ণ হয়ে গেছে। এর পর থেকে তিনি কখনো ক্ষুধার্ত থাকেননি।
---
৬. পশুপাখির শান্ত হয়ে যাওয়া
খাজা সাহেব (রহ.)-এর আধ্যাত্মিক প্রভাব শুধু মানুষের ওপরই ছিল না, পশুপাখির উপরও ছিল। জঙ্গলের হিংস্র পশুরাও তাঁর সামনে শান্ত হয়ে যেত। সিংহ, নেকড়ে, এমনকি সাপও তাঁর সামনে এসে বসে থাকতো কিন্তু ক্ষতি করতো না।
---
৭. বাঘ বশ করা
আজমীরের এক জঙ্গলে ভয়ংকর এক বাঘ মানুষের উপর হামলা চালাতো। সবাই আতঙ্কিত হয়ে যায়। খাজা সাহেব (রহ.) বাঘটিকে ডাকলেন। বাঘটি শান্তভাবে তাঁর সামনে এসে মাথা নিচু করে পায়ের কাছে বসে পড়ে। এরপর থেকে সেই বাঘ আর কাউকে ক্ষতি করেনি।
---
৮. দূরের রুটি কাছে চলে আসা
একদিন তাঁর মুরিদরা দূরে বসে রুটি বানাচ্ছিল। খাজা সাহেব (রহ.) হঠাৎ বললেন, “আমাকে রুটি দাও।” দূরে থাকা মুরিদরা অবাক হলো, কীভাবে দেবে? ঠিক তখনই দেখা গেল, একটি রুটি বাতাসে উড়ে এসে তাঁর সামনে হাজির হয়ে গেল।
---
৯. মৃত শিশু জীবিত হওয়া
আজমীরে এক নারী তাঁর মৃত শিশুকে নিয়ে খাজা সাহেব (রহ.)-এর দরবারে এলেন। তিনি অশ্রুসিক্ত হয়ে প্রার্থনা করলেন। খাজা সাহেব (রহ.) শিশুটির মাথায় হাত রেখে দোয়া করলেন। অল্প সময়ের মধ্যেই শিশুটি জীবিত হয়ে উঠল। এই অলৌকিক ঘটনা দেখে শহরের অনেকেই আল্লাহর শক্তিতে বিশ্বাসী হয়ে ওঠে।
---
১০. অদৃশ্য হয়ে যাওয়া
কিছু বর্ণনায় পাওয়া যায়, কখনো কখনো তিনি এমনভাবে অদৃশ্য হয়ে যেতেন যে আশেপাশের মানুষ তাঁকে দেখতে পেত না। আবার হঠাৎ সামনে এসে উপস্থিত হতেন। তাঁর শিষ্যরা বলতেন, এটা ছিল আল্লাহর প্রদত্ত বিশেষ করামত।
---
খাজা মঈনুদ্দিন চিশতী (রহ.)-এর এসব কারামত প্রমাণ করে, তিনি আল্লাহর এক বিশেষ বন্ধু (ওলীআল্লাহ)। তাঁর জীবনের প্রতিটি ঘটনাই মানুষের হৃদয়ে আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস দৃঢ় করেছে এবং ইসলাম প্রচারের পথে সহায়ক হয়েছে।
২৩
#আজমীরের রাজার জাদুকর প্রেরণের ঘটনা
# রাজা পৃথ্বীরাজের আতঙ্ক
খাজা মঈনুদ্দিন চিশতী (রহ.) যখন আজমীরে ইসলাম প্রচার শুরু করলেন, তখন বহু মানুষ তাঁর হাতে ইসলাম গ্রহণ করতে লাগলো। এতে আজমীরের রাজা **পৃথ্বীরাজ চৌহান** খুব ভীত হয়ে পড়লেন। তিনি ভাবলেন, যদি এইভাবে চলতে থাকে, তবে তাঁর রাজ্যে হিন্দুধর্ম দুর্বল হয়ে যাবে।
রাজা নানা ভাবে তাঁকে বিরক্ত করতে লাগলেন। কিন্তু যখন কিছুতেই কিছু হলো না, তখন তিনি সিদ্ধান্ত নিলেন যে, খাজা সাহেবকে হত্যা করতে হবে। এজন্য তিনি রাজ দরবারের শক্তিশালী জাদুকরদের ডাকলেন।
---
১। জাদুকরের আগমন
একদিন এক ভয়ংকর জাদুকর খাজা সাহেব (রহ.)-এর দরবারের কাছে এলো। তার চোখে ছিল রক্তিম আভা, হাতে নানা তাবিজ-তাবরা, আর ঠোঁটে ভয়ংকর মন্ত্রোচ্চারণ। মানুষ দূর থেকে ভয়ে কাঁপতে লাগলো।
জাদুকর উচ্চস্বরে মন্ত্র পড়তে পড়তে আকাশে আগুনের গোলা সৃষ্টি করলো। সেই আগুনের শিখা খাজা সাহেব (রহ.)-এর দিকে ধেয়ে আসতে লাগলো। সবাই ভয়ে চিৎকার করছিল।
---
২। খাজা সাহেব (রহ.)-এর অলৌকিকতা
কিন্তু খাজা মঈনুদ্দিন চিশতী (রহ.) বিন্দুমাত্র ভয় পেলেন না। তিনি শান্তভাবে চোখ বন্ধ করলেন এবং আল্লাহর নাম উচ্চারণ করে হাত উঠালেন।
হঠাৎ দেখা গেল, জাদুকরের পাঠানো আগুন উল্টে গিয়ে সেই জাদুকরের দিকেই ধেয়ে যাচ্ছে! আগুনের শিখা জাদুকরের চারপাশ ঘিরে ফেললো। সে আতঙ্কে চিৎকার করতে লাগলো।
---
৩। জাদুকরের আত্মসমর্পণ
জাদুকর বুঝতে পারলো, আল্লাহর এক ওলীর সামনে তার কোনো জাদুই কাজ করছে না। সে কান্নায় ভেঙে পড়ে খাজা সাহেব (রহ.)-এর পায়ে এসে পড়ে এবং ক্ষমা চেয়ে বলে:
“হে খাজা সাহেব! আমি ভুল করেছি। আপনার আল্লাহই সত্যিকারের শক্তিশালী। আমাকে মাফ করুন।”
খাজা সাহেব (রহ.) তাকে ক্ষমা করলেন এবং আল্লাহর পথে আহ্বান করলেন। বলা হয়, সেই জাদুকর পরে ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন।
---
৪। রাজার ব্যর্থতা
রাজা পৃথ্বীরাজ চৌহান এই খবর শুনে আরো আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। কিন্তু তিনি বুঝতে পারলেন, আল্লাহর ওলীকে কোনো জাদু বা অস্ত্র দিয়ে দমন করা যায় না।
---
৫। শিক্ষা
এই ঘটনার মাধ্যমে বোঝা যায়—
* আল্লাহর বন্ধুদের (ওলীদের) বিরুদ্ধে কোনো শক্তিই জয়ী হতে পারে না।
* সত্যের পথে থাকা মানুষ সবসময় নিরাপদ, যদিও শত্রু যতই প্রবল হোক।
*আল্লাহর শক্তি সব জাদু-টোনা ও কুপথের চেয়ে অনেক বড়।
২৪
ইন্ডিয়া ভ্রমণের এক বিশাল সুবিধা আমিন ১৯৯১ সালে দেখলো বিশাল বিশাল জার্নি ট্রেনের মাধ্যমে সহজেই সমাপ্ত করা যায়। দিনের বেলা বসে বসে গল্প গুজব করো আর রাত হওয়ার সাথে সাথে পিঠের সিটটি বিছানা বানিয়ে তিনজন শুয়ে পরো। আসে পাশের যাত্রীরা তিনজনের সাইট চারজন বসে গল্প করলেও রাতে তিন জনের জন্য রিজার্ভ এরজন্যই এর নাম থ্রী টায়ার রিজারভেশন। খাজা বাবার কথা ভাবটা ভাবতে ঘুমিয়ে পড়ার পর ঘুম থেকে উঠার পর ওরা দেখতে পেলো ওরা দিল্লির নিজামুদ্দিন রেল স্টেশনে। বাসায় উদ্দেশে রওয়ানা দেয়ার সময় ওরা বুজতে পারলো রাতের সুন্দর ঘুমের কারণে ওদের জার্নির ক্লান্তি দূর হয়ে গেছে।