ভারত ভ্রমণ ৯১ / India Travel 91:আজমীর যাত্রা

 ভারত ভ্রমণ ৯১ / India Travel 91: ষষ্ট খন্ড   /Part Six 

Click


১৬

গুড্ডুর আব্বার থেকে ওরা রাতেই সব জেনে নিয়েছিল আজমীর যেতে হলে কি করতে হবে কোথা থেকে বাস বা ট্রেন ধরতে হবে ইত্যাদি ইত্যাদি। ওদের মনে ইচ্ছা এলো ট্রেনে তো চড়েছি এবার একটু বাস জার্নি করি। ৭টার সময় সকালে রওয়ানা দেয়ার সময় গুড্ডুর আম্মা অর্থাৎ চাচী বললো,

" আসার পরে এই কয়দিন তোমাদের গোসল করতে দেখিনি, আমি গরম পানি দিচ্ছি গোসল করে নেও।"

উনি হিন্দি ছাড়া অন্য ভাষায় কথা বলতে পারেন না। তাই তানভীর মামা কিছু বোঝেন না। তাই আমিন তাকে অনুবাদ করার পর অত্যন্ত খুশি হলো যদিও প্রচন্ড শীত। নিচের তলায় একটা গোসল খানা , পশে একটা টয়লেট। আমিন টয়লেট থেকে বেরোতেই দেখলো মামা গোসল সেড়ে ফেলেছে। আমিনও তাড়াতাড়ি সারলো কারণ বাস ধরতে হবে। রেডি হয়ে নিচে নামতেই দেখলো চাচী নাস্তা নিয়ে দাঁড়িয়ে। রুটি সবজির দুর্দান্ত নাস্তা। ওরা বুঝলো হোটেলে টাকা খরচ করে এ নাস্তা পাওয়া সম্ভব নয়। তানভীর আমিনের মাধ্যমে ওদের খাবার কথা চাচীকে জানিয়ে দিলো। নাস্তা শেষে ওরা আজমীরের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হলো। 







১৭

বাস স্ট্যান্ডে গিয়ে ওরা অবাক !এ কেমন বাস স্ট্যান্ড?আমাদের দেশে বাস স্ট্যান্ড বলতে বুঝায় রাস্তায় ১০ থেকে ১২ টা গাড়ি বা বাস দাড়িয়ে থাকবে রাস্তায় , স্ট্যান্ডে থাকবে শত বাস,কোলাহলপূর্ণ  জায়গা হবে,হোটেল থাকবে ,পানবিড়ির ইত্যাদির দোকান থাকবে।বেবি দিয়ে নামার পর একটা বড় গেট পার হয়ে দেখলো বাউন্ডারি দেয়া একটা বিশাল জায়গা ৫/৭ টা বাস দাঁড়িয়ে আছে। পাকা একটা ঘর সামনে গ্লাস অর্থ্যাৎ বাস কাউন্টার ওর সামনে একটা বাস দাঁড়িয়ে আছে। আমিনরা টিকেট নিয়ে জয়পুরের ওই বসে উঠে পড়লো আর চিন্তা করলো এই যদি হয় তবে শহরের মধ্যে বাস স্ট্যান্ড থাকলে কি আসে যায়? সরাসরি কোনো বাস আজমীর যায় না জয়পুর যেতে হবে এবং ওখান থেকে আজমীরের বাস ধরতে হবে। ওরা দামি এ/সি বসে উঠলো না কারণ ওরা ভ্রমণে এসেছে ,দেখতে এসেছে। জানালা বন্ধ থাকলে  কি দেখবে। শীতের দিন গরমের কোনো চিন্তা নেই এবং ওরা পৈতৃক টাকায় এসেছে, যত কম টাকা খরচ হবে তত  বেশি ঘুরতে পারবে। ইন্ডিয়ায় বাসের এক সুন্দর সিস্টেম যত কিছুই হোক না কেন ওরা দুঘন্টা পর পর একটা ধাবার সামনে থামাবে বেড়ার হোটেল দামে  সস্তা খাবার ভালো। এছাড়াও রিলাক্স ও প্রাকৃতিক কাজ এখানে সমাধা করা যায়। 

১৮


নয়নাভিরাম দৃশ্য দেখতে দেখতে এবং বিভিন্ন ধাবায় সময় কাটিয়ে ওরা বিকালে জয়পুরে পৌছালো। নেমেই বুঝলো কেন জয়পুর কে পিঙ্কসিটি বলা হয়। বাড়িঘরে গোলাপি রঙের সমারোহ। ভারতের রাজস্থান রাজ্যের রাজধানী জয়পুর‑কে “পিঙ্ক সিটি”  বলা হয় এর বিশেষ ঐতিহাসিক ঘটনার জন্য। ১৮৭৬ সালে ইংল্যান্ডের প্রিন্স অব ওয়েলস (পরবর্তীতে রাজা এডওয়ার্ড সপ্তম) জয়পুর সফরে আসেন। অতিথিকে স্বাগত জানানোর জন্য তৎকালীন মহারাজা সাওয়াই রাম সিং  পুরো শহরের প্রধান সব ভবন, প্রাসাদ ও দেয়াল গোলাপি (পিঙ্ক) রঙে রঙ করিয়ে দেন। গোলাপি রঙ অতিথি‑সত্কার, উষ্ণতা ও সৌজন্যের প্রতীক হওয়ায় এই রঙ বেছে নেওয়া হয়। এরপর থেকে এই রঙ বজায় রাখার জন্য শহরের কেন্দ্রীয় অংশে ভবনগুলো নিয়মিত পিঙ্ক রঙে রঙ করা হয়। এই ঐতিহাসিক ঘটনার পর থেকে জয়পুর শহরটি সারা বিশ্বে "পিঙ্ক সিটি" নামে পরিচিত হয়ে গেছে। 

আসর, মাগরিবের নামাজ পড়ে বিভিন্ন জনের কাছে জিজ্ঞেস করে ওরা সিটি বাসে আজমীর বাস স্ট্যান্ডে পৌছালো। টিকেট কাটলো রাতের খাওয়া দাওয়া শেষ করে আজমীরের বসে উঠলো ভোরে আজমীর পৌঁছানোর জন্য।  







Keywords:

#ভ্রমণ,

#ভ্রমণ অভিজ্ঞতা,

#বাংলা ট্রাভেল ব্লগ

#Travel Story


📢 আপনার মতামত জানান:
  কি   আপনাকে সবচেয়ে বেশি অনুপ্রাণিত করে? নিচে কমেন্ট করুন ও পোস্টটি শেয়ার করুন।




Post a Comment (0)
Previous Post Next Post