ভারত ভ্রমণ ৯১ / India Travel 91: পঞ্চম খন্ড /Part Five
![]() |
| Click ১৩ দিল্লিতে প্রচন্ড শীত পাঁচ ডিগ্ৰী এটা ওদের কাছে তেমন কোনো শীত না কিন্তু বাংলাদেশে পঞ্চগড় কিংবা আরো কয়েকটি এলাকা ছাড়া এরকম শীতের দেখা মেলা ভার। তাই আমিনদের কাছে এটা প্রচন্ড। ওরা দাঁত ব্রাশ করে মুখ ধুয়ে গোসল না করেই বেরিয়ে গেলো এম্বেসির উদ্দেশ্যে পথে নাস্তা খেলো টোটাল ৮ রুপির মধ্যে দুটো নান রুটি ও দুই প্লেট মহিষের গোস্ত। শেষ পর্যায়ে আমিন আরো একটা নান রুটি নিলো এক রুপি দিয়ে ওর থেকে একটু তানভীর খেলো কারণ নান রুটির সাইজ বেশ বড়। অর্থ্যাৎ নাস্তায় গেলো নয় রুপি। এরপর কন্ট্রাকে একটা বেবি নিলো চাণক্য পুরীর কথা বলে। বেবি বলতে বর্তমানে আমরা CNG বলি তারই পেট্রোলের রূপ, এখন এর রং সবুজ তখন ছিল কালো হলুদ, ইন্ডিয়াতে এর বেশ প্রচলন আর মিটারের কারণে চলাচল খুব সহজ, আমিনদের জন্য নয় কারণ ওরা বিদেশী জায়গা চিনেনা ঘুরাঘুরি করে তিনগুন ভাড়া বানিয়ে ফেলবে, তাই কন্ট্রাক্ট ই ওদের জন্য উত্তম। ১৪ ইন্ডিয়ার বেশিরভাগ এম্বেসি চাণক্য পুরীতে। অশোকা এবং সম্রাট হোটেল পার হতেই ওরা অস্ট্রেলিয়ান এম্বেসি দেখতে পেলো বাম দিকে। বেশ বড় জায়গা নিয়ে এম্বেসি। বাংলাদেশে মার্কিন এম্বেসি শুধু বড় অন্যান্য এম্বেসি সেই তুলনায় ছোট। অস্ট্রেলিয়ান এম্বেসির সামনে নেমেই ওরা ওদের ভুল বুজতে পারলো কারণ তানভীরের টার্গেট এম্বেসি ,পোল্যান্ড ,ডেনমার্ক ,অস্ট্রিয়া ইত্যাদির দুরুত্ব অনেক আবার তার মধ্যে কিছু এম্বেসি ওখানেই নেই গালফ লিংক এ। ওরা গালফ লিংক এ রওয়ানা দিলো। নেমেই প্রথমে পড়লো নিউজিল্যান্ড এম্বেসি। রিসেপশনে আলাপ হলো অনেক আলাপ আলোচনার পর ওরা বললো, "পাসপোর্ট রেখে যান তিনদিন পর এসে ভিসা নিয়ে যাবেন। " তানভীর মামা বললো, " না আগামী সপ্তাহে আসবো। " ওরা বললো , " আচ্ছা। " আমিন তানভীর মামাকে পাশে নিয়ে বললো , "মামা এস দিয়ে দেই, পাসপোর্ট ভারী হবে " তানভীর বললো, " না থাক। " আমিনের কেন যেন মন বললো , মামা ভুল করলো। আগামীদিন তো ওরা আজমীর চলে যাবে এর মধ্যে ভিসা লেগে গেলে ক্ষতি কি ছিল। আপাতত কাজের জন্য বা জীবন গড়ার জন্য আমিনের বিদেশ যাওয়ার কোনো সম্ভবনা ছিলোনা তাই এটা নিয়ে সে আর মাথা ঘামালো না। আরো দুএকটা এম্বেসি ঘুরেওরা বসতি নিজামুদ্দিনের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিলো বেবি কন্ট্রাক্ট করে। ১৫ সামান্য রাস্তা পার হওয়ার পর একটি ট্রাই ষ্টার হোটেল পার হতেই ফ্লাই ওভারের উপরে উঠতেই ওরা অবাক হয়ে গেলো ! অরে নিজামুদ্দিন তো কাছেই অথচ ভাড়া নিলো চাণক্যপুরীর সমান ! হায়রে! না চেনার খেসারত। নিজামুদ্দিন মাইন্ রোডে নামার সাথে সাথে ওরা ঘড়িতে দেখতে পেলো জোহরের ওয়াক্ত প্রায় শেষ হওয়ার পথে ওরা তড়িঘড়ি করে জোহরের ২ রাকাত কসর আদায় করে নিলো। খাওয়া দাওয়া শেষ করে ওরা বাসায় ঢুকলো একটু রেস্টের জন্য। বাসায় ঢুকে তানভীর বললো , "মামা গুড্ডুর আম্মাকে আমাদের খাবারটা তাদের সাথে রান্না করে দিতে বললে কেমন হয় ? হোটেলের এই মসল্লাদার খাবার অবিরত খেলে তো অসুখে পড়ার সম্ভবনা আছে। ' আমিন বললো , "ভালোই তো হয়। " আমিনের খাবারের ব্যাপারে কোনো সমস্যা নাই। রুটি ভাত একটা হলেই হয়। পেট ভরা দিয়ে দরকার। কিন্তু তানভীর ভেতো বাঙালি। একটু ভাত না হলে তার কিভাবে চলবে। তাই এই চিন্তা ভাবনা কারণ এখানে হোটেলে বিরানি আছে ভাত নেই, রুটি প্রধান খাদ্য। আমিন বললো, "ঠিক আছে আগামী কাল আজমীর যাবো আসার পর তাদের কাছে এই প্রস্তাব রাখবো। "
Keywords: #ভ্রমণ, #ভ্রমণ অভিজ্ঞতা, #বাংলা ট্রাভেল ব্লগ #Travel Story 📢 আপনার মতামত জানান: কি আপনাকে সবচেয়ে বেশি অনুপ্রাণিত করে? নিচে কমেন্ট করুন ও পোস্টটি শেয়ার করুন। |
.png)
.png)
.png)