নকল ও শিক্ষা ব্যবস্থা
কয়েকদিন ধরে এইচ এস সি এবং এসএসসি পরীক্ষা নিয়ে বেশ কথা চালাচালি হচ্ছে। বর্তমান যে শিক্ষা মন্ত্রী তিনি হেলিকপ্টার দিয়ে পূর্বের মতো নকল প্রতিরোধ করবেন। আমিন এ ব্যাপারে প্রতিটি খবর গুরুত্বের সাথে লক্ষ্য করে এই জন্য, যে তার কনিষ্ঠপুত্র এইচএসসি পরীক্ষা দিবে। নকলের কথা উঠলেই তার অতীতের কিছু কথা মনে পড়ে সে কথায় পরে আসছি। তবে আরো কিছু খবর নজরে আসে খবরগুলো হলো,
এক নম্বর খবর হলো
শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন বলেছেন, আওয়ামী লীগের আমলের মতো পরীক্ষা এ দেশে আর হবে না। তখন শিক্ষকদের হাতে দুটি কলম থাকত- একটি কালো, অন্যটি লাল। কালো কলম দিয়ে শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের খাতায় লিখে দিতেন। এখন থেকে তা বন্ধ। আগামী পরীক্ষা হবে নকলমুক্ত।
শুক্রবার (২৭ মার্চ),২০২৬, বিকেলে কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের সম্মেলন কক্ষে বোর্ডের কর্মকর্তা ও বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, “আমার প্রতি আস্থা রেখে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব আমাকে দিয়েছেন। এই মন্ত্রণালয় আমার জন্য ইবাদতখানা। আপনারা শিক্ষকরা যদি একজন শিক্ষার্থীকেও প্রকৃত মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে পারেন, সেটি হবে আপনাদের জন্য সদকায়ে জারিয়া। এ কারণে আপনাদের জন্যও এটি ইবাদতখানা।”
নকল বন্ধের বিষয়ে তিনি বলেন, “একজন পুলিশ সদস্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করেন, জেলা প্রশাসক (ডিসি) জেলার সামগ্রিক বিষয় তদারকি করেন। কিন্তু আগামীর বাংলাদেশ গড়বেন শিক্ষকরা।”
মন্ত্রী বলেন, “সামনে এসএসসি পরীক্ষা। প্রতিটি কেন্দ্র সিসি ক্যামেরার আওতায় আনতে হবে। শুধু পরীক্ষার সময় নয়, প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে সার্বক্ষণিকভাবে ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরার আওতায় রাখতে হবে।”
মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
পরীক্ষার হলে সিসি ক্যামেরা বসানো হবে। যাতে ছাত্রছাত্রীরা ডানে-বামে মাথা ঘুরাতে না পারে এভাবে কি নকল প্রতিরোধ করা সম্ভব? কারণ যারা এগুলি করে অভ্যস্ত তারা নতুন সিস্টেম বের করে নেবে । আমিন এতে এইজন্যই একমত না যে, তার মতে মন মানসিকতা পরিবর্তন করতে হবে, কন্ডিশন দিয়ে নয় শিক্ষা দিয়ে। সেই পন্ডিতমশাইয়ের গল্পের মত পরিদর্শক পরীক্ষা কেন্দ্রে গিয়েছেন, কোন শিক্ষক কেন্দ্র পাহারা দিচ্ছেন না।
পরীক্ষার্থীদের প্রতি নজর দেওয়ার মতো কেউ নেই।
সে একান্তে লক্ষ করল যে পরীক্ষার্থীরা নিজেদের মতো করে পরীক্ষা দিচ্ছে।
কেউ কারো দিকে তাকাচ্ছে না।
তারা সকলেই নিজেদের পরীক্ষা নিয়ে ব্যস্ত। কারো দিকে তাকানোর ফুরসৎ
তাদের নেই। রুমের কোনায় একটা সুরাই আছে যাকে আমরা এখন পানির কলস বলি।
পানিস কলসের গলাটা মোটা হয়, যেখানে গ্লাস ঢুকিয়ে পানি বার করা যায়, কিন্তু সুরাইয়ের গলা সরু থাকে, যাতে
করে পানি সংগ্রহ করতে হয় সরাই কত করে। আগে সরাই দেখা যেত, এখন এগুলো আর চোখে পড়ে না।
যাহোক, মূল ঘটনায় আসি কোন লোক নেই।
তাও সেখানে কোন নকল হচ্ছে না।
কারণ, পন্ডিত মশাই তাদের মানসিকতায় যে শিক্ষা দিয়েছেন তা দিয়েই তারা সততার সাথে পরীক্ষা দিচ্ছে। এই শিক্ষা পরীক্ষার্থীদের মধ্যে দিতে হবে।
তাহলেই নকল কমবে, হেলিকপ্টার এর প্রয়োজন পড়বে না কিংবা শিক্ষকদের কঠোর হতে হবে না।
একটা পুরাতন ঘটনা মনে পড়ল আমিনের
বোন দেশে গিয়েছে নকল করে পরীক্ষা দিতে।
ইউ এন ও তাদের খুব পরিচিত আগের দিন তার সাথে নকলের ব্যাপারে আলাপ হয়েছে।
সে আশ্বাস দিয়েছে, এখানে ভালোভাবেই নকল করা যাবে।
যথারীতি পরের দিন পরীক্ষা শুরু হলে ইউ এন ও এবং আরো কয়েকজন অফিসার পরিদর্শনে গেল। বিশাল এক ঝুড়ি ভরে নকলের কাগজ সংগ্রহ করল, বাইরে এনে সেগুলি পুড়িয়ে দিল। আমিন তার এক আত্মীয় কে বললো,
"উনি তো সবই জানেন তবে এগুলো করছেন কেন?"
আত্মীয় জবাব দিল,
"
ভাই কিছুই বোঝেন না পরীক্ষার্থীরা যে পকেট ভইরা নকল নিয়ে গেছিল সেগুলো উনি সংগ্রহ করে পুড়িয়ে দিলেন
আর দেখালেন, এই কেন্দ্রে সৎ ভাবে পরীক্ষা হচ্ছে।
সুতরাং সততা দেখানোর চেষ্টা না করে বাস্তবিকভাবে সৎ হওয়া প্রয়োজন।
দ্বিতীয় নম্বর খবর হলো:
এসএসসি-এইচএসসি পরীক্ষার সময়সূচিতে সংস্কার প্রয়োজন: শিক্ষামন্ত্রী
প্রকাশ: রোববার, ২৯ মার্চ, ২০২৬, ২২:৩০
দেশের পাবলিক পরীক্ষাগুলোর দীর্ঘসূত্রতা নিরসনে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার সময়সূচিতে আমূল পরিবর্তনের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি জানিয়েছেন, প্রতি বছরের ডিসেম্বর মাসে এই পরীক্ষাগুলো অনুষ্ঠিত না হওয়ায় শিক্ষার্থীদের জীবন থেকে মূল্যবান সময় হারিয়ে যাচ্ছে, যা জাতীয় পর্যায়ের বড় ক্ষতি।
রোববার (২৯ মার্চ) রাজধানীর নায়েম (জাতীয় শিক্ষা ব্যবস্থাপনা একাডেমি) মিলনায়তনে এক প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো সাধারণত ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে পরীক্ষার্থীদের পাঠদান ও অভ্যন্তরীণ পরীক্ষা শেষ করে ফেলে। কিন্তু শিক্ষা বোর্ডগুলো পাবলিক পরীক্ষা গ্রহণে পরবর্তী বছরের এপ্রিল বা জুন মাস পর্যন্ত সময় নেয়। এই যে কয়েক মাসের ব্যবধান, এতে শিক্ষার্থীরা পিছিয়ে পড়ছে। এই সেশনজট ও সময়ের অপচয় রোধে দ্রুত কার্যকর সংস্কার প্রয়োজন বলে তিনি মন্তব্য করেন।
শিক্ষকদের ভূমিকার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে ড. এহছানুল হক মিলন তাদের ‘জাতির কাইরোপ্র্যাকটিক চিকিৎসক’ বা মেরুদণ্ড বিশেষজ্ঞের সঙ্গে তুলনা করেন। তিনি বলেন, শিক্ষা যদি জাতির মেরুদণ্ড হয়, তবে সেই মেরুদণ্ডকে সোজা রাখার মূল কারিগর হলেন শিক্ষকরাই। নানান সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে যোগ্য করে গড়ে তোলা তাঁদের নৈতিক দায়িত্ব।
অনুষ্ঠানে মন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন যে, একটি উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠন কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠী বা সরকারের একক লক্ষ্য নয়, বরং এটি একটি জাতীয় অঙ্গীকার। এই লক্ষ্য অর্জনে শিক্ষকদের অগ্রণী ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের নিজের সন্তানের মতো মমতায় গড়ে তুলতে হবে।
অতীতের ভুল ও সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে দেশ গড়ার কাজে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, দেশের সার্বিক উন্নয়নে শিক্ষকদের সম্মিলিত ও গঠনমূলক ভূমিকা অপরিহার্য।
নায়েমের মহাপরিচালক ড. ওয়াসীম মো. মেজবাহুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) পরিচালক (মাধ্যমিক) অধ্যাপক ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেলসহ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা নব-জাতীয়করণকৃত কলেজের শিক্ষকরা এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে অংশ নেন।
এই খবরটা পড়ে আমিন এটা বুঝলো, যে ছাত্রদের উপর খর্গ নেমে আসছে।
কঠিন না হয়ে ধীরে সুস্থে এই ডিসিশনগুলি নিলে ভালো হয়।
একজন জ্ঞানী লোক আমিনকে বলেছিল,
" যে কোন কাজে সময় নিয়ে করা ভালো একটি সন্তান হতেও দশ মাস দশ দিন সময় লাগে তাড়াহুড়া করলেও কিছু করার নেই।"
এরপরে তৃতীয় খবরটি হল,
এইচএসসি পরীক্ষা কবে শুরু, জানালেন শিক্ষামন্ত্রী
চলতি বছরের এইচএসসি (উচ্চ মাধ্যমিক) ও সমমানের পরীক্ষা আগামী ৭ জুন শুরু হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
সোমবার (৩০ মার্চ) রাতে গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানান তিনি।
এর আগে রোববার (২৯ মার্চ) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত বোর্ড চেয়ারম্যানদের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়। সভায় অংশ নেয়া একজন চেয়ারম্যান গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
তিনি বলেন, ‘শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে সবশেষ বৈঠকে তার দেয়া দিকনির্দেশনা ও সার্বিক দিক বিবেচনা করে আগামী ৭ জুন পরীক্ষা শুরুর তারিখ ঠিক করা হয়েছে। এ সিদ্ধান্তে শিক্ষামন্ত্রী অনুমোদন দিলে চূড়ান্ত সময়সূচি করা হবে। শিগগির এটি প্রকাশ করা হবে।’
এদিকে এ বছর থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় বড় একটি পরিবর্তন আসছে। দেশের ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এর আগে মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হলেও সাধারণ শিক্ষা বোর্ডগুলোতে তা চালু ছিল না।
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এবার ১১টি বোর্ড—সাধারণ, মাদরাসা ও কারিগরি—সবগুলোতেই অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। এতে প্রশ্নপত্রে সমতা নিশ্চিত হবে এবং মূল্যায়ন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বাড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
https://www.facebook.com/share/v/1TbYzSkXK6/
এভাবেই প্রতিদিন পরীক্ষা নিয়ে লেখাপড়া নিয়ে বিভিন্ন ফোরামে এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কথা হচ্ছে । এ থেকে আমিন স্পষ্ট বুঝতে পারছে শিক্ষা ব্যবস্থায় বর্তমান ছাত্রদের উপর নিয়মের
কঠিন খর্গ নেমে আসছে। যা সুখবর, তবে আমিনের মতে আগের সরকারের আমলে, না লিখে, খালি খাতা জমা দিলে
নাম্বার পাওয়া গিয়েছে।
ভুল উত্তর দিয়েও নাম্বার পাওয়া গিয়েছে।
এখন তারা বাহালত তবিয়তে চাকরি-বাকরি করছে, কিংবা উচ্চতর ডিগ্রি নিচ্ছি।
উচ্চতর ডিগ্রি এই শিক্ষার জন্য আটকে যায় নাই।
কারণ, এখন তাদের ভালোভাবে পড়তে হচ্ছে বর্তমানে যারা আছে, তারা এই শিক্ষার থেকেই এই পর্যায়ে এসে পৌঁছেছে।
সুতরাং ছাত্রদের
প্রতি কঠোর না হয়ে তারা যাতে ধীরে ধীরে ভালো দিকে যেতে পারে সেজন্য তাদের প্রতি একটি সুন্দর ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত। হঠাৎ কঠিন হলে বিশাল হারে ফেলের সংখ্যা বাড়বে, যা কোনমতেই কাম্য নয়।
বর্তমানে কি সেই আগের মত নকল হয়, বই দেখে দেখে, মোটেও না।
আমিন জ্যেষ্ঠ পুত্রকে জিজ্ঞেস করেছিলো ,
"তোমাকে কি ডানে বামে তাকাতে দেয়।
"
সে তখন এইচএসসি পরীক্ষা দিচ্ছিল। বিজ্ঞানের সে ভালো ছাত্র, সে আমিন কে বলল,
"ডানে বামে তাকানোর কোন সময়ই পাই না, নিজে যা পড়ি বা জানি তা লিখেই তো কুল পাই না। অন্যের দিকে তাকাবো কিভাবে?"
সুতরাং পড়ালেখা সেই আগের মত নেই, তাদের উপরে দুনিয়ার চাপ। আগে আমরা স্কুলে যেতাম শুধু পড়তে না, সাথে কিছু খেলাধুলাও থাকতো, গল্প গুজব আড্ডা তা তো ছিলই, কিন্তু বর্তমানে আমার ছেলের বিদ্যালয় দেখে
বুঝি, আড্ডা দেওয়ার কোন সুযোগই নেই,আর স্কুলে তো খেলার মাঠ থাকে না।
আর বর্তমানে কিছু প্রাইভেট স্কুল বের হয়েছে। খুব সুনাম এদের, অথচ স্কুল না বলে এগুলোকে কোচিং সেন্টার বললেই ভালো শোনা যেত।
কারণ, এরা একটা ৬ তলা বিল্ডিং ভাড়া নেয়।
তার রুমগুলিকে ক্লাস বানিয়ে ছেলেমেয়েদের শিক্ষা দেয়।
প্রচুর বেতন নেয়। ঘিঞ্জি পরিবেশ, একজনের সাথে একজনের শরীর প্রায় লেগে থাকে।
ছোট রুমের ভিতর অনেক ছাত্রছাত্রী বসায়। ইউনিভার্সিটি বুয়েটের স্টুডেন্টদের দিয়ে ক্লাস করিয়ে, তাদের কম টাকা দিয়ে, ছাত্র-ছাত্রীদের কাছ থেকে প্রচুর টাকা নেয়।
এভাবে তারা নতুন নতুন বিল্ডিং ভাড়া নিয়ে তাদের কার্যক্রম বৃদ্ধি করে।
কিন্তু ছাত্র-ছাত্রীদের মন মানসিকতা মেধা বৃদ্ধি পায় না।
যে কাজটা করে মানুষ মজা পায় না অনেক ক্ষেত্রেই তাকে সে কাজটা করতে হয়। কারণ, সে অপারগ, কোন দ্বিতীয় অপশন তার কাছে নেই, অনেকটা গোলামের মত। আমরা কি আমাদের স্টুডেন্টকে তাদের পর্যায়ে নিয়ে যাব তাদের পড়ালেখায় একটু তৃপ্তি থাকবে না? ঘাড়ে কি প্রচন্ড বোঝা চাপিয়ে তাকে কুজো করে দেব?
আর বর্তমানে
আগের স্টাইলে নকল এর কথা প্রায় শোনাই যায় না। কারণ এই ফেসবুক ইউটিউব এর জমানায় নকল করা আগের স্টাইলে, এত সহজ নয়। এখন একজন স্বামী তার স্ত্রীকে খোঁচা মারলেও সেটা ভাইরাল হয়ে যায়। তাই আগের মত নকল করা সম্ভব নয় এই সময়ে আমিনের কিছু অতীতের স্মরণ ঘটলো ।
প্রথম নকল
১৯ ৮৬ সালের ঘটনা এরশাদ সাহেবের আমল বন্ধু টিটলু বলল,
"দোস্ত নকল করে পরীক্ষা দেওয়ার একটা সুযোগ পেয়েছি ফরম ফিলাপও হয়ে গেছে।"
আমিন বলল,
"কোথায় কিভাবে?"
টিটলু বলল,
"
ভালুকা, ময়মনসিংহ, সোনারবাংলা ডিগ্রী কলেজে।"
তখন ডিগ্রী কলেজেই এইচএসসি পরীক্ষা হতো। আমিন
বলল,
"
ভালই, তো আমাকে কি করতে হবে?"
টিটলু বলল,
"
দোস্ত তোমাকে নকল সরবরাহ করতে হবে?"
আমিন বলল,
"
আচ্ছা ঠিক আছে দেখা যাবে। "
যথা সময়ে পরীক্ষার দিন আসলো। আমিন টিটলুর সাথে ভালুকা চলে গেল। রাস্তার সাথেই বিশাল মাঠ নিয়ে সোনার বাংলা ডিগ্রী কলেজ। তার পিছে টিটলু তার থাকার ব্যবস্থা করেছে। একটা বাসার মধ্যে একটা রুম ভাড়া নিয়েছে, মাটির ঘর, যদিও গরমের দিন সেখানে ল্যাপ তোশোক সহ একটা চৌকিও আছে। ভালুকা কাঁঠালের জন্য বিখ্যাত অল্প পয়সায় কাঁঠাল খাওয়া গেলো। আমিন ও টিটলু সেখানে অবস্থান শুরু করলো। পরের দিন পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করবে বলে। পড়াশুনা কিছুই করলো না।
তবে প্রত্যেকটা বিষয়ের উপরে সাজেশন, টেস্ট পেপার, উত্তর সহ অনেকগুলো বই। বইতেই রুমের এক কোনা ভরে গেল। আমিন মনে মনে ভাবল, পড়ালেখা নাই তবে এত বই কেন? যা হোক, এর
উত্তর পরের দিন সে পেল। সকালবেলা পরীক্ষা শুরুর আধাঘন্টা আগেই পরীক্ষার হলে টিটলু প্রবেশ করল।
আমিন সংশ্লিষ্ট পরীক্ষার বইগুলো সাথে নিয়ে মাঠে বসে পড়ল।
সে একা না, প্রত্যেক পরীক্ষার্থীর
সাথেই দুই পাঁচজন করে এসেছে।
প্রত্যেকের কাছেই বইয়ের বস্তা।
পরীক্ষার্থীর সাহায্যকারী হলেও এরাই মূল কর্মকর্তা। কিছু সময়ের মধ্যে এদের এক জনের সাথে আরেক জনের এমন ঘনিষ্টতা হলো যেন এরা একজনের সাথে অন্যজনের যুগ যুগান্তরের ঘনিষ্ট আত্মীয়তা। পরীক্ষা শুরু হল, বই কেটে কেটে যে
প্রশ্ন গুলি আসছিল তার উত্তর রেডি করে ভিতরে পাঠানো হচ্ছিল।
তারা লিখে শেষ করার আগেই প্রশ্নের উত্তর ভিতরে চলে যেত।
একজনের থেকে আরেকজন পরীক্ষার্থী আদান প্রদান করার কারণে কোন শর্টেজ হতো না প্রশ্ন উত্তরের ।
নকল করে দেখে দেখে লিখে সময় মত পরীক্ষার খাতা পূর্ণ করা খুবই কঠিন কাজ। তারা সর্বোচ্চ ৬০ থেকে ৬৫% লিখতে পারল। এরপরে কি করবে? কোন চিন্তা নেই, ঢাকা থেকে আসা বিশেষ বিশেষ পরীক্ষার্থীদের লাইব্রেরীতে নিয়ে গিয়ে বসানো হলো, সেখানে তারা বাকি লেখাটুকু শেষ করল।
আমিন ভাবল, টিটলু এবার বাম্পার মারবে, স্ট্যান্ড না করলেও স্টার মার্ক তো অবশ্যই পাবে। সেই সময় জিপিএ ফাইভ, গোল্ডেন ফাইভ ইত্যাদি ছিল না। তখন স্ট্যান্ড ১ নম্বর, তারপরে ষ্টার মার্ক, তারপরে ফাস্ট ডিভিশন, তারপরে সেকেন্ড ডিভিশন, তারপরে থার্ড ডিভিশন, সর্বশেষে ফেল।
যা হোক আমিনকে হতাশ করে দিয়ে টিটলু কোনমতে থার্ড ডিভিশন পেল। আমিন এর মনে হল, সে যদি একটু ঠিকমত পড়ালেখা করত তাহলে এমনিতেই সে সেকেন্ড ডিভিশন পেতো। ওখানে অবস্থান করার সময় খবর পেল, পাশের এক কেন্দ্রে, কোন এক ভালো শিক্ষক- পাস করার এই সুন্দর ব্যবস্থাপনার বিরোধিতা করায় এক সংঘর্ষ বাঁধে, একজন ছাত্র সংঘর্ষে নিহত হয়েছে। ছাত্রের কথা ছিল,
"
এরশাদ সাহেব জোর করে অবৈধভাবে ক্ষমতায় থাকতে পারলে তারা কেন পড়ালেখা না করে একটা সার্টিফিকেট নিতে পারবে না?"
খুবই সুন্দর আবদার ও যুক্তি!
অবৈধ কাজের জন্য পুলিশ বাহিনীর সাথে লড়াই করে, সে তার নিজের জীবনটাই দিয়ে দিল। আমিন জীবনে কখনো নকল করে পাশ করে নাই, তাই এই ঘটনা, তার খুব খারাপ লাগলো। টিটলু কে বলে সে ঢাকায় ফেরত আসলো। এতে টিটলুর কোন অসুবিধা হয় নাই, কারণ কয়েকদিনের মধ্যেই সে পরীক্ষার্থীদের আত্মীয়-স্বজন বন্ধু-বান্ধব সবার সাথে খাতির জমিয়ে ফেলেছে। সুতরাং এখন তার সহায়তা কারী না থাকলেও চলবে।
দ্বিতীয় নকল
এই নকল আমিনের প্রায় নিজেরটাই ছিল। ১৯৮৮ সালে আমিন বিএ পরীক্ষা দিচ্ছিল হাবিবুল্লাহ বাহার কলেজ থেকে।
পড়ালেখা খুব ভালো অবস্থানে ছিল না, দেশে হরতাল অবরোধ লেগেই থাকতো।
এরশাদ সাহেবের অবৈধ শাসনকে বিরোধীদলগুলো এবং জনগণ পছন্দ করে নাই।
তাই ঝামেলা লেগেই থাকতো।
দেশের এই দূর্বিপাকের সময় আমিনের বিএ পরীক্ষা এল। এই সময় তার বন্ধু আরিফুল এল। বললো ,
"
দোস্ত আমি তোর সাথেই পরীক্ষা দিব।
আমিন বলল,
"
তুই তো অন্য কলেজে পড়স, আমার সাথে কিভাবে দিবি?"
বললো,
"তুই জি,এস
মঞ্জুকে বল, আমার ফরম ফিলাপের ব্যবস্থা করে দিতে।
"
যাহোক বলতে হলো না।
কেরানি সব ব্যবস্থা করে দিল।
আমরা যথাসময়ে পরীক্ষা দিতে চলে গেলাম।
সিট পড়লো সিটি কলেজে। একটু কড়া করি করা কলেজ।
আমাদের নকল করার কোন অভিলাশ ছিল না, তাই করাকরিতে
কিছুই আসে যায় না। যথা নিয়মে যথাসময়ে পরীক্ষা দিলাম।
বাংলা পরীক্ষা খুবই ভালো হলো।
বন্ধু আরিফুলেরও ভালো হলো।
আরিফুল ইসলাম আমার চাইতে বেশি পড়েছে।
তাই ও আমার চাইতে আরো বেশি ভালো করবে এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু গোল বাঁধলো পরীক্ষার বিষয় বস্তু আরিফুলের ইসলামের ইতিহাস নেই, সে সমাজ কল্যাণ নিয়েছে কিন্তু হাবিবুল্লাহ বাহার কলেজে সমাজ কল্যাণ নেই, ইসলামের ইতিহাস দিয়ে তাকে পরীক্ষা দিতে হবে।
যখন সে এডমিট কার্ড আনতে গিয়েছিল তখন থেকেই পরীক্ষা না দেওয়ার পক্ষে।
আমিন তাকে অনুরোধ করে বলল,
"
দোস্ত ফর্ম ফিলাপ করে টাকা পয়সা সব জমা করে ফাইনালে এসে পরীক্ষা না দিয়ে লাভটা কি যা হবে?রেজাল্ট যা হয় হবে, পরীক্ষাটা দিয়ে দে।
"
তাই সে পরীক্ষা টা দেওয়া শুরু করলো। হয়তো সমাজ কল্যাণের কারণে পরীক্ষাটা তার কাছে গুরুত্বহীন হয়ে পড়েছিল। তাই, সে ইংরেজি পরীক্ষার সময়ে প্রবেশপত্র হারিয়ে ফেলল। বলল,
"
দোস্ত প্রবেশপত্র তো হারিয়ে ফেলেছি?"
আমিন বলল,
"
চল প্রিন্সিপালের কাছে যাই, উনি একটা ব্যবস্থা করবেন।
"
দুজনে মিলে প্রিন্সিপালের রুমে ঢুকল। বললো,
"
স্যার প্রবেশপত্র হারিয়ে ফেলেছি। পরীক্ষা দেওয়ার ব্যবস্থা করেন।
"
উনি বললেন,
"
আপনি কে?"
আমিন বলল,
"
আমি ওর বন্ধু, পরীক্ষার্থী আমিও।
"
উনি কঠোর দৃষ্টিতে আমিনের দিকে তাকিয়ে বলল,
"
প্রবেশপত্র হারিয়েছে কার?
আমিন বলল,
"
আমার বন্ধুর। "
স্যার বলল,
"
সে কি শিশু? আপনি এসেছেন কেন? সে আমার সামনে দাঁড়াক, আপনি আপনার কাজে যান।
"
যাহোক, আমি আরিফুলকে ভিতরে রেখে বাইরে দাঁড়াল
আমিন ।
প্রিন্সিপাল তাকে পরীক্ষা দেয়ার ব্যবস্থা করে দিল, এবং বলল,
"
যদি আগামী পরীক্ষায় প্রবেশপত্র না পান, তবে দরখাস্ত নিয়ে আসতে হবে?"
আরিফুল বাইরে এসে বলল,
"দোস্ত আগামী পরীক্ষায় দরখাস্ত নিয়ে আসতে হবে?"
আমিন বলল,
"
অসুবিধা কি সামান্য একটা দরখাস্তই তো, তুই না লিখলেও আমি লিখে দেবো ।"
ভালো পরীক্ষা দিয়েও সামান্য একটা দরখাস্তের কারণে আরিফুল আর পরীক্ষা দিল না। অথচ হরতাল অবরোধের কারণে একেকটা পরীক্ষায় দশ দিন করে সময় পাওয়া গেলো। আমিনেরও পাশ করার মতো অবস্থান ছিল না। তাই সে একবার ভেবেছিল পরীক্ষা দেবে না। পরে চিন্তা করল, শুধুমাত্র হলে বসে পরীক্ষাটা দিয়ে সময়টা পার করে ফেল করলেও কি আসে যায়? মনে মনে হেসে চিন্তা করলো,
অংশগ্রহনই বড় কথা।
পরীক্ষা শেষে রেজাল্ট দিল, আমিন তার খোঁজখবরও নিল না। কারণ সে শিওর ছিল, সে ফেল করেছে এবং আরিফুল এর সাথে ঢাকার বাইরে একটা জায়গায় নকল করে পাশ করার প্রস্তুতি নিচ্ছিল।
ঢাকা ইউনিভার্সিটিতে তখন প্রায়ই আড্ডা হতো। টি,এস,সির ব্যাংকের কর্মকর্তা জাকিরুল ভাই
আমিনদের বন্ধু উনি হেসে খবর দিলেন,
"আপনাদের জন্য সুসংবাদ আছে। গাজীপুরে এক কলেজে নকল হবে। ঢাকা থেকে প্রচুর মান্যগণ্য লোক যাবে, সেখানে পরীক্ষা দিতে। আপনাদের কেও দেয়ার ব্যবস্থা করে দিব।
"
আরিফুল বলল,
"
দোস্ত রেডি হয়ে যাও ।"
আমিন বললো,
"
ঠিক আছে।"
দুইদিন পরে, আরিফুল কে নিয়ে আমিন হাবিবুল্লাহ বাহার কলেজে চলে গেল। এন,ও,সি আনার জন্য।
অন্য কলেজে পরীক্ষা দিতে হলে বর্তমান কলেজের এন,ও,সি লাগবে।
কেরানি রহিমুল ভাই বলল,
"এন, ও, সি নিবেন ভালো কথা। কিন্তু আগের পরীক্ষার রেজাল্ট কি এটা তো একটু দেখে নিবেন ।এতদিন পরে এসেছেন খাতাটা বের করতে একটু সময় লাগবে বসেন।"
আমিনরা বসলো।
একটু পরে রহিমুল ভাই প্রত্যেক পরীক্ষাতে নাম্বার যেটা লেখা আছে সেই খাতাটা নিয়ে হাজির হলো। আরিফুলের নাম্বার দেখে আফসোস হলো, প্রত্যেকটা বিষয়ে ভালো মার্কস। আমিন নিশ্চিত ছিল সে ফেল করেছে। সুতরাং, দেখতে রাজি হলো না। রহিমুল ভাই বলল,
"
আরে মিয়া, দেখেনই না।
"
আমিন দেখল, দেখে চক্ষু চরক গাছ হলো। পাশ করেছে।
তৃতীয় শ্রেণি, সুতরাং আর কষ্ট করে কি জন্য পরীক্ষা দিবে।
রহিমুল ভাই বলল,
"
আগে মিষ্টি নিয়ে আসেন, তারপরে অন্য কথা।
"
অপজিটে জলখাবার মিষ্টির দোকান ছিল, সেখান থেকে আধা কেজি মিষ্টি নিয়ে আসলো। রহিমুল ভাই, ইতিমধ্যে আমিনের মার্কশিট সহ যা যা দেওয়ার সব রেডি করে, খামের ভিতর ভরে দিয়ে রেখেছিল। আমিন আসামাত্র সবাই মিলে মিষ্টি খাওয়া শুরু করল। আর খামটা তার হাতে দিল। আরিফুলের মনটা খুব খারাপ। দোসর হাতছাড়া হয়ে গিয়েছে। আমিন বলল,
"
দোস্ত চিন্তা করিস না, তোর প্রত্যেক পরীক্ষায় আমি থাকবো, কোন চিন্তা করিস না আমি সর্বপ্রকার সহায়তা করব।
"
আরিফুল বললো,
"
আচ্ছা ।"
আমিন বাসায় ১ কেজি মিষ্টি নিয়ে হাজির হলো। মা কে জানালো। মা সবাইকে জানালো। বাবা জানলো। বাসায় হাসি আনন্দের বন্যা বয়ে গেলো। বিরানি সহ ভালো খাবারের ব্যবস্থা হলো, কিন্তু আমিনের মন খারাপ, আরেকটু চেষ্টা করলেতো সে তাদের মনে বিনা পয়সায় আরো আনন্দের ব্যবস্থা করতে পারতো। সেদিন এই ঘটনা সামান্য মনে হলেও আজ আমিন ভাবে হেলায় কিভাবে সময় গুলো নষ্ট হয়েছে। পিতামাতা তো বেশি কিছু চায়নি, তবে কেন সন্তান তাদেরকে বিমুখ করলো? আরেকটু চেষ্টা করলে তো তাদের বীনে পয়সায় আরো মহা আনন্দ দিতে পারতো।
যথাসময়ে সেই পরীক্ষার ডেট আসলো গাজীপুর আজিম উদ্দিন কলেজে পরীক্ষা। পরীক্ষার্থীদের দেখে আমিনের চক্ষু চড়ক গাছ এখানে দেখি টি,এস,সির ব্যাংক ম্যানেজারও আছে, কারণ কি? খবর নিয়ে জানা গেল, উনি ইন্টারমিডিয়েট পাশ, এ জি এম হতে পারছে না, গ্রাজুয়েশন এর জন্য, তাই বিএ
পরীক্ষা দিতে এসেছে।
তার ছেলে মেয়েও সাথে আছে।
ভালই তো উনি আমিনের বন্ধু আরিফুলের সাথে ঘেঁষে বসা আসনে। আমিন ভাবল, আরিফুলের কপাল ভালো। সে উপর মহলের সব সুবিধা পাবে। কিন্তু এই পাশে বসা যে তার কাল হবে এটা সে ধারণাও করতে পারে নাই।
পরীক্ষা শুরু হল আমিনরা বাইরে থেকে উত্তরগুলো বই কেটে পাঠাতে লাগলো।
শীতের দিন ছিল,আরিফুল কোর্ট পড়া ছিল।
আরিফুল কোর্টের ভিতরেও অনেক উত্তর আগেই নিয়ে যেতো।
সুতরাং বাইরের সহায়তা তেমন প্রয়োজন পড়েনি।
আরিফুল লেখা শেষ হলে সেটা ম্যানেজার সাহেব কে দিত, ম্যানেজার সাহেব তার পকেটে কোন কাগজ রাখেনি।
আমিন প্রায় সময় ঢাকার বাসায় চলে আসতো, কারণ তখন গাজীপুর থেকে ঢাকায় আসা, অল্প সময়েই হয়ে যেত।
সকাল বেলা আমিন, শেষ পরীক্ষার দিনে, পেপার পড়ে বের হওয়ার চিন্তা করছিল, যেই চিন্তা সেই কাজ বাসায় ভোরে দিয়ে যাওয়া দৈনিক ইত্তেফাক পড়তে লাগলো।
হঠাৎ ভিতরের এক কোনায় ছোট্ট করে একটা খবর দেখল,
ময়মনসিংহের এক কলেজে,ঢাকা উনিভার্সিটির এক
রেজিস্টারার গ্রুপ, ঢাকা ইউনিভার্সিটি থেকে
যেয়ে পরীক্ষা কেন্দ্রে
রেড দিয়েছে। আমিনের মনটা খারাপ হয়ে গেল, এখানে এরকম কিছু হবে না তো?
গাজীপুর রাজবাড়ীর মাঠে ঢুকতেই আমিনের ভয়টা সত্যে পরিণত হলো। আগুনের মত পরীক্ষা দেওয়া বন্ধুদের রুমে ঢাকা ইউনিভার্সিটি থেকে রেজিস্টার এর নেতৃত্বে একদল এসেছে। আমিনরা বাইরে থেকে কিছুই আর পাঠাতে পারলো না আজকে। বাইরে বসে বসে চিন্তা করতে লাগলো, কি হয়? কি হয়? এই অবস্থায় পরীক্ষা শেষে আরিফুল বের হয়ে আসলো। বলল,
"দোস্ত এত কষ্ট করলাম, সব নষ্ট হয়ে গেল।
"
আমিন বলল,
"
কি রকম?"
বলল,
"
রেজিস্টারার গ্রুপ এসে আমার ভিতরের পকেট থেকে নকল গুলি নিয়ে কিছুই বলল না, চলে গেল। কিন্তু কিছু তো একটা করবে, সেটাই ভাবছি।
"
আরিফুল আরো বললো,
"১ম পত্র যেভাবে পরীক্ষা দিয়েছি তাতে এই পরীক্ষা না দিলেও পারতাম।
"
মার্কশীট দেখা হয়েছিল পরে, আরিফুল ১ম পত্রে ৬৭ মার্কস পেয়েছিলো।
জাকিরুল ভাই রাজনৈতিক দল করে তাকে জানালাম। বলল,
"
তাড়াতাড়ি ইউনিভার্সিটিতে চলে আসুন।
"
আমরা চলে গেলাম সেখানে, উনি বলল,
"
আগে খাওয়া-দাওয়া করেন। চা নাস্তা খান। আটটার পরে ক্লাবের ভিতরে উনাকে ধরবো। আশা করি সহানুভূতি আদায় করে নিতে পারব।
"
মন খুশি হয়ে গেল, আশ্বস্ত হলাম।
আটটার পরে ঢাকা ইউনিভার্সিটি ক্লাবে গিয়ে উনার কাছে গেলাম, ক্রন্দন প্রায়
অবস্থায় স্যারকে বললাম,
"
স্যার চাকরি করব না, কিন্তু গ্রাজুয়েশনটা থাকলে সমাজে একটু সম্মানের সাথে বাঁচবো, অনুগ্রহ করে বাঁচতে দিন।
"
উনি বললেন,
"
আচ্ছা দেখি চিন্তা করো না।
"
আমিনরা খুশি মনে বাড়ি ফিরে গেল ।
এরপরেও, শেষ রেজাল্ট হল, আরিফুল এক বছরের জন্য নিষিদ্ধ হয়েছে। এই ঘটনা নিয়ে ইনভারসিটিতে রেজাল্ট দেওয়ার আগে একটা মিটিং হয়েছে। মিটিংয়ে রেজিস্টারার কঠিন কন্ঠে বলেছে,
"
একজন ম্যানেজার এ,জি,এম
হওয়ার জন্য তার
সন্তান-সন্ততি নিয়ে ডিগ্রি পরক্ষা দেবে নকল করে এই অবস্থা কি মেনে নেওয়া যায়? সে প্রোমোশনের জন্য উচ্চ ডিগ্রি নিবে, ভালো কথা, কেন একটু পড়াশোনা করে নিতে পারবে না?"
তাকে নকল না পাওয়া সত্বেও
সারা জীবনের জন্য নিষিদ্ধ করল।
তার সন্তানদের কিছুই বলল না। আরো অনেক মহারথী কে নকল না পাওয়া সত্বেও
নিষিদ্ধ করল ৫-১০ বছরের জন্য । যদিও আমিনের বন্ধু ক্ষতিগ্রস্ত হল, তারপরও আমিন খুশি হল, কারণ তার বন্ধুর প্রচুর ব্যবসা-বাণিজ্য আছে ।চাকরি-বাকরি করার কোন প্রয়োজনই তার নেই।
এখন এই বয়সেও সে হজ করে সম্মানী ব্যক্তি।
ওই বিএ র সার্টিফিকেট তার কোন কাজেই আসতো না। ম্যানেজারের কি অবস্থা জানিনা, তার সন্তানরা কি অবস্থায় আছে তাও জানিনা, তবে যারা নকল করেছে, পাস করে বিভিন্ন কাজে ঢুকেছে, তারা দেশের সর্বনাশই ঘটিয়েছে, কারণ মন্দ থেকে ভালো উৎপাদন হতে পারে না, ভালো থেকেই ভালো আসে, মন্দ থেকে না।
নতুন নতুন নিয়ম একজন মেধাবী ছাত্রের কাছে কোনো ব্যাপার ই না। কারণ সে বিদ্যাকে আত্মস্থ করেছে।যেমন আমিনদের স্কুলের আগের এস,এস,সি ব্যাচের স্ট্যান্ড করা এক ছাত্রের পাশে এক সাধারণ মানের ছাত্র বসেছিল। সাধারণত, ভালো ছাত্রের পাশে বসলে কিছু সহযোগিতা পাওয়া যায়। সবাই রেজাল্টের পর বললো,
"কিরে তোর তো আরো ভালো করার কথা? তুই সাধারণ রেজাল্ট কেন করলি?"
সে বলেছিলো,
"দোস্তরা, আমি ১ম দিন তার টা দেখে লেখার চেষ্টা করেছিলাম। সে বাধা দেয় নাই, আমি খুশি মনে লিখেছিলাম। কিন্তু পারি নাই।
"
সবাই বললো,
"কেন?"
সে বললো,
"আমি দুই লাইন লেখার আগেই সে পুরো পাতা লিখে পাতা উল্টিয়ে ফেলে। আমি ঠিক করলাম,এর পিছনে না ছুটা ছুটি করে
নিজেই চেষ্টা করি। তাই আমার ভালো রেজাল্ট এসেছে। ১ম পরীক্ষা আমার ভালো হয় নাই।
"
ওর ভালো, সেকেন্ড ডিভিশন, আর মেধাবীর ভালো, স্ট্যান্ড। সুতরাং একটু তাড়াহুড়া এবং কড়াকড়িতে মেধাবীর কিছু যায় আসে না, ২য় পক্ষের অনেক কিছুই আসে যায়, কারণ সমাজে তার সংখ্যাই বেশি।
সেই পন্ডিতমশাইয়ের গল্পের কথা আবারো উল্লেখ করা হলো, পরিদর্শক পরীক্ষা কেন্দ্রে গিয়েছেন, কোন শিক্ষক কেন্দ্র পাহারা দিচ্ছেন না। পরীক্ষার্থীদের প্রতি নজর দেওয়ার মতো কেউ নেই। সে, একান্তে লক্ষ করল যে পরীক্ষার্থীরা নিজেদের মতো করে পরীক্ষা দিচ্ছে। কেউ কারো দিকে তাকাচ্ছে না। তারা সকলেই নিজেদের পরীক্ষা নিয়ে ব্যস্ত। কারো দিকে তাকানোর ফুরসৎ তাদের নেই। কোন লোক নেই। তাও সেখানে কোন নকল হচ্ছে না। কারণ, পন্ডিত মশাই তাদের মানসিকতায় যে শিক্ষা দিয়েছেন তা দিয়েই তারা সততার সাথে পরীক্ষা দিচ্ছে।
অর্থাৎ এখানে নকল মুক্ত শিক্ষা পরিবেশ তৈরী করতে পারে শিক্ষক আর তাকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করতে পারে ছাত্র। অভিবাবকের একটা বিশাল ভূমিকা আছে। কারণ, ছাত্র ৫ থেকে ৬ ঘন্টা বিদ্যালয়ে থাকে বাকি সময় সে থাকে বিদ্যালয়ের বাইরে, সে সময়টা দেখার দায়িত্ব তার গার্জিয়ানের। সে পড়ে, না আড্ডা দেয়,না কোনো কোনো কুসংসসর্গে জড়িয়ে পড়ছে ইত্যাদি দেখার দায়িত্ব অভিবাবকের। সমাজেরও এখানে বিশাল ভূমিকা আছে পুলিশ ছাত্রকে জিজ্ঞেস করবে, “ কি করো ?” এটা সমাজ ছাত্রকে জিজ্ঞেস করলে আরো ভালো, তবে আজকালএটা মানুষ ইগোতে নেয়, খাওয়াই আমি পড়াই আমি ও বলার কে? কিন্তু এতে যে সন্তানের ভবিষ্যত নষ্ট হচ্ছে এটা সে দেখে না।
তাই সময় নিয়ে, সুগভীর চিন্তা ভাবনা নিয়ে, এখানে এগোতে হবে, কারণ ,শিক্ষা শুধু ব্যক্তির বা পরিবারের
একার ভবিষ্যত নয় এটা ,
জাতির ভবিষ্যত।
এই লেখার
মাঝেই ৪র্থ
খবর এলো
বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সারা দেশের মহানগর এলাকার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অনলাইন ও সশরীরে ক্লাস চালুর বিষয়ে আলোচনা করেছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। এসময় উপস্থিত ছিলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।
বুধবার প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক ও শিক্ষক নেতাদের সঙ্গে আলোচনা সভায় শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী অনলাইন ক্লাসের পরিকল্পনার কথা জানান। তবে অনলাইনে ক্লাস করতে আগ্রহী নয় প্রাথমিক স্তরের শিক্ষকরা।
তারা মনে করেন, বিদ্যুৎ সাশ্রয় এবং শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা নিশ্চিত করতে অনলাইনের চেয়ে অফলাইন শিক্ষাব্যবস্থা বেশি উপযোগী। অনলাইন ব্যবহারের কুফল বর্তমানে বেশি দৃশ্যমান। কারণ এতে শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা থেকে দূরে সরে যায় এবং ইন্টারনেটের প্রতি আসক্তি বাড়ে। এছাড়া অনলাইনে কার্যকরভাবে পড়ানোর জন্য অনেক ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত অভিজ্ঞতাও নেই। এ সময় শিক্ষকরা প্রাথমিকে অনলাইন ক্লাস নেওয়া কষ্টসাধ্য বলে মন্ত্রীকে অবহিত করেন।
আলোচনা সভা সূত্রে জানা গেছে, শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী প্রাথমিকভাবে ছয় দিন ক্লাস রেখে এর মধ্যে জোড়-বিজোড় মিলিয়ে তিন দিন অনলাইন এবং তিন দিন সশরীর পাঠদানের পরিকল্পনার কথা জানান। অর্থাৎ শনিবার যদি অনলাইন ক্লাস হয়, তাহলে রোববার অফলাইন ক্লাস হবে। এভাবে একদিন অনলাইন ক্লাস হলে তার পরদিন সশরীর ক্লাসের পরিকল্পনা করা হয়েছে। এখন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে পরামর্শ করে বা মন্ত্রিসভার বৈঠকে আলোচনা করে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে।
মন্ত্রীর এমন পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনার পর শিক্ষকরা অনলাইন ক্লাসের নানা সীমাবদ্ধতার কথা উল্লেখ করেন। তারা জানান, প্রাথমিকের শিক্ষার্থীরা ডিভাইস ব্যবহার করতে জানে না। অনেক পরিবারের পক্ষে শিশু শিক্ষার্থীদের অনলাইন ক্লাসে যুক্ত করা সম্ভব হবে না। এ সময় শিক্ষকদের অনেকে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রীর কাছে অনলাইন ক্লাসের ডিভাইসের ব্যবস্থা করার দাবি জানান।
আলোচনায় প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবু নূর মো. শামসুজ্জামান বলেন, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়েগুলো শিক্ষার্থীদের বাসা থেকে যাতায়াতের দূরত্ব খুব নয়। বেশিরভাগ শিক্ষার্থী পায়ে হেটে স্কুলে যায়। তাই অনলাইনে পাঠদান ব্যবস্থা রাখলে খুব বেশি সুফল আসবে না । বরং অফলাইনে পাঠদান চালু রাখলে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি বেশি সাশ্রয় হবে বলে মনে করেন তিনি।
সভায় উপস্থিত বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রধানরা বলেন, অফলাইন ক্লাস চালু থাকলে বিদ্যুৎ সাশ্রয় হয় এবং শিক্ষার্থীরা নিয়মিত পড়াশোনার মধ্যে থাকে। তাই অনলাইন ক্লাস চালু না করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে এবং সরাসরি (অফলাইন) ক্লাস চালুর ওপর গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
এছাড়া বিদ্যুৎ অপচয় রোধে বাসা-বাড়িতে ডিভাইস, ফ্যান ও এসির ব্যবহার কমাতে হবে। বিশেষ করে এসি ব্যবহারে সংযম আনার জন্য অভিভাবকদের সচেতন করতে হবে। একইসঙ্গে শিক্ষার্থীদের মধ্যেও বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের বিষয়ে সচেতনতা তৈরি করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতেও অপচয় কমানো সম্ভব হয়।
আলোচনায় আরও উঠে আসে, যাতায়াতের ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের জন্য স্কুল বাস চালুর ব্যবস্থা করা যেতে পারে। এতে ব্যক্তিগত গাড়ির ব্যবহার কমবে এবং জ্বালানি সাশ্রয় হবে।এছাড়া সকালে স্কুল চালু (মর্নিং স্কুল) করা যেতে পারে, যাতে দিনে কম বিদ্যুৎ ব্যবহার হয়। প্রয়োজনে স্কুলের ছুটি বাড়ানো এবং ছুটির দিনেও সীমিত আকারে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা রাখার বিষয় বিবেচনা করা যেতে পারে।
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি সাশ্রয়ের অংশ হিসেবে দেশের মহানগরী এলাকার প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সশরীরে পাঠদানের পাশাপাশি অনলাইনেও ক্লাস নেওয়ার বিষয়ে ভাবছে সরকার।
কোভিড মহামারীর অভিজ্ঞতা সামনে রেখে সরকারের এ পদক্ষেপে শিক্ষার্থীরা কতটা লাভবান হবে, আর জ্বালানি সাশ্রয়ই বা কতটা হবে তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠেছে।
সরকারের দিক থেকে যখন অনলাইন ও সশরীরের পাঠদানের সুবিধার কথা বলা হচ্ছে, তখন শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় ডিভাইস পাওয়া কতটা সহজসাধ্য হবে আর শিক্ষকরাই বা কতটা প্রস্তুতি নিতে পারবেন, তাও আলোচনায় এসেছে।
শিক্ষার্থীদের সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার পাশাপাশি শিক্ষকদের দিক থেকে ডিভাইসের অপব্যবহারের সম্ভাবনার কথাও এসেছে।
শিক্ষাবিদ ও বিশেষজ্ঞদের মতে, ‘অনলাইন ও সশরীরে’ দুই পদ্ধতিতে পাঠদানের এই উদ্যোগ আদর্শ সমাধান নয়। তারা বিকল্প উপায়ে জ্বালানি সাশ্রয়ের বিষয়টি ভাবতে বলছেন।
যেভাবে এল মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত
মঙ্গলবার সকালে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলনের বৈঠকের পর অনলাইন ও সশরীরে পাঠদানের বিষয়টি আলোচনায় আসে।
সে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেছিলেন, বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট বিবেচনায় স্কুল পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের ‘অনলাইন ও সশরীরে’ দুই পদ্ধতিতেই ক্লাস নেওয়ার ভাবছেন তারা।
অনলাইনে ক্লাস চালুর ভাবনার ব্যাখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, “এটা যেহেতু বৈশ্বিক সমস্যা, শুধুমাত্র বাংলাদেশের নয়। এবং আমরা জানি না এই সংকট কতদিন চলবে।
“সেই কারণে আমরা ভাবছি যে অনলাইন-অফলাইন দুই সিস্টেমে আমাদের ক্লাস নেওয়ার সিস্টেম প্রবর্তন করা যায় কী না। মনে করেন সপ্তাহে পাঁচ দিন ক্লাস ছিল। এখন আমরা এসব ক্লাস লস করেছি রোজার ছুটিতে এবং বিভিন্ন রকম আন্দোলন-টান্দোলন সব মিলিয়ে। এখন আমরা স্কুল আওয়ারটাকে সিক্স ডেইজে উইক করছি। এর মধ্যে জ্বালানি সংকট কারণে আমরা অনলাইন এবং অফলাইন দুটো পদ্ধতি নিয়েই ভাবছি।”
দুই পদ্ধতিতে ক্লাস নেওয়ার বিষয়ে একটি জরিপের কথা তুলে ধরে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, “ইতোমধ্যে আমরা একটা জরিপ করেছি। সেই সার্ভেতে ৮৫ শতাংশ মানুষ চাচ্ছে, তারা যেন অনলাইনে যায়। কিন্তু পুরোপুরি অনলাইনে যদি যাওয়া হয়, আমরা আবার আনসোশাল হয়ে যাব। এটা নিয়ে আমরা ভাবছি।”
সেদিন বিকালে মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সভাকক্ষে ঢাকা মহানগরীর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রধান, শিক্ষা বোর্ড ও মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের মতবিনিময় সভায় এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
পরে বৈঠকে সপ্তাহে তিন দিন অনলাইন এবং তিন দিন অফলাইনে (সশরীরে) ক্লাস পরিচালনার বিষয়ে ‘প্রাথমিক সিদ্ধান্ত’ হওয়ার কথা বলেন সংশ্লিষ্টরা।
আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি এবং ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক খন্দোকার এহসানুল কবির বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “সভায় অনলাইন-অফলাইনে ক্লাস চালানোর বিষয়ে আলোচনা হয়েছে কিন্তু এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হলে তা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানিয়ে দেওয়া হবে।”
বুধবার প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় প্রাথমিকের শিক্ষকদের নিয়ে সভা করে। শিক্ষামন্ত্রীর উপস্থিতিতে সে সভায়ও মিশ্র পদ্ধতিতে পাঠদানের সিদ্ধান্ত হয়।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে পাঁচদিন ক্লাস চললেও তা বাড়িয়ে ছয় দিন করে তিন দিন অনলাইনেও তিন দিন সশরীরে ক্লাস নেওয়ার সিদ্ধান্ত বৃহস্পতিবার মন্ত্রিপরিষদ সভায় উঠবে।
সেখানে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী এহছানুল হক মিলন।
কী বলছেন অভিভাবকরা?
অনলাইন পাঠদানের খবর আসার পর দুশ্চিন্তায় পড়েছেন রাজধানীর ভাটারা এলাকার শিক্ষার্থী শাহদাৎ হোসেন ফাহাদের বাবা মো. মোহন।
ফাহাদ খিলবাড়ীরটেক ইসলামিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী। তার বাবা ভাটারা এলাকার একটি বাড়িতে নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে কর্মরত।
মোহন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলছিলেন, “বাসায়তো ডিভাইস নেই। অনলাইন ক্লাস করতে বললে একটু অসুবিধায় পড়তে হবে।
“এ মুহুর্তে যে নতুন একটা স্মার্ট ফোন কিনবো, সে পরিস্থিতিও নেই।”
ফাহাদের মতো নিম্নবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারের শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের কারো কারো কপালে পড়েছে।
একজন সংবাদকর্মী বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, তার দুই সন্তানেই পড়ে। দুজনকে ডিভাইস দেওয়ার সক্ষমতা নেই তার।
বেসরকারি একটি প্রতিষ্ঠানের একজন কর্মী বলেন, তার প্রাথমিকে পড়া মেয়ে অনলাইনে পড়ালেখার বিষয়টি বোঝেই না।
তিনি বলেন, একটা ক্লাসে ৩০টি বাচ্চা থাকলেও দুই-তিনটা পাখায় হয়ে যায়। আর শিক্ষার্থীরা বাসায় থেকে অনলাইনে পড়ালেখা করলে প্রত্যকের ঘরে পাখা চলবে, ডিভাইস চালাতেও বিদ্যুৎ খরচ হবে। শুল্ক মওসুমে বিদ্যুতের ওপর বাড়তি চাপের বিষয়টিও মাথায় রাখতে হবে।
আবার অনেকেরই অনলাইনে ক্লাস করার সক্ষমতা আছে।
রাজধানীর উত্তরা হাইস্কুলের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী রাইসা ও দশম শ্রেণির ছাত্র রাফি। তাদের বাবা চা দোকানি শান্ত আহমেদ রতন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “বাসায় ওদের মায়ের স্মার্ট ফোন আছে। সেখানে তারা অনলাইনে ক্লাস করতে পারবে। বাসায় একটা চাইনিজ স্মার্ট টিভিও আছে। সেখানেও একজন অনলাইনে ক্লাস করতে পরবে।”
অনলাইন ক্লাসের বিরোধিতায় শিক্ষকরা
শিক্ষকদের কেউ কেউও অনলাইন ক্লাস নেওয়ার বিরোধিতা করছেন। বুধবার প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত সভায় প্রাথমিকের শিক্ষকরা মন্ত্রী উপস্থিতিতেই এই উদ্যোগের বিরোধিতা করেন।
এ সভায় উপস্থিত ছিলেন শিক্ষক নেতা ও ঢাকার কেরাণীগঞ্জের চারিগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক শাহিনুর আল আমিন।
তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “কোভিড-১৯ মহামারীর সময়ে আমরা শিশুদের অনলাইন ক্লাসে আনার শত চেষ্টা করেও সফল হতে পারিনি। আমাদের শিক্ষকদেরও সবার অনলাইনে ক্লাস নেওয়ার প্রযুক্তিগত জ্ঞানেরও অভাব আছে। প্রাথমিকের সব শিক্ষার্থীরও অনলাইনে ক্লাস করার সক্ষমতা নেই। অনেকে দরিদ্র ও অস্বচ্ছল পরিবারের সন্তান প্রাইমারিতে পড়ে।
“এ বিষয়গুলো তুলে ধরে সভায় আমরা বলেছিলাম, অনলাইন ক্লাসের বিষয়ে চিন্তা না করতে। কিন্তু মন্ত্রী মহোদয়ের কথা মনে হল তিনি অনলাইনে ক্লাসের বিষয়ে ডিটারমাইন্ড।”
রাজধানীর পুরান ঢাকার সুরিটোলা সরকারি মডেল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. আনিসুর রহমানও ওই সভায় উপস্থিত ছিলেন।
তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আসলে শহরাঞ্চলের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সবার অনলাইনে ক্লাস করার সক্ষমতা বা ডিভাইস নেই। আবার যাদের সে সক্ষমতা আছে তাদের মধ্যে ডিজিটাল ডিভাইসের অপব্যবহার হওয়ার সম্ভাবনা আছে।
“এ বিষয়গুলো আমরা মন্ত্রী মহোদয়কে জানিয়েছিলাম। তিনিও অনলাইন ক্লাসের পক্ষ তার যুক্তি উপস্থাপন করেছেন।”

করোনাভাইরাসের সংক্রমণের কারণে ২০২০ সালের মার্চে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছিল। পরে এসব প্রতিষ্ঠানে অনলাইনে শ্রেণিকার্যক্রম পরিচালনা শুরু করা হয়। কিন্তু তেমন সাড়া মেলেনি।
অনলাইনে পাঠদান কার্যক্রমে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে ইন্টারনেট সুবিধা, ডিভাইস থাকা না থাকার বিষয় তখনও আলোচনায় ছিল।
সে অভিজ্ঞতা থেকে রাজধানীর ইস্কাটন গার্ডেন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দুলাল চন্দ্র চৌধুরী মনে করেন, জ্বালানি সাশ্রয়ের জন্য মহানগরী এলাকায় শিক্ষার্থীদের জন্য সরকার যে অনলাইন ক্লাস চালুর কথা ভাবছে, তা শিক্ষার্থীদের ওপর কোনো ইতিবাচক প্রভাব রাখবে না।
তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আসলে করোনাকালেও আমরা দেখেছি, এত শিক্ষার্থীদের তেমন কোনো লাভ হয় না। শিক্ষকদেরও অনেকে অনলাইনে ক্লাস নিতে পারেন না। এ পরিস্থিতিতে একদিন ক্লাস কমানো যেত। এখন তিনদিন ক্লাস ও আর তিনদিন অনলাইন ক্লাস হলে যেটা হবে, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা দীর্ঘ বিশ্রামের সুযোগ পাবেন।
“এতে তেমন কোনো লাভ হবে বলে মনে হয় না। একদিন ক্লাস কমলে বা ক্লাসের সময় কমিয়ে দিলে হয়তো জ্বালানি সাশ্রয় হতো। কিন্তু তিনদিন অনলাইন, তিনদিন অফলাইন ক্লাসে কোনো লাভই হবে না।”
কতটা জ্বালানি সাশ্রয় হবে? জানে না শিক্ষা প্রশাসন
মেট্রোপলিটন এলাকার শিক্ষার্থীদের জন্য সপ্তাহে তিনদিন অনলাইন ক্লাসের ব্যবস্থা করলে কতটা জ্বালানি সাশ্রয় হবে, তার কোনো হিসাব মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর বা প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের কাছে নেই।
জানতে চাইলে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মাধ্যমিক শাখার পরিচালক অধ্যাপক খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “অনলাইন ক্লাস নিয়ে এখনও যেসব আলোচনা, সেগুলো কোনোটাই চূড়ান্ত নয়। মন্ত্রিপরিষদ সভায় এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে।”
অনলাইন ক্লাসে কতটা জ্বালানি সাশ্রয় হবে সে হিসাব মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের কাছে নেই বলে তুলে ধরেন এ কর্মকর্তা।
তার মতে, “এর ফলে মহানগরী এলাকায় যানবাহনের ওপর চাপ কিছুটা কমবে। যানজট কিছুটা কমতে পারে। তবে কতটা জ্বালানি সাশ্রয় হবে সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য আমাদের কাছে নেই।”
অনলাইন ক্লাসে জ্বালানি সাশ্রয়ের হিসাব প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের কাছেও নেই বলেছেন অধিদপ্তরের প্রশাসন শাখার উপপরিচালক আলেয়া ফেরদৌসী শিখা।
এক সময় ঢাকার জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার দায়িত্বে থাকা এ কর্মকর্তা বলেন, “এতে কতটুকু জ্বালানি সাশ্রয় হবে সে হিসাব আমাদের কাছে নেই। কিন্তু যানজট কিছুটা কমতে পারে বলে ধারণা করছি।”
‘অনলাইন ক্লাস আদর্শ সমাধান নয়’
অনলাইনে ক্লাস নেওয়া আদর্শ কোনো সমাধান নয় বলে মনে করছেন শিক্ষাবিদ ও ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের এমেরিটাস অধ্যাপক মনজুর আহমদ।
তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “এটা কোনো আদর্শ সমাধান নয়। কিন্তু কিছুটা পরীক্ষা নিরীক্ষার মাধ্যমে তারা শুরু করতে পারেন। তারপরে কীভাবে এটাকে আরেকটু কার্যকর করা যায় বা সমস্যাগুলো কী দাঁড়ায়, সে বিষয়গুলো দেখতে হবে। বিশেষ করে শিক্ষকদেরও প্রস্তুতি। এসব খুবই একটা সমস্যার ব্যাপার আর কি।
“শিক্ষার্থীদের সবাইও অনলাইনে ক্লাস করতে পারবে কি না, ক্লাস করলেও তার প্রভাব কী হবে সে বিষয়গুলোও ভাবা দরকার।”
কোভিড-১৯ মহামারী সময়ের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, “আমরা তো জানি, আগের অভিজ্ঞতা থেকে জানি যে এটা কার্যকর হয় না। এটা বৈষম্য আরো বেশি সৃষ্টি করবে। যেখানে একটু উচ্চবিত্ত যারা আছেন, ওই স্কুলগুলোতে এটা ভালো কাজ করবে।”
সেন্টার ফল পলিসি ডায়লগ সিপিডির জ্যেষ্ঠ গবেষণা পরিচালক এবং শিল্প, জ্বালানি ও শ্রম অধিকার বিশেষজ্ঞ খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেমের মতে, অনলাইন ক্লাসের মাধ্যমে কতটা জ্বালানি সাশ্রয় হবে সে তথ্যটা জনগণের সামনে আনা প্রয়োজন।
তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “ওই তথ্যটা সমানে আনা হলে এর থেকে উপযুক্ত জ্বালানি সশ্রয়ের আরও ভালো উপায় আছে কি-না, তা জানা প্রয়োজন। আরও ভালো উপায় যদি থাকে সেটা না করে, এটাকে প্রাধিকার দেয়াটা আমার মনে হয় যে ছাত্রদের উপরে বাড়তি চাপ প্রয়োগ করা হবে।
“আমার ধারণা জ্বালানি সাশ্রয়ে আরও ভালো ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ আছে।”
জ্বালানি রেশনিং, ব্যক্তিগত উদ্যোগে চলা যানবাহন কমিয়ে গণপরিবহন ব্যবহারে সচেতনতা বৃদ্ধিতে জোর দিয়ে গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, “বিকল্প বিবেচনা না করে শিক্ষার্থীদের এই চাপ দেওয়া হলে, শিক্ষার্থীদের দুর্বল রাজনৈতিক অবস্থানের কারণে ব্যবহার করা হচ্ছে বলে মনে হবে।”
খবরগুলো পরে এবং বিশেষজ্ঞদের পক্ষে বিপক্ষে মতামত শুনে বুঝতে পারলাম উভয় পক্ষের জোরালো প্রমান আছে। কিন্তু আমিন -এর অতীতাস্মরণ ঘটলো,
কভিড১৯, আমিনের কনিষ্ট পুত্র ক্লাস সেভেনে পড়ে। স্কুল বন্ধ। আমিনের ছেলে অনলাইন ক্লাস করে। আমিন করনার কারণে বেকার, তাই পুত্রের ক্লাস দেখে।স্যার একজন ছাত্রকে বললো,
"সালাম তুই কই? ক্যামেরা অন কর।
"
ছাত্র অন করলো। দেখা গেলো সালাম গ্রামের পুকুরের উপর মাচা। তার উপরে সে ল্যাপটপ নিয়ে বসে রয়েছে। এই নিয়ে ১০-১৫ মিনিট হাস্সো রসাত্মক কথা হলো। ৪৫ মিনিট ক্লাস। ১ মিনিটও বেশি সময় নেয়া হলোনা। অথচ গাল গল্পতে কেটে গেলো ৩৫ মিনিট। আমিনের কনিষ্ট পুত্র অংকে এতো কাঁচা হয়ে গেলো, যে, তার অনেক ইচ্ছা থাকা সত্বেও, সে আর সাইন্স নিয়ে পড়তে পারে নাই।
আর সবচেয়ে বড় কথা, সবার কি তার সন্তানকে ইন্টারনেট সাপোর্ট দেয়ার ক্ষমতা আছে?ওআরির স্টুডেন্ট কেন উত্তরা পড়তে যাবে?এটা কেন বন্ধ করা যায় না। হা, ওটা ভালো ,মানলাম ,এটা কেন ভালো করা যায় না?
সবশেষে
একটা শিশু ছাত্রের আকুতি লিখে শেষ করছি ,তার ভাষ্য একটা ক্লাসে ছাত্র থাকবে ৬০ জন ফ্যান
চলবে ৫ টা আর অনলাইন ফ্যান চলবে ৬০ তা আর ডিভাইস তো আছেই। সুতরাং ৫৫% চাইলেও সেই চাওয়াটা
ঠিক কিনা ভাবা প্রয়োজন।
তাই
"ভাবিয়া করিও কাজ করিয়া ভাবিওনা।
" এ সি বন্ধ করে দেও,দরজা জানালা খুলে দেও ,কারণ সামনে সমস্যা আসছে। সমস্যা দূর হলে বিলাসিতা করা যাবে। আর ভাবো,
শিক্ষা জাতির ভবিষ্যত এবং শিক্ষা জাতির মেরুদন্ড।