ভারত ভ্রমণ ৯১ :ট্রেন জার্নি

 ভারত ভ্রমণ ৯১ :  ট্রেন জার্নি 

আরো জানতে চাইলে পড়ুন


তানভীর meanwhile ট্রেনের খাবার নিয়ে হাস্যরসের সৃষ্টি করছিল। সে বলল, “এই সব ট্রেনের বিরিয়ানির স্বাদ কিন্তু আলাদা। খেলে বুঝবি কেন?” যদিও তারা নিজেদের প্যাক করা স্যান্ডউইচ আর ফল খেয়ে রাতের খাবারের পরিকল্পনা করেছিল, কিন্তু তানভীরের কথায় তারা হাসতে হাসতে প্যাকেট খুলে ফেলে।খাবারের সিস্টেম দুই পদের ভেজিটেরিয়ান নন ভেজিটেরিয়ান। ভেজিটেরিয়ান খাবারে আছে সুন্দর সুন্দর সবজির পদ , ভাত  আর ডাল। নন ভেজিটেরিয়ান এ  মুরগি ভাত ডাল ,আচার আর টক  দই দুই ধরণের পদেই আছে। রাতে আমরা ভেজিটেরিয়ান পদ নিলাম। পুরো সময় জুড়ে খাবারের কোনো অসুবিধা ছিল না। চা,কফি,পাকোড়া জাতীয় খাবার  সবই ছিল।


রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ট্রেনের গতি কমে এল। বিভিন্ন স্টেশনে থামা, হকারদের চিৎকার, আর ট্রেনের ঝকঝক শব্দ সবকিছু মিলিয়ে এক অনন্য অভিজ্ঞতা। আমিনের জন্য এটি ছিল বিশেষভাবে মনে রাখার মতো সময়। জানালা দিয়ে তাকালে দেখতে পাওয়া যেত অন্ধকার মাঠ, মাঝে মাঝে জ্বলতে থাকা একটি-দুটি আলো।পাহাড় আর পাহাড়। তবে ভীষণ ঠান্ডা,জিনসের প্যান্ট মনে হচ্ছে বরফ হয়ে গেছে, জ্যাকেটের হুডি মাথায় দিয়ে ভালোভাবে ঢেকে কাপড়ের জুতা পায়ে জড়িয়ে জবুথবু হয়ে শুয়ে থাকলো তারা। 

তানভীর বলল, “জানিস, এই ট্রেন যাত্রার সবচেয়ে ভালো দিক কী? আমরা এত সময় ধরে একসঙ্গে আছি, কোনো ব্যস্ততা নেই। শুধু গল্প আর প্রকৃতি, কোনো বড় ফিল করছিনা ।” আমিনও সম্মত হলো।


সকালবেলা ট্রেন যখন একটি বড় নদীর ওপর দিয়ে যাচ্ছিল, আমিন আর তানভীর জানালার কাছে গিয়ে দাঁড়াল। সূর্যের আলো নদীর জলে পড়ে এক সোনালি আভা তৈরি করেছিল। চারপাশের দৃশ্য, ক্ষেতের মাঝে গরুর গাড়ি, পাথরের পাহাড়,আর দূরে ছোট ছোট বাড়ি—সবকিছু যেন একটি ছবির মতো লাগছিল।

তারা যখন ব্রেকফাস্ট করছিল, তখন অরুণাভ দা তাদের কাছে বিভিন্ন জায়গার গল্প বলছিলেন। তিনি জানালেন, দিল্লি শহরের ইতিহাস এবং কীভাবে এটি ভারতের রাজধানী হয়ে উঠল। পায়েলও তাদের মজার মজার ঘটনা শোনাচ্ছিল।

ট্রেনের প্রতিটি স্টেশনে নতুন নতুন লোক উঠছিল। কারও হাতে ব্যাগ, কারও হাতে শীতের কম্বল। সবকিছু দেখে আমিনের মনে হচ্ছিল, এ এক চলমান মানবজীবনের প্রতিচ্ছবি। একটা সমবয়সী গ্রূপ ট্রেনে উঠলো ২৫ থেকে ২৮ বয়সী গ্রূপ। সবাই হাসি কৌতুকে ভরপুর তাদের মুখে গান ,"মুঝে নিদ্ নেহি আয়ি " দিল ছবির গান সেই সময় ইন্ডিয়া মাতোয়ারা করছে দিল ,টিকেট না পাওয়ার কারণে আমিনরা দেখতে পারে নাই কলকাতায়। তারা একটি আসনে বসে গেলো পুরোটাই তাদের। তারা কার্ড বের করে টোয়েন্টি নাইন ও স্পেড  ট্রাম খেলা শুরু করলো। এভাবেই তারা তাদের সময়টা পার করতে লাগলো।  আমিন ও একবার তাদের সাথে যোগ দিলো , তারা সানন্দে তাকে গ্রহণ করলো। একটা কার্যক্রম আমিনদের মুগ্ধ করলো , আমাদের দেশে বাসে  ট্রেনে বমি করলে মানুষ খুব বিব্রত ও বিরক্ত হয়, ওদের মধ্যে এই ভাবটা দেখা গেলোনা।

আমিন ও তার সমবয়সী মামা প্রতিটি  ইস্টিশনে নেমেছে  পানি খাবার জন্য।পানি সংগ্রহ ও পান করার ফাঁকে তারা প্রতিটি লোকালয় খেয়াল করেছে। এই দৃশ্য  গুলো আমাদের দেশের সাথে মেলেনা,ওরা  তা নয়ন ভোরে উপভোগ করলো






আরো জানতে চাইলে পড়ুন




৪৮ ঘণ্টার দীর্ঘ যাত্রার শেষে যখন ট্রেন দিল্লি স্টেশনে এসে পৌঁছাল, তখন তাদের মনে হলো, এই ট্রেনযাত্রা কেবল একটি ভ্রমণ ছিল না, এটি ছিল এক নতুন অভিজ্ঞতার দরজা। আমিনের চোখে ছিল ক্লান্তি, কিন্তু মুখে এক বিশাল হাসি। তানভীর বলল, 
“দেখিস, এই যাত্রার কথা আমরা সারাজীবন মনে রাখব।”


আমিনরা ফজরের আজানের পূর্বে ওল্ড দিল্লি স্টেশনে পৌছালো।পাশে লালকুয়া, চাঁদনী চকের পাশে, সেখানে তানভীরের মামা থাকে। শীতের সকাল অন্ধকার অবস্থায় ওরা সেখানে পৌছালো।ঢাকায় কলকাতায় শীতবুঝা  যায় নাই, কিন্তু দিল্লিতে বুঝা গেলো। প্রচন্ড ঠান্ডা কাকে বলে, আমিন চায়ের দোকানে দাঁড়িয়ে এক সাথে চার কাপ চা খেয়ে ফেললো।

আলো  ফুটতেই তার মামার বাসায় গিয়ে উঠলো তারা।  বাড়িওলার লোকেরা বললো,
" উনি তো এখানে থাকেন না।"
 ওদের  মাথায় বাজ  পড়লো। তাদের  মুখের অবস্থা দেখে ওনারা  বললেন,
 " চিন্তা করবেন না, আমি আগামীকাল উনি যেখানে থাকেন সেখানে নিয়ে যেতে পারবো"। 
আমিন বললো,
 "আজ কেন নয় ভাই।"  
উনি বললেন, 
"আপনার মামা নিজামুদ্দিন চলে গিয়েছে, আমি কালকে সেখানে যেতে পারবো।"
উনি আমাদের চাঁদনী চকের একটা স্বল্প মুলা হোটেলে উঠিয়ে দিলেন।






দিল্লি শহরের বিশালত্ব দেখে আমিন মুগ্ধ হলো। তার মনে হচ্ছিল, কালকা মেইল তাকে শুধু এক শহরে নিয়ে আসেনি; এটি তাকে নতুন মানুষের সঙ্গে পরিচিত করেছে, নতুন গল্প শুনিয়েছে এবং জীবনকে নতুনভাবে দেখার সুযোগ করে দিয়েছে। আমিনরা সারাদিন চাঁদনী চক , লালকিল্লা ও আসে পাশের এলাকা ঘুরে দেখলো। দুপুরে জামা মসজিদে নামাজ পড়লো।  

বিকাল গড়িয়ে সন্ধ্যা নামলো তারপরেও আমিনদের ঘোরাঘুরি থামলো না। রাস্তার ভ্যান গাড়ি থেকে আংগুর আপেল ও আনার খেলো,ইন্ডিয়ায় এসব ফল ফলারি খুব সস্তা। রাতে হোটেলে ফিরার পূর্বে নান রুটি ও মহিষের গোস্ত দিয়ে রাতের খাবার সারলো। ভারতে কলকাতা ছাড়া অন্যান্য  প্রদেশে ভাতের প্রচলন কম।  রুটিটাই বেশি চলে।  একটি বিশাল সাইজের নান রুটি ১ রুপি ৩ রুপিতে ১ প্লেট মহিষের গোস্ত দুটি রুটি অল্প বয়স তাই খাওয়া গেলো কিন্তু পানি পানের স্থান থাকলো না। ।কলকাতায় সিনেমা দেখার অনেক শখ হয়েছিল,কিন্তু সময় হয় নাই, এখানে দেখার ইচ্ছা হলো। যদি তানভীরের মামার খোঁজ না পাওয়া যায় তবে দেশে ফিরার চিন্তা করতে হবে না হলে টাকার সমস্যা দেখা দিবে।এসব চিন্তা করতে করতে ওরা ঘুমিয়ে গেলো দুইটা লেপ গায়ে দিয়ে কারণ প্রচন্ড শীত। 

আরো জানতে চাইলে পড়ুন





📢 আপনার মতামত জানান:
  কি   আপনাকে সবচেয়ে বেশি অনুপ্রাণিত করে? নিচে কমেন্ট করুন ও পোস্টটি শেয়ার করুন।










Post a Comment (0)
Previous Post Next Post