ভারত ভ্রমণ ৯১ : ট্রেন জার্নি
![]() |
| আরো জানতে চাইলে পড়ুন |
৭
তানভীর meanwhile ট্রেনের খাবার নিয়ে হাস্যরসের সৃষ্টি করছিল। সে বলল, “এই সব ট্রেনের বিরিয়ানির স্বাদ কিন্তু আলাদা। খেলে বুঝবি কেন?” যদিও তারা নিজেদের প্যাক করা স্যান্ডউইচ আর ফল খেয়ে রাতের খাবারের পরিকল্পনা করেছিল, কিন্তু তানভীরের কথায় তারা হাসতে হাসতে প্যাকেট খুলে ফেলে।খাবারের সিস্টেম দুই পদের ভেজিটেরিয়ান নন ভেজিটেরিয়ান। ভেজিটেরিয়ান খাবারে আছে সুন্দর সুন্দর সবজির পদ , ভাত আর ডাল। নন ভেজিটেরিয়ান এ মুরগি ভাত ডাল ,আচার আর টক দই দুই ধরণের পদেই আছে। রাতে আমরা ভেজিটেরিয়ান পদ নিলাম। পুরো সময় জুড়ে খাবারের কোনো অসুবিধা ছিল না। চা,কফি,পাকোড়া জাতীয় খাবার সবই ছিল।
রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ট্রেনের গতি কমে এল। বিভিন্ন স্টেশনে থামা, হকারদের চিৎকার, আর ট্রেনের ঝকঝক শব্দ সবকিছু মিলিয়ে এক অনন্য অভিজ্ঞতা। আমিনের জন্য এটি ছিল বিশেষভাবে মনে রাখার মতো সময়। জানালা দিয়ে তাকালে দেখতে পাওয়া যেত অন্ধকার মাঠ, মাঝে মাঝে জ্বলতে থাকা একটি-দুটি আলো।পাহাড় আর পাহাড়। তবে ভীষণ ঠান্ডা,জিনসের প্যান্ট মনে হচ্ছে বরফ হয়ে গেছে, জ্যাকেটের হুডি মাথায় দিয়ে ভালোভাবে ঢেকে কাপড়ের জুতা পায়ে জড়িয়ে জবুথবু হয়ে শুয়ে থাকলো তারা।
তানভীর বলল, “জানিস, এই ট্রেন যাত্রার সবচেয়ে ভালো দিক কী? আমরা এত সময় ধরে একসঙ্গে আছি, কোনো ব্যস্ততা নেই। শুধু গল্প আর প্রকৃতি, কোনো বড় ফিল করছিনা ।” আমিনও সম্মত হলো।
সকালবেলা ট্রেন যখন একটি বড় নদীর ওপর দিয়ে যাচ্ছিল, আমিন আর তানভীর জানালার কাছে গিয়ে দাঁড়াল। সূর্যের আলো নদীর জলে পড়ে এক সোনালি আভা তৈরি করেছিল। চারপাশের দৃশ্য, ক্ষেতের মাঝে গরুর গাড়ি, পাথরের পাহাড়,আর দূরে ছোট ছোট বাড়ি—সবকিছু যেন একটি ছবির মতো লাগছিল।
তারা যখন ব্রেকফাস্ট করছিল, তখন অরুণাভ দা তাদের কাছে বিভিন্ন জায়গার গল্প বলছিলেন। তিনি জানালেন, দিল্লি শহরের ইতিহাস এবং কীভাবে এটি ভারতের রাজধানী হয়ে উঠল। পায়েলও তাদের মজার মজার ঘটনা শোনাচ্ছিল।
ট্রেনের প্রতিটি স্টেশনে নতুন নতুন লোক উঠছিল। কারও হাতে ব্যাগ, কারও হাতে শীতের কম্বল। সবকিছু দেখে আমিনের মনে হচ্ছিল, এ এক চলমান মানবজীবনের প্রতিচ্ছবি। একটা সমবয়সী গ্রূপ ট্রেনে উঠলো ২৫ থেকে ২৮ বয়সী গ্রূপ। সবাই হাসি কৌতুকে ভরপুর তাদের মুখে গান ,"মুঝে নিদ্ নেহি আয়ি " দিল ছবির গান সেই সময় ইন্ডিয়া মাতোয়ারা করছে দিল ,টিকেট না পাওয়ার কারণে আমিনরা দেখতে পারে নাই কলকাতায়। তারা একটি আসনে বসে গেলো পুরোটাই তাদের। তারা কার্ড বের করে টোয়েন্টি নাইন ও স্পেড ট্রাম খেলা শুরু করলো। এভাবেই তারা তাদের সময়টা পার করতে লাগলো। আমিন ও একবার তাদের সাথে যোগ দিলো , তারা সানন্দে তাকে গ্রহণ করলো। একটা কার্যক্রম আমিনদের মুগ্ধ করলো , আমাদের দেশে বাসে ট্রেনে বমি করলে মানুষ খুব বিব্রত ও বিরক্ত হয়, ওদের মধ্যে এই ভাবটা দেখা গেলোনা।
আমিন ও তার সমবয়সী মামা প্রতিটি ইস্টিশনে নেমেছে পানি খাবার জন্য।পানি সংগ্রহ ও পান করার ফাঁকে তারা প্রতিটি লোকালয় খেয়াল করেছে। এই দৃশ্য গুলো আমাদের দেশের সাথে মেলেনা,ওরা তা নয়ন ভোরে উপভোগ করলো
![]() |
| আরো জানতে চাইলে পড়ুন |
![]() |
| আরো জানতে চাইলে পড়ুন |
.png)
.png)
