ক্রেডিট লাইন
বর্তমানে আমার শুধু বাড়ি ভাড়া অন্য কোন অন্য কোনো আয়ের উৎস নেই। দশ তারিখে ভাড়া পাওয়ার পর ২৫ তারিখের মধ্যে হাত শূন্য হয়। অতঃপর দশ তারিখ পর্যন্ত ডিম রুটি আলু ভাত ডাল ইত্যাদি দ্বারা নির্বাহ করা হয়। ভালো কিছু খেতে চাইলে কেক কোলড্রিংস বিস্কুট ক্রিম রোল নুডুলস ইত্যাদি তো আছেই। আর এগুলোর যোগানদাতা গলির মাথার মেইন রোডের কামরানের দোকান, তার কাছে বাকির খাতা আছে মালামাল কিনে খাতায় লিখে আসলেই চলবে, ১০ তারিখের পর শোধ হবে মাল প্রতি দুই পাঁচ টাকা বেশি রেখে কামরান সুখী ও খুশি। আসরের এবং মাগরিবের নামাজের পর ভিড়ভাট্টা কম থাকে। এশার পর তো প্রচন্ড ভিড় থাকে। তাই মাগরিব পড়েই কিছু মালামাল কিনতে কামরান এর দোকানে ঢুকলাম আমাকে দেখলে কামরানের মুখটা হাসিতে ভরে যায় কিন্তু তার মুখ বেশ ভার, খবর কি? বাকির পরিমাণটা কি বেশি হয়ে গেল? জিজ্ঞেস করলাম,
" কিরে কামরান মুখটা গোমরা কেন?"
কামরান বলল,
" আর কইয়েন না ভাই আমার দোকানের সামনে প্রচন্ড গোলমাল হইছে। "
বললাম,
" কেন?"
ও বলল,
" আমরা একটা সমিতি করছিলাম ফান্ড যার কাছে থাকতো সে টাকা দিচ্ছে না, বলছে, সে একজনকে ধার হিসেবে দিয়েছে সে টাকা ফেরত দিচ্ছে না গত মাসের টাকা ধার হিসেবে নিয়েছে, এখন সে লোকটি টাকা ফেরত দিচ্ছে না। আচ্ছা ভালো কথা, সে তো গত মাসের টাকা ধার ধার হিসেবে নিয়েছে, এ মাসের টাকা তো আর নেয় নাই, তাহলে এ মাসেরটা গেল কোথায়?
আমি বললাম,
" এ মাসেরটা থাকলেও কি বা না থাকলেও তাতে তোর কি?
ও দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল,
" এ মাসের টাকাটা আমি পেতাম, এখন তো সমিতি শেষ।"
আমিও একটা দীর্ঘ শ্বাস ফেলে বললাম,
" ওহ তাই নাকি!"
ও বলল,
" এ মাসের এক লাখ বিশ হাজার টাকা আমি পেতাম। ভেবেছিলাম দোকানটা একটু ভালো করে সাজাবো। এখন তো সমিতিই শেষ। "
আমি দুঃখজনক শব্দটা উচ্চারণ করে বাড়ি ফিরতে ফিরতে ওদের সমিতি নিয়ে ভাবলাম। বিশ জন দোকানদার বা বিভিন্ন ব্যবসায়ী এক হবে এবং একটা সমিতি করবে। সমিতির উদ্দেশ্য প্রতিদিন তারা একজন ফান্ড রক্ষকের কাছে ২০০ টাকা করে জমা করবে। সমান সমান চার হাজার টাকা। মাসে ৩০ দিনে ৪ হাজার পুরন ৩০ সমান সমান ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা হবে। যেদিন ৩০ দিন পূর্ণ হবে সেদিন সমিতির সবার উপস্থিতিতে লটারি হবে যে জিতবে সে এক লক্ষ বিশ হাজার টাকা পাবে। পরের মাসে যখন লটারি হবে তখন বিজয়ী ব্যক্তি জিতলেও আর পাবে না পরবর্তী ব্যক্তি পাবে যে জিতে নাই এভাবে সবাই এক লক্ষ বিশ হাজার টাকা হান্ডের মালিক হবে। যদি সমিতিতে লেগে থাকে বা সমিতি ঠিক থাকে তাই তারা প্রতিদিন খেয়ে বা না খেয়ে দুশো টাকা করে জমিয়ে সমিতিতে জমা দেয়। টাকা খরচ করা সহজ, টাকা সঞ্চয় করা খুব কঠিন কাজ। কিন্তু থিমটা খুবই সুন্দর হলেও আমাদের বাঙ্গালীদের লেনদেন অত্যন্ত খারাপ তাই মূল্যবান থিমও অমূল্যবান হয়ে যায়। একজন উচ্চপদস্থ ব্যাংক কর্মকর্তা বলেছিল,
" ভাই আমাদের দেশের মানুষের ক্রেডিট লাইন অত্যন্ত নিম্নমানের। "
বললাম,
" যেমন?"
উত্তর দিলেন,
" দেখুন বিদেশে লোন নিতে কোন টাকা খরচ করতে হয় না। একবার লোন নিয়ে না দিলে কোন আদালত থানা পুলিশ নেই। লাল কালির দাগ পড়বে এবং পরবর্তীতে আর সে কোন লোন পাবেনা, এখানে তো তা নয়, লোন নিতে টাকা খরচ করতে হবে। আবার জামানত তো রাখতে হবে। প্রথমে যখন লোন নিতে আসবে গ্রাহক মিষ্টি মধুর ব্যবহার। জামানত দেখতে গেলে ৫০ পদ খাবার দিয়ে খাওয়াবে, যে খাওয়ার তার মেয়ের জামাইকে সে খাওয়ায় নাই। লোন নেয়ার পরে টাকা দিতে গড়ি মসি। খাওয়া তো দূর, এক কাপ চা ও খাওয়াবে না তখন। দাতা এবং গ্রহীতার সম্পর্ক হবে সাপে নেউলে। বিদেশে তা নয়, তারা টাকা নেবে এবং ফেরত দিবে নিয়মানুসারে। দুই একটা কিস্তি যদি মিস যায় তা তারা গুরুত্বের সাথে সমন্বয় করে।"
আমি ভাবলাম উনি ১০০% সঠিক বলেছেন। আমাদের দেশের লোকদের ক্রেডিট লাইন শুধু বাজে না লেনদেনের লাইনও বাজে টাকা ধার নিলে হেসে নিবে দেয়ার সময় মুখ কালা সম্পর্ক শেষ। পাওনা টাকা উদ্ধারের যদি সঠিক ডকুমেন্ট না থাকে তবে তো মহামারী লাগার অবস্থা, কারণ ডকুমেন্ট থাকলে অনেক সময় মাথা কুটতে হয়, আর না থাকলে তো শোকে পাথর হতে হয়।
আবার সেই অতীতাস্মরণ ঘটলো ১৯৮৩ সনের প্রথম দিকের কথা, এইচএসসিতে ভর্তি হয়েছি। অষ্টম শ্রেণী থেকেই সিগারেট ফুকি। স্টার, গোল্ড লীফ, বেনসন এন্ড হেজেস এবং ৫৫৫ যখন যেটা সামনে পড়ে এবং অর্থনৈতিক অবস্থার উপর ভিত্তি করে ঠিক হয় কোনটা ফুঁকবো। আমার টাকার উৎস বাজার করতে দিলে এক টাকার মাল দুই টাকা দেখিয়ে আয় করা ।
সপ্তাহে যা আয় হয় তাতে ভালো সিগারেট ফোঁকা সম্ভব নয় কারণ আমার একটা আরো শখ ছিল সিনেমা দেখা, ইংলিশ যাতে অ্যাকশন, থ্রিল, সাসপেন্স এর সাথে একটু খোলামেলা দৃশ্য থাকলে মন্দ হয় না। বাংলা এবং ক্লাসিক ছবিও আমার প্রিয়। "নাচের পুতুল" আমি দশম শ্রেণীতে অধ্যায়নরত অবস্থায় সাবিস্থান সিনেমা হলে পরপর চার দিন দেখেছিলাম। হলে তেমন লোকজন থাকত না পুরাতন ছবি বলে, দারোয়ানরা বলতো,
" কি হলো?" কি আছে এই বইয়ের মধ্যে?"
" অবুঝ মন" মুন সিনেমা হলে পরপর তিন দিন দেখেছিলাম ৫ দিন দেখি নাই কারণ পকেট শূন্য ছিল। সিনেমার দেখার শখটা অনেকখানি ম্লান হয়ে যায় ভিসিআর এর কল্যাণে, কারণ ঘরে বসে ভালো মানের সিনেমা পেলে হাটবাজারে আর কে ঘোরাঘুরি করতে চায়। ভালো সিগারেট ফুঁকতে পারতাম যখন বন্ধু-বান্ধবের আড্ডায় বসতাম। একজন বন্ধু ছোট খোকা ছাড়া সবাই ছাত্র বা বেকার এবং সবাই টোটো কোম্পানির ম্যানেজার। ছোট খোকা সূর্যদয় স্টেশনারির মালিকের ছেলে বিহারী, অল্প বয়স থেকেই বড় ভাই বড় খোকার সাথে মিলে বাংলাবাজার এলাকায় জমজমাট ব্যবসা দেখাশোনা করে। তার কাছে প্রতিদিন ব্যবসার পরে আড্ডা দেওয়ার সময় এক প্যাকেট ফাইভ ৫৫৫ বা বেনসন এন্ড হেজেজ থাকবে না তো কার কাছে থাকবে? আর এছাড়া নাস্তা পানি তো আছেই । এরকম, ধনবান ডায়েরি কোম্পানির একজন সহ অনেকে আছে, তবে ছোট খোকা সহ আমরা ১০ জন আড্ডাবাজ রেগুলার।
আমাদের আড্ডার বিষয়বস্তু সমাজ, দেশ, রাজনীতি, সিনেমা, খেলাধুলা, মাস্তানি ইত্যাদি ছাড়াও এলাকার কোন মেয়েটি বয়সে এসে রূপবান হচ্ছে ইত্যাদি ইত্যাদি। হঠাৎ আমাদের এক আড্ডা সঙ্গী ওমর যে রাজনীতির সাথেও জড়িত সে বলে উঠলো,
" দোস্ত আমরা সবাই একসাথে বসে আড্ডা দেই আমরা ১০ জন মিলে টাকা জমানোর একটা সমিতি দেই না কেন?"
ছোট খোকা বলল,
" কিভাবে?"
ওমর বলল,
" আমরা ১০ জন রোজ পাঁচ টাকা করে রাখলে ৫০ টাকা ৩০ দিনে পনেরশত টাকা পরের মাসে একটা ব্যাংক একাউন্ট খুলব বছরে ১৫ শত পূরণ ১২ সমান সমান আঠারো হাজার টাকা অর্থাৎ এক বছরের মধ্যেই আমাদের সমিতি হাজার পতি, আর এই জমানো টাকা দিয়ে আমরা ব্যবসা-বাণিজ্য করে একে আরো বৃদ্ধি করতে পারব। "
সবাই ওমরের টাকা জমানোর সমিতির থিম শুনে খুশি হলো। আর ভোটে এটা পাস হলো দুজন রাজি হলো না অর্থাৎ পাঁচ পূরণ আট সমান সমান ৪০ পূরণ ৩০ সমান সমান ১২০০ পূরণ ১২ সমান সমান ১৪৪০০ টাকা জমানোর উদ্দেশ্য নিয়ে সমিতি গঠন করা হলো।
বিড়ি সিগারেট খাওয়া কমিয়ে দিলাম যা স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত সুখবর। কিন্তু খাই আর না খাই ডেইলি ৫ টাকা জমা দিতে হবে সমিতির ফান্ডে এভাবে দিন ১৫ পাড় হল ।
একদিন শুক্রবার ঘরে যে দৈনিক ইত্তেফাক রাখে, তার শেষ পৃষ্ঠার পূর্বের পৃষ্ঠায় এক কোনায় দেখতে পেলাম জহির রায়হানের "বেহুলা" বিউটি সিনেমা হলে সগৌরবে চলছে। পুরনো সিনেমা দেখার প্রতি আমার বিশেষ একটা আগ্রহ ছিল এশার পরে আমাদের আড্ডায় কথাটা তুললাম আমাদের আড্ডাটা হতো বেশ কয়েকটি স্থানে তার মধ্যে দুটো জায়গায প্রধান। একটা আরশেদ আলীর সিমেন্ট ঘাট। তখন ফরারগঞ্জের সিমেন্ট নামতো এই ঘাটে। বর্তমানে তা পাগলাতে স্থানান্তর করা হয়েছে। সিমেন্টের সুন্দর সুন্দর জাহাজগুলিতে নতুবা পাশে একটা ফার্নিচার কারখানা যা নদীর উপর কাঠের পাঠাতন দিয়ে বানানো হয়েছে তাতে চলতো আমাদের জমজমাট আড্ডা। অপরটা শ্যামবাজার স্টার্ট হওয়ার সাথেই বামে একটা ৩০ ফুটের বন্ধ গলি যার মধ্যে কিছু কাঠের টুল রাখা থাকতো। সেদিন আমি বললাম,
" জানিস বেহুলা চলছে বিউটি সিনেমা হলে যেটা এস,এ,খালেকের সিনেমা হল মিরপুর গাবতলীতে।"
বর্তমান সময়ে খালেক সাহেবকে কেউ চিনবে কিনা জানিনা তবে এরশাদের সময়ে পরিচিত ব্যক্তি ছিলেন। বি এন পি এর সময়ে তার জনপ্রিয় ভাইরাল বক্তব্য ছিল ,
"আমি তো দল পাল্টাই না ,আমি সবসময় সরকারি দল , তবে সরকার পাল্টাইলে আমার কি করার আছে?"
সোহেল বলল,
" পুরানা বই এটানিয়েও কথা?"
আবার আক্কু বললো,
" এগুলো আবার কে দেখে?"
ছোট খোকা বলল,
" আমিন আমি তোর সাথে আছি। আমি দেখতে চাই। "
আমি বললাম,
"দেখার তো খুব ইচ্ছা কিন্তু এখন সমিতিতে টাকা দেয়ার পর হাতে তো কোন টাকা থাকে না কিভাবে দেখব?"
ছোট খোকা বলল,
" টাকার কোন চিন্তা করিস না আমি দেব তবে মিরপুরে গাবতলীতে গেলে তিনজন হতে হবে, কারণ আসার সময় দেরিতে আসবো। "
হঠাৎ এসে সামান্য শুনে, আমাদের কথার উপর ঝাঁপিয়ে পড়লো ওমর, বলল,
" পুরনো ছবির প্রতি আমারও শখ, আমিও যাব। "
যাক তিনজন হয়ে গেল। ছোট খোকা বলল,
"সদরঘাট থেকে বাসে গুলিস্তান, গুলিস্তান থেকে বাসে টেকনিকেল, নেমে হেঁটে বা রিকশায় বিউটিতে যাব ৯ টা বারোটা শো দেখব, বেবিতে করে সাড়ে বারোটার মধ্যে বাসায় ফিরব কারণ নয়টা বারোটা শো সাড়ে এগারোটায় শেষ হয়ে যায়। "
যেই কথা সেই কাজ, পরদিন মাগরিব পড়ে আমি আর ওমর ছোট খোকার স্টেশনারির শোরুমের সামনে দাঁড়ালাম। ছোট খোকা শোরুম থেকে বেরিয়ে বলল,
" চলো তাড়াতাড়ি বাসে উঠি। "
ওমর বলল,
" বাসে কেন, বেবিতে যাই। "
একটা বেবি ২৫ টাকা দিয়ে ঠিক করার কথা ৩০ টাকা তেই ওমর রাজি হয়ে উঠে পড়ল। একটু যেতেই এক দোকানের সামনে থামিয়ে ৩০ টাকা দিয়ে এক প্যাকেট ৫৫৫ কিনলো। নিজে ১ শলা আমাকে এক শলা দিয়ে বাকি পুরো প্যাকেট টাই ছোট খোকার হাতে দিয়ে দিল। ছোট খোকার দেশলাই দিয়ে আমরা তিনজনে তিনটা ধরালাম। কথা বলতে বলতে গাবতলী বাস স্ট্যান্ডের অপজিটে খালেক সাহেবের বাড়ি সংলগ্ন বিউটি সিনেমা হলে পৌঁছে গেলাম। গেটে নেমে আমাদের দুজনকে অবাক করে দিয়ে ওমর বেবিওয়ালাকে ৩০ টাকা দিয়ে দিল। তাকে ফান্ড রক্ষক বানানো হয়েছিল এইজন্য যে, তার কাছ থেকে কোন টাকা বের হয় না কিন্তু আজ সব উল্টো ঘটনা ঘটতে শুরু করেছে হলের গেটে ছোট খোকা আমাকে চুপিচুপি বলল,
" শোরুম থেকে বেরোনোর সময় দুইশত টাকা নিয়ে নিয়েছিলাম খরচ করব বলে এখন তো দেখছি একশত টাকাও খরচ হবে না?"
হয়তো সেই কথার জবাবে গাড়ি থেকে নেমেই সোজা টিকেট কাউন্টারে যেয়ে ওমর পকেট থেকে টাকা বের করে তিনটি ডিসির টিকেট কেটে ফেলল। আমরা বাকি দুজন অবাক হয়ে তার পিছু পিছু হেটে দোতালায় ডিসির দিকে রওনা দিলাম। ।
শো টাইম ৯ টা বারোটা না ৮:৩০ থেকে ১১:৩০ আটটা ৮.১০টা বাজছে হয়তো আর পাঁচ মিনিটের মধ্যেই ছয়টার শো শেষ হবে। আমার অভিজ্ঞতাকে সত্যি প্রমাণিত করে ক্রিং ক্রিং শব্দের মাধ্যমে দর্শকরা বের হতে লাগলো আমরা তিনজন তিনসিটে বসলাম। ছবি শুরু হতে গভীর মনোযোগের সাথে, সুমিতা দেবীর নাগদেবীর গভীর চাল, বেহুঁলা সুচন্দা ও লক্ষিন্দর নায়করাজ্ রাজ্জাকের প্রেম ও ফতে লোহানির রাজসিক চাল দেখতে লাগলাম। "
"নাচে মন ধীনা ধিনা প্রানেতে বাজে বিনা বাজেরে" সঙ্গীতে আমরা মোহিত হলাম। ইন্টারভেলের সময় ওমর আমাদের তিনজনের জন্য তিনটা কোকাকোলা ৩ প্যাক চিপস তিন পিস করে কেক ও প্যাটিস নিল। এগুলো সিটে রেখে ছোট খোকা মূত্র বিসর্জন করতে গেল, সব দেখতে বলে, আমিও তার সাথে সাথে সঙ্গ দিতে গেলাম। ওয়াশরুমের গেটের দিকে ঢুকতে ঢুকতে ছোট খোকা বলল,
"আরে এটা আমাদের সঞ্চয়ের টাকা না তো?"
আমি মূর্তির মত জমে গেলাম বয়স কম হলেও ছোট খোকা একজন ব্যবসায়ী মানুষ খেটে অর্থ কামায় বাস্তব সম্পর্কে তার জ্ঞানের কাছে আমি কলেজ পুরুয়া একজন শিশু একটা অশুভ চিন্তায় গায়ে কাটা দিল ।
এই ঘটনার পর ছবিটাতে আর মন দিয়ে দেখতে পারলাম না এগারটার পূর্বে ছবি শেষ করল। হল থেকে নেমেই আমরা বেবি টেক্সি নিয়ে বাড়ির কাছে এসে নামার পর, ওমর ভাড়া দিল। আমরা যে যার বাসায় চলে গেলাম।
পরদিন সকালে সেই সময়ের রীতি অনুসারে ছুটির দিন রবিবার, ছোট খোকা আমার বাসায় এসে বলল,
" হিসেবের দিন শুক্রবার পর্যন্ত সবাইকে সঞ্চয়ের টাকা দিতে মানা করেছি সবাই টাকা সাথে নিয়ে আসব, হিসেব করে টাকা দেব।
আমি বললাম,
" আচ্ছা ।"
জুম্মার দিন ওমরকে আমি মসজিদে বললাম,
" ছোট খোকা কিছু বলেছে?"
ও বলল,
" হ্যাঁ আমাকে হিসাব নিয়ে আসতে বলেছে এশার পরে থাকিস সবাই আজ যার যার যা বকেয়া আছে দেবে। "
আমি বললাম,
" আচ্ছা। "
এশার পরে সবাই একত্র হলাম সবাই টাকা নিয়ে এসেছে। ছোট খোকা বলল,
" সঞ্চয়ের টাকা কোথায়? গুনে আজ সবাই বকেয়া শোধ করব। "
সবাই একমত হলো ওমর বলল,
" টাকা তো খরচ হয়ে গিয়েছে। আগামী শুক্রবারে নিয়ে আসব। "
ছোট খোকা বলল,
" ঠিক আছে আমরাও বকেয়া গুলো সব আগামী সপ্তাহে নিয়ে আসব। "
দুই মাস পরেও যখন সেই আগামী শুক্রবার আসলো না তখন সঞ্চয় সমিতির সব সদস্যরা বুঝতে পারল লাল বাতি জ্বলেছে, এইভাবে আমাদের দেশের সঞ্চয়ের ভালো থিম ধুলায় মিশে যায়। ক্রেডিট লাইন খারাপ, এর চেয়েও বেশি খারাপ লেনদেনের। যিনি মহোদয় এর চেয়েও বেশি টাকা ফেরত দেবে না তাকে চা কফি খাইয়ে শত কোটি টাকা দেবে ব্যাংক। সামান্য টাকা হলেই দাঁড়িয়ে যাবে তাকে জামানতের কথা বলে সিকিউরিটি গ্যারান্টির কথা বলে এক টাকাও দেবে না। কারণ তার জন্য তদবির নেই নেই উপরের মহলের ফোন আর খেলাফি মহোদয়ের ফোনের অভাব নেই।
আমাদের মন মানসিকতা কি পাল্টাবে?
.png)
.png)