অন্ধকারের শহর: একজন ব্যারিস্টারের গোপন জীবন

 

🔹🔹🔹 অন্ধকারের শহর: একজন ব্যারিস্টারের গোপন জীবন



লন্ডনের ছায়াময় শহরে এক ব্যারিস্টার শেষ বারের মতো ন্যায়ের যুদ্ধ লড়ছে নিজের বিবেকের বিরুদ্ধে।The Order এর অস্তিত্ব এবার উন্মোচিত হবে চূড়ান্ত রায়ে।

🔹 লন্ডনের কুয়াশাময় সকাল

Read More:

লন্ডনের আকাশে তখনো কুয়াশার পর্দা ঝুলছে।
টেমস নদীর ধারে পুরনো ভবনগুলোর ছায়া কেমন জানি রহস্যময় লাগছে।
ব্যারিস্টার শফিক রহমান জানালার পাশে দাঁড়িয়ে কফির কাপ হাতে নিয়ে ভাবছিলেন—
আজকের কেসটা হয়তো তার জীবনের সবচেয়ে কঠিন হতে চলেছে।

দশ বছরের অভিজ্ঞতায় তিনি অনেক অদ্ভুত মামলা দেখেছেন।
কিন্তু আজকের ফাইল খুলেই তার ভেতরটা কেঁপে উঠল।
কারণ, মামলার সাক্ষীর তালিকায় একটি নাম—
“মিস্টার ডেভিড মরগ্যান (Deceased)”
অর্থাৎ— মৃত!


🔹 আদালতের প্রস্তুতি

শফিক জানতেন, লন্ডনের হাইকোর্টে কাগজের ভুল মানে কেরিয়ারের শেষ।
কিন্তু এই ভুলটা কেমন যেন ইচ্ছে করেই করা হয়েছে।
ফাইলের নিচে স্বাক্ষর— এক রহস্যময় আইনজীবীর নাম:
এ. হাডসন।
অদ্ভুত বিষয় হলো, লন্ডনের ল’ কাউন্সিলের রেকর্ডে এমন কোনো আইনজীবী নেই।

তিনি নিজের সেক্রেটারিকে বললেন,

“এমা, হাডসন নামের কোনো ব্যারিস্টারের তথ্য বের করো। কিছু একটা ঠিক নেই।”

এমা মাথা নেড়ে দ্রুত বেরিয়ে গেল।
শফিক কফির শেষ চুমুক নিয়ে কোটটা গায়ে দিলেন।
আদালতে যাওয়ার সময় তার মনে হচ্ছিল—
আজকের দিনটা হয়তো তার জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেবে।


🔹 আদালতের ভেতর

Read Others:

লন্ডন হাইকোর্টের ৩২ নম্বর কক্ষে তখন নীরবতা।
জজের চেম্বার থেকে নাম ডাক পড়ল—
“Case 414: Regina vs. Watson – Defense by Mr. Shafiq Rahman.”

শফিক কোর্টরুমে ঢুকলেন।
অভিযুক্তের আসনে বসা তরুণটির চোখে ভয়।
তার নাম অ্যাডাম ওয়াটসন, অভিযোগ— তার ব্যবসায়িক পার্টনার ডেভিড মরগ্যানকে হত্যা

কিন্তু কেসের মূল জট হলো—
ডেভিড মরগ্যানের মৃত্যু হয়েছে এক বছর আগে, অথচ সাক্ষী হিসেবে আজ আদালতে তার নাম হাজির!


🔹 প্রথম সাক্ষ্য

প্রসিকিউশন টেবিল থেকে এক ভদ্রলোক উঠে দাঁড়ালেন।
তার পরনে ছিল কালো স্যুট, চোখে মোটা ফ্রেমের চশমা।
তিনি বললেন—

“মাই লর্ড, আমাদের কাছে প্রমাণ আছে যে, ডেভিড মরগ্যান জীবিত আছেন এবং কাল রাতে তিনি একটি হোটেলে দেখা গেছেন।”

আদালতজুড়ে গুঞ্জন শুরু হলো।
শফিক হতবাক। তিনি ফাইল উল্টেপাল্টে দেখলেন—
ডেভিড মরগ্যানের মৃত্যুর সার্টিফিকেট, মরচুয়ারি রিপোর্ট, সবই আসল।
তাহলে জীবিত মানুষটা কে?


🔹 রহস্যের শুরু

আদালতের পর শফিক একা বেরিয়ে এলেন।
তার মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছে প্রশ্নগুলোর ঝড়।
“একজন মৃত মানুষ আবার জীবিত হলো?”
নাকি— কারো ষড়যন্ত্র চলছে তার ক্লায়েন্টকে ফাঁসানোর জন্য?

বৃষ্টি নামল।
টেমস নদীর ওপর কুয়াশার ভেতর দিয়ে তিনি হাঁটছিলেন,
যখন এক অপরিচিত কণ্ঠ পেছন থেকে বলল—

“মি. রহমান, আপনি ভুল কেসে ঢুকে পড়েছেন।”

শফিক ঘুরে তাকাতেই মানুষটা অদৃশ্য হয়ে গেল।
শুধু একটা খাম পড়ে ছিল পাথরের সিঁড়িতে।
খামের ভেতরে একটি পুরনো ছবি —
একটি মেয়ের মুখ, আর তার নিচে লেখা:
“The witness knows the truth.”


🔹 অতীতের ছায়া

শফিক ছবিটা দেখে থমকে গেলেন।
এই মেয়েটি… সে তো তার অতীতের কেউ!
রুকাইয়া,
পাঁচ বছর আগে যার সঙ্গে তার বাগদান হয়েছিল,
যে এক রাতে হঠাৎ হারিয়ে গিয়েছিল কোন চিহ্ন না রেখে।

সে কি ডেভিড মরগ্যানের সঙ্গে যুক্ত?

শফিক বুঝলেন,
এই মামলাটা কেবল আইনের নয়—
এটা তার জীবনের, তার অতীতের, এবং হয়তো তার বিবেকেরও।


🔹 ক্লু এক

রাতে এমা ফিরে এলো রিপোর্ট নিয়ে।

“স্যার, হাডসন নামে কোনো ব্যারিস্টার নেই।
কিন্তু এই নামটা রেজিস্ট্রিতে ছিল এক সময়— ১৯৭৪ সালে।”

১৯৭৪? মানে প্রায় ৫০ বছর আগে!

শফিক রিপোর্টটা হাতে নিয়ে দেখলেন—
একটা পুরনো ব্ল্যাক–অ্যান্ড–হোয়াইট ছবি।
সেই একই মানুষ, যার সিগনেচার আজকের ফাইলে আছে!

তিনি কাঁপা গলায় বললেন,

“এমা, এই মানুষটা মৃত।”


🔹 ফোন কল

রাত ১২টা।
অফিসের বাতি নিভে গেছে, শুধু ডেস্কের ওপর টেবিল ল্যাম্প জ্বলছে।
ঠিক তখনই ফোন বেজে উঠল।
একটি কণ্ঠ বলল—

“মি. রহমান, সত্য জানতে চাইলে আগামীকাল রাত ১টায়
ব্ল্যাকব্রিজ গলির পুরনো কবরস্থানে আসবেন।
একা আসবেন।”

ফোন কেটে গেল।

শফিক জানতেন,
এই পথে যাওয়া মানে বিপদ।
কিন্তু এখন ফিরে যাওয়া অসম্ভব।
একবার শুরু হয়েছে— এখন থামা যাবে না।

Read another:


🔹 রাতের শহর

রাত একটা।
লন্ডনের অন্ধকার গলি, ভেজা পাথর, টলমলে আলো।
শফিক হাতে টর্চ নিয়ে কবরস্থানে ঢুকলেন।
চারদিকে শুধু বাতাসের শব্দ।

হঠাৎ মাটির নিচ থেকে কেউ যেন ফিসফিস করে বলল—

“আমি মরিনি, মি. রহমান...”

টর্চের আলোতে দেখা গেল—
একটা পুরনো কবরফলকে লেখা নাম—
David Morgan (1972–2023)

কিন্তু কবরের ঢাকনা আধখোলা।
মাটির ভেতর থেকে কারো শ্বাসের শব্দ আসছে।

শফিক পেছনে তাকিয়ে দেখলেন—
একটি ছায়া ধীরে ধীরে এগিয়ে আসছে...


🔹 পরবর্তী পর্বের ইঙ্গিত

হঠাৎ বাতি নিভে গেল, চারদিক অন্ধকার।
একটি হাত তার কাঁধে ছুঁয়ে গেল,
আর একটা কণ্ঠ বলল—

“তুমি দেরি করে ফেলেছো, শফিক...”

পরের মুহূর্তেই সবকিছু থেমে গেল।
শুধু কবরের পাশে পড়ে রইল সেই পুরনো ছবিটি।

🔹 কবরস্থানের সেই রাত

বৃষ্টি আরও জোরে পড়ছে।
লন্ডনের কবরস্থানটি তখন ভিজে কাঁপছে বাতাসে।
শফিক টর্চের আলো নিভে যাওয়ার পরও দাঁড়িয়ে আছে,
মনে হচ্ছে যেন পুরো পৃথিবী তার ওপর ঝুঁকে আছে।

কবরের ভেতর থেকে যে শ্বাসের শব্দ এসেছিল, সেটি এখন নিস্তব্ধ।
শফিক সাহস করে মাটির ঢাকনা সরাতে গেল—
ঠিক তখনই পেছন থেকে আলো পড়ল।
একজন মানুষ দাঁড়িয়ে আছে ছাতার নিচে, কালো কোটে, মুখ দেখা যায় না।

“তুমি এসেছো। ভেবেছিলাম তুমি আসবে না,”
লোকটি বলল।
তার কণ্ঠ শান্ত, কিন্তু ঠান্ডা।

শফিক প্রশ্ন করল,

“তুমি কে?”

লোকটি হালকা হাসল—

“আমি সেই ব্যক্তি, যাকে তুমি আজ কোর্টে মৃত বলেছিলে।”

Read More:


🔹 জীবিত ডেভিড মরগ্যান?

শফিক হতবাক।
সে কি সত্যিই ডেভিড মরগ্যান?
নাকি কেউ তার রূপ ধরে অভিনয় করছে?

লোকটি এগিয়ে এসে বলল—

“তুমি সত্য জানতে চাও, তাই না?
তাহলে আমার সঙ্গে চলো, মি. রহমান।
কিন্তু সাবধান — একবার এই পথে পা রাখলে আর ফিরে আসা যায় না।”

শফিকের মনে ভয় আর কৌতূহল মিশে গেছে।
সে কিছু না বলেই লোকটার পিছু নিল।

তারা কবরস্থানের শেষ প্রান্তে পৌঁছাল,
যেখানে পুরনো একটি গেটের নিচে লেখা —
“Hudson’s Vault – 1879”


🔹 হাডসনের ভল্ট

তারা ভেতরে ঢুকতেই বাতাস থেমে গেল।
ভেতরে ছড়ানো পুরনো কাগজ, আইন নথি, আর দেয়ালে টাঙানো সাদা–কালো ছবি।
প্রতিটি ছবিতে এক নাম —
Barrister A. Hudson

ডেভিড মরগ্যান (বা যে লোকটি নিজেকে তার বলে দাবি করছে) বলল,

“এই মানুষটাই সব শুরু করেছিল।
হাডসন শুধু আইনজীবী ছিল না, সে ছিল ‘The Order’ নামের এক গোপন সংগঠনের সদস্য।”

শফিক অবাক হয়ে বলল,

“The Order?”

“হ্যাঁ,” লোকটি বলল,
“একটা গোপন সমাজ যারা আদালতের রায়, বিচার, এমনকি মৃত্যুও নিয়ন্ত্রণ করে।
এবং তুমি এখন সেই খেলায় ঢুকে গেছো, অজান্তেই।”


🔹 হাডসনের চিঠি

লোকটি একটি পুরনো খাম হাতে দিল।
তার ওপর লেখা—
“To whoever defends the truth.”

চিঠিতে ছিল তিনটি লাইন:

“আইন কখনো অন্ধ নয়।
অন্ধ শুধু সেই মানুষ, যে সত্যকে ভয় পায়।
তুমি যদি সত্যের পথে আসো, তোমার বিচার তোমাকেই করতে হবে।”

শফিকের বুক কেঁপে উঠল।
তার মনে হলো, যেন কেউ বহু বছর আগেই
আজকের ঘটনাগুলো লিখে রেখে গেছে।


🔹 ফ্ল্যাশব্যাক: ৫ বছর আগের রাত

রুকাইয়া — শফিকের জীবনের একমাত্র ভালোবাসা।
তারা দুজন একসঙ্গে লন্ডনে পড়াশোনা করত।
বাগদান হয়েছিল, কিন্তু একদিন হঠাৎ রুকাইয়া উধাও হয়ে যায়।
কেউ জানে না সে কোথায় গেল।

তবে এক বছর পর এক অনামী খাম এসেছিল শফিকের অফিসে,
ভেতরে ছিল কেবল একটি শব্দ— “Forgive me.”

সেই থেকেই শফিক আর কাউকে ভালোবাসেনি।
আজ সেই রুকাইয়ার ছবি আবার ফিরে এসেছে, এক মৃত মানুষের মামলায়।


🔹 সন্দেহ

শফিক ফিরে এল নিজের চেম্বারে।
রাত ২টা।
কফির কাপের ধোঁয়া উঠে মিলিয়ে যাচ্ছে বাতাসে।
ডেস্কের ওপর হাডসনের চিঠি আর ছবিটা রাখা।

সে নিজের মনে বলল,

“রুকাইয়া, তুমি কোথায়?
এই মামলার সঙ্গে তোমার সম্পর্ক কী?”

ঠিক তখনই কম্পিউটার স্ক্রিন নিজে থেকেই জ্বলে উঠল।
স্ক্রিনে ভেসে উঠল এক বাক্য:

“She is watching you.”

শফিক চমকে উঠল।
মনে হলো কেউ তার অফিসের ভেতরে ক্যামেরা বসিয়েছে।


🔹 অজানা বার্তা

সে দ্রুত সার্ভার লগ চেক করল।
একটি IP ট্রেস করল—
ঠিকানা: Dhaka, Bangladesh.

এটা কীভাবে সম্ভব?
সে তো লন্ডনে!
কেউ বাংলাদেশ থেকে তার সিস্টেম হ্যাক করেছে?

তখনই ফোন বাজল।
কণ্ঠটা এবার নারীকণ্ঠ।

“শফিক, ভয় পেয়ো না। আমি রুকাইয়া।”

শফিকের নিশ্বাস থেমে গেল।

“তুমি… তুমি বেঁচে আছো?”

“হ্যাঁ, কিন্তু আমি তোমার পাশে নেই।
আমি এমন এক জালে জড়িয়ে গেছি, যেখান থেকে কেউ বের হতে পারে না।”

“The Order?” — শফিকের প্রশ্ন।

ফোনের অপর প্রান্ত নীরব।
তারপর ভেসে এল একটিই শব্দ—

“সত্যের মূল্য রক্তে দিতে হয়…”
ফোন কেটে গেল।


🔹 তদন্ত

পরদিন সকালে শফিক গেল “Old Bailey Archives” এ —
লন্ডনের পুরনো আদালতের নথির ভাণ্ডার।
সে খুঁজতে লাগল A. Hudson-এর ফাইল।

এক ফাইল অফিসার বলল,

“আপনি ভাগ্যবান, স্যার। Hudson’s Vault কেসগুলো এখনো সংরক্ষিত।”

ফাইল খুলতেই চোখে পড়ল এক নথি—
একই চিঠি, একই লেখা:
“Forgive me.”

তার পাশে এক নারীর নাম—
Ruqaiya Hudson.

শফিকের মাথা ঝিমঝিম করে উঠল।
রুকাইয়া! তার প্রেমিকা হাডসনের বংশধর?

তাহলে কি এই পুরো মামলাটা তার নিজের জীবনের সঙ্গে যুক্ত?


🔹 আদালতের নতুন কেস

পরের দিন নতুন এক নোটিশ এল:
“Crown vs. Shafiq Rahman”

অভিযোগ — আদালতের নথি জালিয়াতি ও অবৈধ কেস হস্তক্ষেপ।
শফিক নিজের নাম পড়ে বুঝতে পারল—
এখন সে নিজেই অভিযুক্ত।

প্রমাণ?
তার ডেস্কে পাওয়া গেছে ডেভিড মরগ্যানের মৃত্যুর নথির নকল কপি!

এটা কে করল?
The Order?
নাকি রুকাইয়া নিজেই?


🔹 অদ্ভুত সাক্ষাৎ

রাতের লন্ডন আবার অন্ধকার।
শফিক কোর্ট থেকে বেরিয়ে টেমস নদীর পাড়ে হাঁটছিল।
হঠাৎ কেউ কাঁধে হাত রাখল।
সে ঘুরে দেখল —
রুকাইয়া!

সে একদম বদলে গেছে — চোখে ক্লান্তি, মুখে ভয়।

“শফিক, সময় নেই। তারা তোমাকে ব্যবহার করছে।
ডেভিড মরগ্যান বেঁচে নেই, কিন্তু তারা চায় তুমি বিশ্বাস করো সে বেঁচে আছে।”

“কেন?”

“কারণ তুমি একমাত্র ব্যক্তি, যে হাডসনের ফাইলগুলোতে প্রবেশ করতে পেরেছো।
তারা সেই সত্য লুকাতে চায়, যেটা পুরো আইনব্যবস্থাকে ধ্বংস করতে পারে।”

“তাহলে The Order আসলে কী?”

রুকাইয়া বলল,

“আইনের আড়ালে লুকানো এক গোপন আদালত।
যেখানে বিচার হয় মানুষের নয়— সত্যের।”

বলে রুকাইয়া অদৃশ্য হয়ে গেল ভিড়ের মধ্যে।


🔹 ক্লু দুই

শফিক ঘরে ফিরে এমাকে বলল সবকিছু।
এমা তখন শান্ত গলায় বলল,

“স্যার, আমার মনে হয় কেউ আপনাকে ‘Test’ করছে।”

“Test?”

“হ্যাঁ। আপনি কি সত্যিকারের ন্যায়বিচার চান,
নাকি কেবল পেশার নিয়মে কাজ করেন— তা যাচাই করা হচ্ছে।”

তার কথাটা মাথায় ঘুরতে থাকল।
তখনই শফিক লক্ষ্য করল,
হাডসনের চিঠির নিচে আরেকটি লেখা ফুটে উঠেছে:

“The truth lies beneath your name.”

সে কলম নিয়ে নিজের নামের অক্ষরগুলো আলাদা করল —
S H A F I Q
আর নিচে ছোট করে লেখা —
Q FILE


🔹 সত্যের দরজা খুলছে

সে ডেস্কের ড্রয়ার খুলে দেখল—
“Q FILE” নামের একটি ফোল্ডার রাখা।
এটা সে কখনো দেখেনি!
ভেতরে একগুচ্ছ ছবি, প্রতিটি ছবিতে আদালতের বিচারক, রাজনীতিক, এবং নামি ব্যবসায়ীর ছবি।
সবাই একই জায়গায়— এক গোপন সভায়!

নিচে লেখা:
“The Order – Annual Assembly, 2015”

তার ভেতর থেকে ঠান্ডা ঘাম বের হতে লাগল।
এরা সবাই আজও সক্রিয়।
এবং তারা এখন তার পেছনে।


🔹 শেষ দৃশ্য

রাত তিনটা।
বাতি নিভে গেছে।
বাইরে সাইরেন বাজছে।
দরজায় কড়া নাড়ার শব্দ—
“Open up! Police!”

শফিক বুঝল,
এখন সে শুধু অভিযুক্ত নয়,
বরং সত্যের সাক্ষী।

সে শেষবারের মতো ডেস্কে হাডসনের চিঠি রাখল,
আর লিখল—

“যদি আমি বেঁচে না ফিরি,
জানবে — সত্য এখনো বেঁচে আছে।”

দরজা ভেঙে পুলিশ ঢোকার আগেই
শফিক জানালা দিয়ে ঝাঁপ দিল
অন্ধকার টেমস নদীর দিকে।

জল ছিটকে উঠল,
আর শহরটা আবার নীরব হয়ে গেল...

🔹 অন্ধকারের পর লন্ডন

টেমস নদীর কালো জল রাতের আলো গিলে ফেলছে।
পুলিশের সাইরেন, ভেজা বাতাস আর দূরের ঘড়ির ঘণ্টাধ্বনি—
সব মিলিয়ে শহরটা যেন মৃত মানুষের নিশ্বাস নিচ্ছে।

শফিক সেই নদী থেকে অজ্ঞান অবস্থায় উঠে আসে,
চোখ খোলে এক অচেনা ঘরে।
সাদা দেয়ালে কেবল একটি বাক্য লেখা:





Read more:

“Welcome to The Order.”



🔹 জেগে ওঠা

মাথা কাঁপছে।
কানের পাশে ঠান্ডা ধাতব শব্দ—
সে বাঁধা।

ঠিক তখনই দরজা খুলে কেউ ঢোকে।
মুখে মুখোশ, হাতে ফাইল।

“তুমি আমাদের বিরুদ্ধে গিয়েছো, মি. রহমান,”
কণ্ঠটা যান্ত্রিক।

শফিক উত্তর দিল,

“আমি শুধু সত্য খুঁজছি।”

লোকটি হেসে বলল,

“সত্য?
আমাদের জগতে সত্য বলে কিছু নেই, আছে শুধু আদেশ—The Order।”


🔹 The Order-এর ইতিহাস

লোকটি ফাইল খুলে দেখাল কিছু পুরনো ছবি।
১৮৮০ সালের আদালতের দৃশ্য,
একদল বিচারক কালো পোশাকে দাঁড়িয়ে আছে,
একটি প্রতীকের নিচে—বৃত্তের ভেতর দাঁড়ানো এক চোখ।

“এটাই আমাদের প্রতীক,”
লোকটি বলল।
“আইনের চোখ, যা সব দেখে কিন্তু কিছু বলে না।”

The Order-এর সদস্যরা শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে
বিচার, আইন, এমনকি সরকার পর্যন্ত নিয়ন্ত্রণ করে আসছে।
তাদের মতে, “ন্যায়” মানে নয় সমতা—
ন্যায় মানে স্থিতিশীলতা।


🔹 শফিকের বিচার

একটি কক্ষে তাকে নিয়ে যাওয়া হলো।
চৌকাঠের ওপারে দশজন মুখোশধারী বসে আছে,
কেন্দ্রে কালো পোশাকে এক নারী—
রুকাইয়া!

“রুকাইয়া?”
শফিকের চোখে বিস্ময়।

সে শান্ত গলায় বলল,

“আমি তোমাকে বাঁচাতে পারিনি, শফিক।
তারা আমাকে বাধ্য করেছে এই আদালতের অংশ হতে।”

শফিকের কণ্ঠ ভেঙে গেল—

“তুমি জানো, আমি নির্দোষ!”

“নির্দোষ আর অপরাধী—
এই দুই শব্দ The Order-এর কাছে একই।”

লোকেরা হাত তুলে নিল,
আদালতের মতো কণ্ঠ ভেসে এলো—

“Guilty or Innocent—by the will of Order.”


🔹 অদ্ভুত রায়

আলো নিভে গেল।
চারপাশ অন্ধকার।
শফিক শুধু রুকাইয়ার কণ্ঠ শুনতে পেল—

“তারা তোমাকে মুক্তি দেবে,
কিন্তু এক শর্তে—
তুমি আমাদের হয়ে কাজ করবে।”

“না!”

“তাহলে তোমার মৃত্যুর কপি আদালতে যাবে কাল সকালে।”

তার শরীরের বাঁধন খুলে গেল,
আর দরজা নিজে থেকেই খুলে গেল।
বাইরে লন্ডনের রাত—
কিন্তু এই শহর আগের মতো নেই।


🔹 সত্যের খোঁজে ফিরে আসা

শফিক নিজের চেম্বারে ফিরে এলো।
সবকিছু এলোমেলো।
এমা কোথাও নেই, কম্পিউটার ফাইল মুছে গেছে।

ড্রয়ার খুলতেই একটি নোট পেল:

“They know you are alive.”

তারপর একটি USB ড্রাইভ।
ভেতরে ছিল ভিডিও—
রুকাইয়া পুলিশের হাতে ধরা পড়ছে,
পেছনে The Order-এর লোগো ঝলমল করছে।

“না!”

শফিক বুঝল, এখন তার একটাই কাজ—
এই সংগঠনের মুখোশ খুলে দেওয়া।


🔹 রহস্যের ফাঁদ

শফিক কোর্টে এক নতুন কেস নিল:
“People vs. A. Hudson Foundation”

এই ফাউন্ডেশন আসলে The Order-এর ফ্রন্ট।
দাতব্য প্রতিষ্ঠানের নামে তারা অর্থপাচার,
রাজনৈতিক প্রভাব আর বিচার ব্যবস্থার লেনদেন চালায়।

সে নিজের জীবন বাজি রেখে প্রমাণ সংগ্রহ শুরু করল।
রাতের লন্ডনে, পরিত্যক্ত ভবনে,
পুরনো আর্কাইভে,
শফিক একে একে সত্যের টুকরোগুলো জোড়া লাগাতে লাগল।


🔹 ষড়যন্ত্রের কেন্দ্র

Read more:

একদিন গভীর রাতে,
সে প্রবেশ করল লন্ডন আন্ডারগ্রাউন্ডের এক পুরনো টানেলে।
সেখানে The Order-এর গোপন সভা বসে।
চোখে পড়ল বিশাল ঘর,
মাঝখানে সেই প্রতীক—
বৃত্তের ভেতর দাঁড়ানো চোখ।

সদস্যরা সবাই মুখোশ পরে বসে আছে।
তাদের সামনে একটি স্ক্রিনে দেখা যাচ্ছে লাইভ ভোট:
“Should Shafiq Rahman be eliminated?”

৭ ভোট “Yes”, ৩ ভোট “No”।

তারপর এক পরিচিত কণ্ঠ—

“Stop! I object!”

রুকাইয়া ঢুকল হাতে বন্দুক নিয়ে।

“আমি আর এই মিথ্যার অংশ নই!”


🔹 রক্তের বিচার

সবকিছু মুহূর্তেই বিশৃঙ্খল হয়ে গেল।
বন্দুকের গর্জন,
ধোঁয়া,
আতঙ্ক।

শফিক রুকাইয়াকে টেনে পাশে নিল,

“চলো, এখান থেকে পালাতে হবে!”

তারা টানেলের শেষ প্রান্তে পৌঁছাল।
পেছন থেকে The Order-এর মানুষ ধেয়ে আসছে।
রুকাইয়া থেমে বলল,

“তুমি বেরিয়ে যাও, শফিক।
আমি ওদের থামাব।”

“না, তুমি একা পারবে না!”

“এটাই আমার বিচার।”

সে পেছনে ফিরে তাকিয়ে হাসল—
তার চোখে জ্বলজ্বল করছিল শান্তি।
তারপর এক বিস্ফোরণ—
টানেল কেঁপে উঠল।


🔹 অন্ধকারের মুখোমুখি

Read more:

ধোঁয়ার ভেতর থেকে শফিক হাঁপাতে হাঁপাতে বেরোল।
বাইরে সূর্য উঠছে।
লন্ডনের রাস্তায় পুলিশ, সাংবাদিক, অ্যাম্বুলেন্স।
The Order-এর সদর দপ্তর ধ্বংস হয়ে গেছে।

শফিকের হাতে রুকাইয়ার দেওয়া শেষ চিঠি:

“ন্যায়বিচার তখনই সত্যি হয়,
যখন কেউ নিজের ভয়কে জ্বালিয়ে আলোর পথ দেখায়।”

সে আকাশের দিকে তাকাল,
চোখে জল, মুখে দৃঢ়তা।

“রুকাইয়া, আমি তোমার পথেই চলব।
The Order শেষ হয়নি—আমি শেষ করব।”


🔹 ধোঁয়ার পরে ভোর

বিস্ফোরণের পর লন্ডনের আকাশ ধূসর।
পুলিশ ঘিরে রেখেছে ভেঙে পড়া টানেল।
শফিক বেঁচে গেছে, কিন্তু রুকাইয়ার চিহ্ন মিলছে না।

ডাক্তার বলল, > “You’re lucky to be alive, Mr. Rahman.”
কিন্তু তার মাথায় একটাই প্রশ্ন ঘুরছে —
রুকাইয়া কি সত্যিই মরে গেছে, নাকি The Order তাকে আবার টেনে নেবে অন্ধকারে?


🔹 আদালতে ফিরে আসা

তিন সপ্তাহ পরে।
লন্ডনের হাইকোর্ট আবার চলছে, তবে শফিক এখন আসামি নয়—
সে নিজেই বাদী।

Case: “Shafiq Rahman vs The Order (Unknown Entity)”

জজ বললেন,

“Mr. Rahman, আপনার অভিযোগ প্রমাণের জন্য সাক্ষী কোথায়?”

শফিক শান্ত গলায় উত্তর দিল,

“শেষ সাক্ষী আজ নিজেই আসবেন, মাই লর্ড।”




Read More:





🔹 প্রমাণের টেবিল

তার সামনে রাখা USB ড্রাইভ, যেটা রুকাইয়া তাকে দিয়েছিল।
তাতে রেকর্ড আছে The Order-এর সভা, রাজনীতিকদের চুক্তি, আর আদালতের ঘুষের নথি।

যখন ভিডিওটা স্ক্রিনে চলল,
ঘরটা চুপ হয়ে গেল।
বিচারকদের মধ্যে একজন চমকে উঠলেন—
কারণ ভিডিওতে তাঁর নিজের চেহারা!


🔹 সত্যের মুখোমুখি

প্রসিকিউশন হাসল,

“এই ভিডিও ভুয়া! এটা ডিপফেক!”

শফিক বলল,

“তাহলে এটা কি মিথ্যা?”

সে আরও একটি ভিডিও দেখাল—
এক গোপন ঘরে রুকাইয়া দাঁড়িয়ে বলছে,

“যদি আমি বেঁচে না থাকি, জানবে এই প্রমাণগুলো আসল।”

পুরো আদালত নিস্তব্ধ।

Read more:


🔹 শেষ সাক্ষী

দরজা খুলে কেউ ঢুকল—
একজন মহিলা, চোখে কালো চশমা, হাঁটার ভঙ্গি পরিচিত।
জজ বিস্ময়ে বললেন, > “State your name.”

“Ruqaiya Hudson.”

পুরো কোর্টরুম কেঁপে উঠল।
রুকাইয়া বেঁচে!

সে বলল,

“আমি The Order-এর সাবেক সদস্য। আমি নিজ চোখে দেখেছি কীভাবে আইনকে অস্ত্র করা হয়।
আজ আমি শেষ সাক্ষী হিসেবে সব কিছু বলব।”


🔹 রুকাইয়ার স্বীকারোক্তি

রুকাইয়া জানাল,
The Order বিচারের পর্দার আড়ালে রাজনীতি আর অর্থের নিয়ন্ত্রণ নিত।
হাডসন বংশ ছিল এই সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা, আর সে ছিল শেষ উত্তরসূরি।

“আমি তাদের থেকে বের হতে চেয়েছিলাম, তখন তারা আমাকে ‘মৃত’ ঘোষণা করে।
ডেভিড মরগ্যান ছিল তাদের ডাবল এজেন্ট।”

জজ চোখে চশমা খুলে বললেন,

“This is beyond law, Ms. Hudson. This is a revolution.”


🔹 শেষ লড়াই

ঠিক তখনই বাইরে বিস্ফোরণ।
কোর্টরুমের দরজা ভেঙে ঢুকে পড়ে মুখোশধারী তিনজন মানুষ।
তাদের বুকে The Order-এর প্রতীক।

রুকাইয়া চিৎকার করে বলল,

“শফিক, প্রমাণগুলো নাও এবং ওয়েব সার্ভারে আপলোড করে দাও!”

শফিক ল্যাপটপে দ্রুত টাইপ করতে লাগল।

“Uploading… 96%…”

একজন মুখোশধারী গুলি ছুঁড়ল, রুকাইয়া বুকে লাগল।

“Finish it, Shafiq…”

১০০%। ফাইল লাইভ হয়ে গেল।
বিশ্বের মিডিয়া তখনই The Order-এর গোপন তথ্য দেখতে পেল।


🔹 শেষ আলো

রুকাইয়ার চোখ বন্ধ হচ্ছে।
সে হেসে বলল,

“এবার সত্য স্বাধীন…”
তার হাত নামল, আর চোখে চিরকালীন শান্তি।

শফিক চুপচাপ তার হাত ধরে রইল।
বাইরে আকাশে সূর্য উঠছে।
অন্ধকার শহরের বুকে আলোর আঁচ পড়েছে।


🔹 শেষ রায়

এক সপ্তাহ পরে।
আন্তর্জাতিক সংবাদে শিরোনাম—
“The Order Exposed: Top Officials Arrested.”

লন্ডন হাইকোর্ট ঘোষণা করল:

“The Order is hereby dissolved.”

শফিক জানাল, > “ন্যায়বিচার সবসময় মানুষের মধ্যে ছিল, কেবল আমরা ভুলে গিয়েছিলাম।”


🔹 উপসংহার

Read more:

রুকাইয়ার কবরের পাশে দাঁড়িয়ে শফিক বলল,

“তুমি ছিলে আমার শেষ সাক্ষী, রুকাইয়া।
আমি তোমার আলো বাঁচিয়ে রাখব।”

তারপর সে নিজ কলমে লিখল এক বই—
“The Last Witness: Truth vs Law”

বইটি হলো এক নতুন যুগের প্রতীক—
যেখানে আইন অন্ধ নয়, বরং দেখতে শিখেছে মানুষের হৃদয়।


🔹 Call To Action (CTA)

🔹 এই থ্রিলার সিরিজ শেষ হলেও প্রশ্নটা রয়েই গেল—
🔹 আপনি হলে কি The Order-এর সদস্য হয়ে ন্যায় রক্ষা করতেন, না সত্যের জন্য সব হারাতে রাজি হতেন?

আপনার উত্তর কমেন্টে লিখে জানান 👇
আর এমন রহস্যময় গল্প পড়তে “লেখা লেখি ৫৫” ব্লগটি ফলো করুন 🔔



🔹 SEO Keywords

বাংলা থ্রিলার গল্প, রহস্য গল্প, শেষ সাক্ষী, অন্ধকারের শহর, বাংলা সিরিজ স্টোরি, দ্য অর্ডার, লিগ্যাল থ্রিলার, রোমাঞ্চকর গল্প, বাংলা গল্প ২০২৫




Post a Comment (0)
Previous Post Next Post