ব্রাজিল থেকে আর্জেন্টিনা
১.
১৯৮৬ ফজরের নামাজ পড়েই আমিন পূর্বে গোছানো ব্যাগটি নিয়ে ফরিদপুরের উদ্দেশ্যে রওনা দিল । এর আগেও ছয় মাস আগে সে ফরিদপুর গিয়েছিল দলবেঁধে তাই রাস্তাঘাট সহ সবকিছুই তার আয়ত্তের মধ্যে সে গাবতলী বাসে ওঠার জন্য বাসাবো চলে গেল।
প্রথমে গুলিস্তান যাবে, ওখান থেকে সরাসরি গাবতলীর বাস স্ট্যান্ডে গিয়েই টিকেট কাটা যাবে । বাসে উঠে সরাসরি গিয়ে নামবে পাটুরিয়া ঘাট। ওপারে যাওয়ার জন্য বাস কোম্পানিরই লঞ্চ আছে সেটাই উঠবে, ওপারে গিয়ে এই বাস কোম্পানিরই বাস দাঁড়িয়ে থাকবে, সেটা দিয়ে সরাসরি ফরিদপুর গিয়ে নামবে ভাড়া মাত্র ৫০ টাকা।
এই সময় আমিনের মনটা যেতে সায় দিচ্ছিল না কারণ সে খেলা পাগল। আর ফুটবল খেলা হলে তো কথাই নেই, বিশ্বকাপ চলছে, আমিন ব্রাজিলের সাপোর্টার। ব্রাজিলের সব খেলোয়াড়ের নাম সে জানে। তাদের সব খোঁজখবর সে রাখে। বর্তমান সময়ের মতো লম্বা ফ্ল্যাগ টানানোর প্রচলন ছিল না। তাই আমিন ও টানাতোনা ।তখন খুব একটা টেলিভিশনে বিশ্বকাপের খেলা দেখাতো না ৮২ সালে শুধুমাত্র সেমিফাইনাল ফাইনাল থেকে খেলা দেখানো শুরু হতো। ৮৬ এ দর্শকদের চাহিদায় বিশেষ বিশেষ খেলা এবং তৃতীয় রাউন্ড ও কোয়াটার কোয়াটার ফাইনাল থেকে খেলা দেখানো শুরু করেছে। ফরিদপুর যাওয়ার জন্য বিশ্বকাপের খেলা দেখা যায় কিনা তা আমিনের চিন্তার মধ্যে ছিল। কারণ তখন এত খেলার পাগলামি ছিল না, যদি হোটেলে টেলিভিশন না থাকে তবে দেখা আর হবে না। কিন্তু কাজটা অত্যন্ত জরুরী আমিনের আব্বা ভালো ব্যবসায়ী ছিল, বর্তমানে অসুস্থতার কারণে তিনি ব্যবসা থেকে দূরে। কাঠের স মিলে ইনভেস্ট আছে। আর তার যে পুরানো ব্যবসা ছিল ইম্পোর্ট এক্সপোর্ট তা করা এখন আর তেমন একটা হয়ে ওঠেনা। উনার পুরানো ব্যবসায়িক বন্ধু হাফিজ সাহেব জানালেন,
“ ভাই একটা বালতি টুয়ার ইন্ডাস্ট্রির কাগজ বানিয়ে রাখেন তাহলে ফ্রি ইমপোর্ট পারমিশন পাবেন। যদি আপনি পারমিশনটা বাইরেও বেঁচে দেন তাহলে বেশ কিছু টাকা পাবেন। কারণ ইন্ডাস্ট্রিয়াল সরকারি দপ্তরে আপনার ভালো জানাশোনা আছে এই সুযোগটা ছাড়বেন না। "
যেই কথা সেই কাজ উনি দুই তিনটা ইন্ডাস্ট্রি র কাগজ বের করলেন। তাতে দেশের ঠিকানা দেওয়া হল। আমিনের নামেও একটা ছিল। " আমিন বাকেট রিজিং ইন্ডাস্ট্রিজ " দেশে ঠিকানায় দেওয়া, তখন তাদের দেশের জেলা হল ফরিদপুর তাই ইনকাম ট্যাক্সের কাগজ করে আনতে হবে ফরিদপুর থেকে। হাফিজ সাহেবের পরামর্শ মত ওখানে একজন উকিলের সাথে দেখা করলেই তিনি সব ব্যবস্থা করে দিবেন। তাই আমিন- এর ফরিদপুর যাত্রা।
২.

ফরিদপুর কোর্ট এলাকা
যথাসময়ে সে ফরিদপুর পৌঁছালো নেমে তাদের পুরানো বন্ধু (ছয় মাস আগে যার সাথে বন্ধুত্ব হয়েছিল)মন্টুর স্টুডিওর অপজিটে পদ্মা হোটেলে উঠলো। এখানে ওঠার কারণ মন্টুর সাথে সব সময় যোগাযোগ রাখা যাবে। মন্টুর থেকে সাহায্য পাওয়া যাবে আর খুব একটা দূরেও নয় কোর্ট কাচারি কিংবা কিংবা উকিলের অফিস। পৌঁছেই সে উকিলের কাছে চলে গেল উকিল বলল,
" আজকে তো ভাই বন্ধের সময় তাই আগামীকাল সকালে চলে আসুন।"
আমিন হোটেলে চলে আসলো। এসে গোসল করে একটু রেস্ট নিয়ে মন্টুর স্টুডিওর দিকে রওনা দিল, আগেই সে দুপুরের খাবার খেয়ে নিয়েছিল। অপজিটে মন্টুর দোকান ওখানে যেয়ে দেখল, মন্টু বসে আছে, হেসে আমিনকে অভ্যর্থনা জানালো, বললো,
দোস্ত কি খবর?"
আমিন বলল,
" দোস্ত একটা কাজে এসেছি কয়েকদিন থাকবো ।"
দুজনে মিলে অনেকক্ষণ গল্প করল।
এশার পরে পাশের এক হোটেলে খাওয়া দাওয়া করে আমিন হোটেলে চলে আসলো। এই হোটেলে কোন টেলিভিশন নেই তখন মফস্বলের হোটেলগুলোতে তেমন একটা টেলিভিশন থাকতো না তাই আমিন খেলা দেখার ব্যাপারে একটু চিন্তায় পড়ে গেল, কি করা যায়?
অন্য কোন দলের খেলা না দেখলেও ব্রাজিলের খেলা, তার দেখতেই হবে কালকে যদি কাজ শেষ করে চলে যাওয়া যায় তবে চিন্তার কিছু নেই ঢাকায় গিয়েই খেলা দেখা যাবে, তবে অন্যান্য টিমের খেলা গুলো দেখা গেল না সেগুলো মানা যায় কিন্তু ব্রাজিলের খেলা দেখা যাবে না এটা মানা যাচ্ছে না ।
৩.
পরদিন যথাসময়ে কোর্টে চলে গেল, ঢাকা সহ ফরিদপুরে তখন হরতাল শুরু হয়েছে। উকিল সাহেব বললেন,

" সবকিছু রেডি করে রাখলাম কিন্তু হরতাল শেষ না হওয়া পর্যন্ত সরকারি অফিসে কাগজ জমা দেওয়া যাবেনা। "
আমিন কি করবে হোটেলে চলে আসলো। পরের দিনও একই ঘটনা, হরতাল চলমান। আমিন একটু বিপদে পড়ে গেল উকিল সাহেবকে বলল,
" বাসায় একটু ফোন করতে হবে। "
উনি ব্যবস্থা করে দিলেন। ফোন করে আমিন তার আব্বাকে বলল,
"আব্বু হরতালের কারণে কোন কিছুই তো করা যাচ্ছে না আর হোটেলে থেকে খেয়ে, আমার টাকাও শেষের দিকে ।"
আব্বু বলল,
" তুমি একটু অপেক্ষা কর আমি দেখছি কি করা যায়। হাফিজ সাহেবের সাথে একটু আলাপ করতে হবে ।"
পরের দিন ফোনের সামনে অপেক্ষমান অবস্থায় আব্বু আবার কল ব্যাক করল বলল,
" টাকার চিন্তা করোনা, হাফেজ সাহেব উকিল সাহেবকে ফোন দিচ্ছে, উনিই সব ব্যবস্থা করে দিবেন।"
যাহোক উকিল সাহেব ৫০০ টাকা আমিনের হাতে তুলে দিলেন এবং বললেন,
"হাফেজ সাহেব বলেছে এবং কাগজ জমা দেওয়ার খরচ উনি আমাকে দিতে বলেছে, উনি ঢাকা থেকে সব পাঠিয়ে দিবে আপনি কোন চিন্তা করবেন না ।"
আমিনের মন দুশ্চিন্তা মুক্ত হলো ।

৪.
গতকালকে পকেটে টাকা থাকা সত্ত্বেও কি খাবে, কি খাবে না চিন্তা করেছিল তখন মন্টু কিভাবে যেন বুঝতে পেরেছিল টাকা সাধলে আমিন অপমানিত বোধ করে কিনা সেই জন্য ওই রাস্তায় না গিয়ে বলল,
" দোস্ত চলো আমার বাসায়। "
আমিন তার সাথে গেল সে হঠাৎ করেই খাবার তার সামনে এনে হাজির করলো। আমিন কি করবে, দুধ কলা এবং ঝোলা গুড় দিয়ে দুপুরের খাবার সারলো।
মন্টু কিছু না বললেও আমিন বুঝতে পারলো তার বেগতিক অবস্থা দেখেই মন্টু এই কাজ করেছে তার কর্মে আমিন কৃতজ্ঞতা বোধ করলো।
দুশ্চিন্তা মুক্ত হলেও আমিনের মনে একটা খারাপ অবস্থান ছিল বিশ্বকাপের খেলা গুলো তো দেখা যাচ্ছে না, কারণ কাজ কবে শেষ হয় তার তো কোন ঠিক নেই। সেই সময় হোটেলে এসে পেপারে দেখল, আজকেই ফ্রান্স এবং ব্রাজিলের কোয়াটার ফাইনাল। আমিনের মাথায় হতাশার বাজ ভেঙে পড়ল। সোজা মন্টুর ওখানে চলে গেল দেখলো মন্টু স্টুডিওতে কাজ করছিলো। আমিন চুপচাপ বসেছিল। মন্টু বলল,
" কি ব্যাপার দোস্ত মন খারাপ কেন?"
আমিন বলল,
" আজকে ব্রাজিলের খেলা। আমি ব্রাজিলের সাপোর্টার, কিন্তু কি করব খেলা কিভাবে দেখব?"
মন্টু বলল,
" আমিও তো ব্রাজিলের সাপোর্টার। খেলা তো দেখতেই হবে । এক বাড়িতে আমরা সবাই জড় হবো খেলা দেখতে, তুমিও থেকো ।"
আমিনের মনটা বিশাল আনন্দে ভরে গেল।
খেলা আটটার পরে কিন্তু আমিন মাগরিবের পরেই মন্টুর দোকানে গিয়ে বসলো। পৌনে আটটায় মন্টু আমিনকে নিয়ে খেলা দেখতে বেরিয়ে পরল। একটা বাড়িতে গিয়ে হাজির হলো দোতলা বাড়ি দোতলার একটা রুমের ভিতরে ২০ ইঞ্চি লাল রংয়ের সনি টেলিভিশন সাদাকালো। সেই রুমে তিল ধারনের জায়গা নেই। আমিন স্পষ্ট বুঝতে পারল বড় ধরনের খেলা থাকলে ঢাকা স্টেডিয়ামে যেমন সকাল বেলা গ্যালারি পূর্ণ করে রাখে দর্শকরা, এখানেও তার ব্যত্যয় ঘটেনি ।আমিনরা তার আগের রুমে বসলো। সেই রুমে একটা শিকের জানালা আছে সেটার ফাঁক দিয়ে খেলা দেখা যাবে । মন্টু আমিন কে অন্যদের থেকে একটু ভালো জায়গায় বসালো। আমিনের মন খুশি যাহোক খেলা তো দেখা যাবে। বাসায় খেলা দেখে বাবা ভাই বোনকে নিয়ে রঙ্গীন টিভিতে, আম্মু সাধারণত খেলা দেখেন না মাঝে মধ্যে এসে কিছু খাবার দাবার দিয়ে যান। সেই ফাঁকে হয়তো একটু বসে। প্রচুর খালি জায়গা থাকে কালার টেলিভিশন সাথে খাবারও আছে, কিন্তু এখানে বসাই তো কষ্টসাধ্য, বর্তমান বয়স হলে আমিন দেখত না, কিন্তু তখন বয়স অল্প থাকার কারণে সে মোটামুটি ক্লিয়ারিই দেখছিল।
৫.
আমিন অনেক ধৈর্য সহকারে এবং গুরুত্ব সহকারে খেলা দেখা শুরু করল। ব্রাজিলের খেলোয়াড় তালিকায়
১.গোলকিপার কার্লোস
২.সক্রেটিস
৩.সিজার
৪.জুনিয়র
৫.এডিনহো
৬.জো ব্লাঙ্কো
৭. কারেকা
৮.এলেমাও
৯.সানগ্রাসাগ্রান্ডে
১০.জিকো
১১.জসিমার
১২.মুলার এর নাম দেখতে পেল।
এর পরেই ফ্রান্সের স্কোয়াডের নাম দেখানো শুরু করল
১.গোলকিপার বেটিসন
২. বসিস
৩.টুসেও
৪.ফার্নান্দেজ।
৬.এমারস
৭.কিরিসে
৮.রসেটু
৯.স্টপিরা
১০.প্লাটিনি
১১.টিগানা
১২.পেপিন ইত্যাদি নাম দেখা গেল।

ফ্রান্সের ওয়ালপাস আক্রমণ পোষ্টের বাইরে দিয়ে যায়, শর্ট গোলকিপার প্রতিহত করেন। ১৬ মিনিটের সময় তিন জনের ওয়ালপাস থেকে ব্রাজিল ফরওয়ার্ড করেকা গোল করলে রুমের মধ্যে আনন্দের বন্যা বয়ে যায়। বুঝতে আর বাকি থাকে না এখানে সবাই ব্রাজিল।
ফ্রান্সের শর্ট গোলকিপার ধরতে ব্যর্থ হলেও ডিফেন্ডার কর্নারের বিনিময়ে বাঁচান।
এরপর ব্রাজিলের ফরোয়ার্ড কারেকার ক্রস ফরওয়ার্ড পোস্টবারে মেরে একটি গোল নস্যাৎ করেন।
সক্রেটিসের দূরপাল্লার একটি জোগান ফরওয়ার্ড বাড়ে লাগিয়ে মূল্যবান সুযোগ নষ্ট করে।
৪০ মিনিটের সময় ফ্রান্স ফরওয়ার্ডের পাঠানো ক্রস স্ট্রাইকার মাথা লাগাতে ও ব্রাজিলের গোলকিপার কার্লোস ধরতে ব্যর্থ হলে প্লাটিনি ঠান্ডা মাথায় গোলটি শোধ করেন। ঘরে পিন পতন স্তব্ধতা নেমে আসে অনেকটা শোকের মতো বললেই ভালো শোনা যায়।

এরপরে সক্রেটিসের একটি বাড়ানো বলে জোসিমার ক্রস করলে করেকার হেড গোলরক্ষক বেটিসন পাঞ্চ করে বাঁচিয়ে দেন। ঘরে গালমনদের বন্যা বয়ে যায়,
এই গাল মন্দের ঘটনায় আমিনের স্কুল লাইফের একটি ঘটনা মনে পড়ে যায়।
৬.
"স্কুল ফুটবল লীগ চলছে আমিনদের স্কুল গত খেলায় খুবই ভালো করেছে একটা ভালো টিমকে ১- ০ গোলে হারিয়ে দিয়েছে খেলা হচ্ছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাঠে।এরপরে খেলায় জিতলেই সেমিফাইনালে যাবে। বিপক্ষ দল খুব একটা স্ট্রং না,কিন্তু তাদের গোলকিপার আমীনদের স্কুলের সব আক্রমণ নস্যাৎ করে দিচ্ছিল। তার এই সুন্দর খেলার জন্য তাকে বাহবা জানানো উচিত ছিল, কিন্তু তা তো হলোই না, হল তার উল্টা। খেলা শেষে আমিনরা ইউনিভার্সিটি রাস্তা দিয়ে একটা লাকড়ির ঠেলাগাড়ি যাচ্ছিল, তার থেকে ৫-৬ টা লাকড়ি তুলে নিলো গোলকিপারকে প্রচন্ড পিটুনি দিল। ইউনিভার্সিটির ছাত্ররা এসে বাধা দিল. তখন যে যার মত দৌড়ে বিভিন্ন স্থানে পালিয়ে গেল। আমিন এবং আমিন এর বন্ধু পালালো না, কারণ বিপক্ষ স্কুল তাদের বাড়ির পাশে এবং এর গভর্নিং বডির সভাপতি আমিনের বন্ধুর বড় ভাই, সুতরাং আমিনরা নো চিন্তা ডু-ফূর্তি স্টাইলে দাঁড়িয়ে রইল। তাদের দাঁড়ানোর ভঙ্গি দেখে ইউনিভার্সিটি ছেলেরা তাদেরকে নিরপরাধ ভাবল, কিছুই বলল না, কিন্তু তাদের সামনেই তাদের গেম টিচার কে কান মলে দিল।
আমিনরা জানে এখন কিছু বলতে গেলে বিপদ হবে তাই তারা না চেনার না জানার ভান ধরল। এখানে সাপোর্টাররা বিপক্ষ দল ভালো খেললে কোন প্রশংসা করে না, উল্টো পিটুনি দেয়।
আরেকটি ঘটনা আমিনের মনে দোলা দিল। আমিন এমনিতে নিরীহ হাঙ্গামা মারামারি থেকে দূরে থাকে, কিন্তু সেদিন আমিনের কি হলো তা সে নিজেই জানে না খেলা হচ্ছে মোহামেডান বনাম রহমতগঞ্জ,
মোহামেডান স্ট্রং টিম আর রহমতগঞ্জ অনেক দুর্বল টিম কিন্তু মোহামেডান রহমত গঞ্জের সাথে ড্র করে ফেলল। এখানে রহমতগঞ্জ ভালো খেলেই ড্র করেছে। রহমতগঞ্জকে প্রশংসা করা উচিত ছিল কিন্তু তা তো করলোই না উপরন্ত আমিন এবং আমিনের বন্ধু বাইরে এসে পুলিশকে ঢিল মারা শুরু করল। এখন সে মনে মনে ভাবে, আরে মোহামেডান ড্র করেছে তার দোষে, রহমতগঞ্জ বাধ্য করেছে বা ড্র করেছে তার যোগ্যতা দেখিয়ে, এখানে পুলিশের দোষ কোথায় ছিল? সেই স্মৃতিচারণ করে এখন সে মনে মনে হাসে। আর নিজের পুরনো জীবনের কথা ভেবে আফসোস করে পৃথিবীর কি অবস্থা জানিনা তবে এখন আমিন এটুক জানে বাংলাদেশে সাপোর্ট করা দল হেরে গেলে বিপক্ষ দলকে পিটানোটাই আদর্শ।
৭.
এই বিশ্বকাপের এই খেলার এক নির্মম মুহূর্ত এসে হাজির হলো ব্রাজিলের এক প্লেয়ারের যোগান দেয়া বল নিয়ে বক্সে ছুটে যাওয়ার সময় গোলকিপারের সাথে ধাক্কা লেগে পড়ে গেলে রেফারি পেনাল্টি দেন। ঘরে আনন্দের বন্যা বয়ে যায় সবাই উঠে দাঁড়িয়ে গেল, সকলের মনে দুঃখ দিয়ে গোলকিপার বেটিসন জিকোর শর্টটি ফিরিয়ে দেন। ব্রাজিলের দুজন খেলোয়ার সামনে ছিল তাদের বোকা বানিয়ে ডিফেন্ডার বলটি মাঠের বাইরে বের করে দেন কর্নারের বিনিময়ে।
এখন আর বাগ বিতন্ডা হলো না সবাই নিস্তব্ধ হয়ে গেল।
ফ্রান্সের একটা শর্ট গোলকিপার কার্লোস ফিরিয়ে দিলেন।
এরপর পরপরই জোসিমারের একটা ক্রস ব্রাজিলের ফরোয়ার্ড হেড করে গোল দিতে চেষ্টা করলে তা নিপুনভাবে ফ্রান্স গোলকিপার বেটিসন ফিরিয়ে দেন। জিকো পড়ে গিয়ে ফাউলের ভান ধরলেও রেফারি তাতে কর্ণপাত করেনি।
এরপর ব্রাজিল ফরওয়ার্ড জুনিয়রের শর্ট গোল বারের অনেক উপর দিয়ে গেলে স্কোর লাইন অপরিবর্তিত থাকে প্লাটিনি চার পাঁচ জনকে কাটিয়ে শর্ট না নিতে পারলে ফিরতি বলে আরেক ফ্রেঞ্চ ফরওয়ার্ড শর্ট করলে ডিফেন্স -এ তা প্রতিহত হয়।
খেলা অতিরিক্ত সময়ে গড়ায় জোসিমারের ক্রস সক্রেটিস পা লাগাতে ব্যর্থ হলে ব্রাজিল নিশ্চিত গোল হতে বঞ্চিত হয়।
৮.

এরপর শুরু হয় পেনাল্টি মহারণ, ফ্রান্সের জোয়েল বেটস ফিরিয়ে দেয় সক্রেটিসের পেনাল্টি শর্ট ঘরে হাহাকার পরে যায়। ঘরে তিন পতন স্তব্ধতা নেমে আসে।
ফ্রান্সের স্টোপিরা গোল করে দলকে লিড এনে দেন।
ব্রাজিলের এলামাও গোল করে সমতা ফিরান।
ফ্রান্সের এমোরস এরপরই গোল করে, গোলকিপার কার্লোস একটুর জন্য বাঁচাতে পারেন নাই।
জিকো মুল খেলায় পেনাল্টি মিস করলেও ট্রাইব্রেকারে মিস করেননি সুন্দর ভাবে একটি গোল করেন।
ব্রুনো বেলনি গোল করে, কিন্তু সেটা বিতর্কিত গোল, প্রথমে বলটি গোলবারে লাগে, তারপরে গোলকিপারের গায়ে লেগে জালে জড়িয়ে যায়। নিয়ম অনুসারে এটা বিতর্কিত। গোল হয়নি, কিন্তু এডিসন এবং ব্রাংকোর প্রতিবাদ সত্বেও রেফারি তা গায়ে লাগান না। এরপরে ব্রাঙ্কো গোল করেন ।
এরপর সবাইকে হতবাক করে দিয়ে মিসেল প্লাটিনি বারের উপর দিয়ে পেনাল্টি মারেন। ধারাভাষ্যকার তখন বলছিল তিনি ইউরোপের তিনবারের সেরা প্লেয়ার এবং প্রচুর গোল করেছেন।
খেলা জমে উঠে কিন্তু জুলিয়াস সিজার বল বাড়ে মারলে ব্রাজিলের সব আশা ভরসা সমুদ্রে নিমজ্জিত হয়।
এরপরে ফ্রান্সের লুইজ ফার্নান্দেজ সুন্দর গোল করে ব্রাজিলকে বিদায় করে দিয়ে জার্মানির সাথে সেমিফাইনাল খেলতে চলে যায় মেক্সিকোর গুয়াডালাজারা স্টেডিয়ামে ব্রাজিলের ৮৬ বিশ্বকাপের সমাধি ঘটে।
৯.
খেলা দেখার পরে আমিনের মন বিষাদে ভরে গেল। না দেখলেই বুঝি ভালো ছিল। এভাবে কি হারে, পেনাল্টি মিস করলো পেনাল্টিটা দিতে পারলেই তো জিতে যেত। তাও আবার জিকোর মত প্লেয়ার। সারারাত ঘুমাতে পারলো না ছটফট করলো, কিন্তু পরের দিন ঠিকই কাজে যেতে হল। টক অফ দা টাউন খেলার খবর। হরতাল ছিল না তাই দ্রুত কাগজ জমা দেওয়া হয়ে গেল। উকিল সাহেব বললেন, "ইনশাল্লাহ আগামীকাল রিসিভ কপি পেয়ে যাবেন।আপনি যদি চলে যেতে চান যেতে পারেন। ভাড়া ঠারা আছে তো ?"
আমিন বললো,
"আছে। আপনি চিন্তা করবেন না। তবে আগামীকাল রিসিভ কপি পাওয়ার সাথে সাথে আমি গাড়িতে উঠবো। "
যাই হোক পরদিন রিসিভ কপি পাওয়ার পর উকিল সাহেবের টাকা দিয়ে দেওয়া হলো। কারণ আমিনের কাছে টাকা আছে। আবার ঢাকা থেকে টাকা পাঠাতে তখন অনেক সমস্যা হবে, কারণ এখনকার মত বিকাশের যুগ তখন ছিল না। এস এ পরিবহনের মত টাকা পাঠানোর ব্যবস্থাও তখন ছিল না তাই যাবার খরচটা রেখে সম্পূর্ণ টাকা আমিন উকিল সাহেবকে দিয়ে দিলো।
১০.
এসেই হোটেল ছেড়ে দিয়ে মন্টুর সাথে বিদায় সাক্ষাৎ করে ঢাকার পথে রওনা দিল বাসায় ঢোকার আগেই বাসাবোতে বন্ধু দীপুর সাথে দেখা, আমিন বলল,
"দোস্ত মন অনেক খারাপ ব্রাজিল হেরে গেছে।"
দিপুর সাথে সে সবসময় খেলার আলাপ করে কারণ তারা দুজনেই ঢাকা মোহামেডানের সাপোর্টার ব্রাজিলেরও সাপোর্টার। তাই দুজনের মন এক। অনেক সময় স্টেডিয়ামে গিয়ে একসাথে ঢিলা ঢিলি ও দৌড়াদৌড়ি করেছে। তাই তাকে মনের দুঃখের কথা বলল। দিপু বলল,
" ধুর বাদদে ব্রাজিল, আজকে একটা খেলা হবে আর্জেন্টিনা বনাম ইংল্যান্ড, দেখিস ম্যারাডোনা কিভাবে ষাড়ের মত গুতিয়ে সকলকে নাস্তানাবুদ করে দেয়।"
দিপুর সাপোর্ট না পেয়ে মন খারাপ করে বাসায় ঢুকলো আমিন। বাসায় ঢুকে পেপারে দেখলো, তখন দৈনিক ইত্তেফাক বাসায় রাখে, খেলার পাতায় যেতেই দেখতে পেলো শুধু ম্যারাডোনা আর ম্যারাডোনা । সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ লাগলো আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট বলছেন ম্যারাডোনা ষারের মত গুতিয়ে ইংল্যান্ডকে কুপোকাত করে দেবে।
ম্যারাডোনা বলল,
" খেলার মধ্যে রাজনীতি আনা ঠিক না।”
আমিনের খুব ভালো লাগলো প্রেসিডেন্টের কথা যথার্থ, কারণ আর্জেন্টিনা এবং ইংল্যান্ডের মধ্যে ফকল্যান্ড দ্বীপ নিয়ে যুদ্ধ হয়েছে কিছুদিন আগে, সুতরাং আর্জেন্টিনা বাসী ইংল্যান্ড এর উপরে খুবই বিরক্ত। তাই এই ধরনের কথা হতেই পারে।
১১.
রঙিন ২৪ ইঞ্চি সনি টিভি র সামনে আমিন পরিবার নিয়ে খেলা দেখার শুরু করলো খেলোয়াড়দের নাম তালিকায় আর্জেন্টিনার
১৮ নং এন পমপিডো
৯ নম্বর জে কুসিফো
৫ জে ব্রাউন
১৯ অস্কার রুগেরী
১৬ জে অলাসটিকোছিয়া
১৪ আর সিউসটো
২ এস বাতিস্তা
৭ বুরচাগা
১২ এইচ এনরিকে
১০ ডিয়াগো ম্যারাডোনা
১১ জে ভালডানো
ইংল্যান্ডের
১ পিটার শিলটন
২ জি স্টিভেন্স
১৪ কে স্যানসম
৬ পি ফেনউইক
১৭ পি স্টিভেন্স
৪ জি মোডল
১৬ পিটার রিড
১৮ এস হজ
২০ পি ব্রেস্ডলী
১০ গ্যারি লিনেকার
১২.
২ মিনিটে ম্যারাডোনার ড্রিবলিং এবং এক্সিলেন্ট ব্যাকপ্যাক পাস। আট মিনিটে তার জাদুকরী ড্রিবলিংকে ফাউল করে আটকানো এবং ফ্রি কিক তাকে গোলকিপার পাঞ্চ করে দলকে বাঁচিয়ে দেয়। ১০ মিনিটে ডি বক্সে ফাউল করেও আর্জেন্টিনা পেনাল্টি পায়নি, এবং ১২ মিনিটে আরেকটা আক্রমণ থেকে গোল না হওয়া ২৪ মিনিটে একটি ইংল্যান্ড আক্রমণ গোল কিপার পম্পিডো নস্যাৎ করে দেন। ২৯ মিনিটে ইংল্যান্ড কিপার একটি সুন্দর সেভ করেন ৩১ মিনিটে ম্যারাডোনাকে ফাউল করে ইংল্যান্ড ডিফেন্স গোল ঠেকান ফ্রি কিক বাইরে যায়। একের পর এক আক্রমণে ম্যারাডোনা ইংল্যান্ড ডিফেন্সকে তছনছ করে ফেলল। এভাবে প্রথমার্ধ শেষ হলো দ্বিতীয়ারধের র শুরুতে ৫০ মিনিটের সময় এলো সেই ঐশ্বরিক গোল। ইংল্যান্ড হাত দেখিয়ে সেটাকে প্রতিবাদ করল এতে মনে হয় ম্যারাডোনার ইগো হট হল, এছাড়াও ইংল্যান্ডকে হাত দিয়ে গোল করায় তার মধ্যে একটা লজ্জিত এবং দেখিয়ে দেওয়ার ভাব আসলো। আর তাতেই বাধলো বিপত্তি, ম্যারাডোনার পা থেকে এলো বর্তমান পর্যন্ত বিশ্বকাপের সেরা গোল ৫-৬ জনকে কাটিয়ে মধ্য মাঠের অনেক ভিতর থেকে ৫৪ মিনিটের সময় ম্যারাডোনা স্কোরলাইনকে দুই শুন্য করলো।এ গোলটি এখনো আমিনের চোখে ভাসে এগুলোর পর থেকেই ৮-১০ জনের মত সেও ম্যারাডোনার ফ্যান হয়ে গেল। ম্যারাডোনার ফ্যান হওয়া মানে আর্জেন্টিনার ফ্যান হওয়া। এরপর ইংল্যান্ডের একটি প্রচেষ্টা আর্জেন্টাইন গোলকিপার পম্পেডো নস্যাৎ করে দিল। ৬৪ মিনিটের সময়ের একটি সংঘবদ্ধ প্রচেষ্টা গোলকিপার পাঞ্চ করে দিলে কর্নার থেকেও ইংল্যান্ড স্কোরলাইনে কিছু দিতে পারল না। ৭৮ মিনিটে ইংল্যান্ড ফরোয়ার্ডের একটি হেড সরাসরি পম্পিডোর হাতে পড়ে, ৮০ মিনিটের সময় গেরি লিনেকার স্কোর লাইনকে দুই এক করেন ইংল্যান্ডের অব্যাহত চাপে, খেলার মোড় ঘুরে যাবে কিনা আমিন যখন ভাবছিল, তখন গোল খাওয়ার পরে আর্জেন্টিনা আবার ফুসে উঠলো এবং আবারও সেই দাবরানী শুরু হলো। একাশি মিনিটেই ম্যারাডোনা হ্যাটট্রিক হতে বঞ্চিত হন, তার একটি শর্ট প্রথমবারে লেগে ফিরে আসে। ৮৬ মিনিটের সময় আর্জেন্টিনার ম্যারাডোনার একটি আক্রমণাত্মক শট বার ঘেঁষে মাঠের বাইরে চলে যায়। ম্যারাডোনার একটি ক্রস ভালদানো মাথা লাগাতে ব্যর্থ হো;হলে এইভাবে ৯০ মিনিট শেষে খেলা শেষ হয়, অতিরিক্ত মিনিট সহ। এই খেলা আমিনের জীবনের খেলা দেখার মোড় ঘুরিয়ে দেয় আমিন ব্রাজিল থেকে আর্জেন্টিনায় চলে যায়।
১৩ .

সেমিফাইনালে ম্যারাডোনার জাদুকরী খেলা এবং ২-০ গোলের বিজয়। দুটি দর্শনীয় গোলই ম্যারাডোনার দেওয়া যা এখনো আমিনের চোখে ভাসে। এরপর আসলো সেই স্মরণীয় ফাইনাল যাতে ম্যারাডোনাকে আটকাতে গিয়ে অন্যদের খোলামেলা করে দেন জার্মানি এবং তার ফলাফল হাতে নাতে পায় ৩- ২। আর্জেন্টিনার টিমের কাছে অন্যান্য দলের অবস্থা ছিল বেশ বেগতিক কিন্তু ৯০ বিশ্বকাপে ঘটলো অন্যরকম ঘটনা। পাওয়ার ফুটবলের আর্জেন্টিনা হয়ে গেল রক্ষণাত্মক ।
ক্যামেরুনের কাছে প্রথম খেলায় ওমান বাইকের গোলে হারলেও সোভিয়েত ইউনিয়নকে ২-০ গোলে হারায় আর এই খেলায় তাদের প্রাপ্তি গোলকিপার আহত হলে তার পরিবর্তে নামা গায়কোচিয়া। গোল করেন কেনেজিয়া ও বুরচাগা ।
পরবর্তী খেলায় মনজনের হেডের গোলে এগিয়ে যায় আর্জেন্টিনা আবার রোমানিয়ার হেডের গোলে খেলার সমতা আসে।
রাউন্ড ১৬ তে কেনেজিয়া ও ম্যারাডোনার রসায়নে কেনেজিয়ার গোলে ব্রাজিলকে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় করে আর্জেন্টিনা। সেদিন আমিন খুব খুশি হয়েছিল অথচ চার বছর পূর্বে সে ব্রাজিলের জন্য কেদেছিল।
১৪.
কোয়াটার ফাইনালে রক্ষণাত্মক আর্জেন্টিনার সাথে আক্রমণাত্মক যুগোস্লাভিয়ার সাথে খেলা শুরু হলে বল দখলে বা নিয়ন্ত্রণে যুগোশ্লোভিয়া এগিয়ে থাকলেও আর্জেন্টিনার কাউন্টার আক্রমণগুলোতে ধার বেশি ছিল যুগোশ্লোভিয়ার একের পর এক ধারালো আক্রমণ নস্যাৎ হলেও খেলা শেষ মুহূর্তে আর্জেন্টিনা একটি গোল রেফারি বাতিল করেন আর্জেন্টিনার প্লেয়ারের হাতে লাগার কারণে। এরপর খেলা গরালো পেনাল্টিতে আর্জেন্টিনার প্রথম খেলোয়াড় গোল করেন যুগোশ্লোভিয়ার ১০ নং জার্সিধারী বারে মেরে দলকে পিছনে পিছনে ফেলেন।আর্জেন্টাইন ৭ নং জার্সিধারী প্লেয়ার গোল করেন এরপরে যুগোশ্লোভিয়ার প্লেয়ার গোল করে কিন্তু আর্জেন্টাইন হিরো ম্যারাডোনার শর্ট গোলকিপার ফিরিয়ে দেন, খেলায় টুইস্ট আসে। এরপর যুগোশ্লোভিয়ার খেলোয়াড় গোল করেন কিন্তু আর্জেন্টাইন লম্বা চুলের প্লেয়ার চুলের ঝাকুনি দিয়েও গোল করতে পারেননি বল বারে লাগে। খেলা যুগোশ্লোভিয়ার দিকে ঝুঁকে পড়ে। আর্জেন্টাইন সাপোর্টারদের মনে দুশ্চিন্তার ছায়া পড়ে। এরপর যুগো ৭ নং জার্সির শর্ট ফিরিয়ে দিলে খেলায় চাঞ্চল্য ফিরে আসে ৯ নং জার্সিধারী আর্জেন্টাইন গোল করেন কিন্তু যুগশ্লাভিয়ার প্লেয়ারের শট ফিরিয়ে দিয়ে গায়কোচিয়া আর্জেন্টিনাকে সেমিফাইনালে ইতালির কাছে নিয়ে যান।

খেলা শুরুতেই ম্যারাডোনার শট ইটালিয়ান গোলকিপার ফিরিয়ে দেয় আর্জেন্টিনা ফুটবল দলের ১৬ নং খেলোয়াড়ের শর্ট গোলকিপার ফিরিয়ে দেন এর পূর্বে ১৮ নম্বর জার্সিধারী ইতালিয়ান প্লেয়ার সুন্দর করেগোল করে দলকে এগিয়ে দেয়। এরপরে আর্জেন্টাইন প্লেয়ার ক্যানিজিয়া হেডের মাধ্যমে দর্শনীয় গোল করে খেলায় সমতা ফেরান। এরপরে উভয় দলই আক্রমণ পাল্টা আক্রমণ করে খেলতে থাকলেও খেলায় আর কোন গোল না হওয়াতে অতিরিক্ত সময় পার হয়ে খেলা পেনাল্টিতে গড়ায় ।
ইতালির আগস্টিনি গোল করে এরপরে আর্জেন্টিনার ১৮ নং জার্সিধারী গোল করেন।
এরপরে ইতালির ১৫ নং জার্সিধারী প্লেয়ার গোল করেন আর্জেন্টাইন ৭ নং জার্সিধারী বুরচাগা আরো একটি সুন্দর গোল করেন।
এরপরে ইটালিয়ান প্লেয়ার বারেসী গোল করেন আর্জেন্টাইন স্টেরিজিলা একটি গোল করেন, কিন্তু ইটালির ১৭ নং জার্সিধারী প্লেয়ারের শর্ট গাইকোচিয়া ফিরিয়ে দেয় এবং ম্যারাডোনা সুন্দর গোল করে খেলায় টুইস্ট আনেন আবারো গাইকোচিয়া ইতালিয়ান প্লেয়ার এর পেনাল্টি প্রতিহত করলে খেলায় আর্জেন্টিনা ফাইনালে চলে যায়।
১৫.
ইতালি র এই বিদায় আর্জেন্টিনাকে সমস্যায় ফেলে তারা স্বাগতিকদের শত্রুতে পরিণত হন এবং সমর্থন হারান।
ফাইনালে জার্মানি আর্জেন্টিনা কে কোনঠাসা করে ধরে তারা একের পর এক আক্রমণ চালাতে থাকে তাদের আক্রমণে আর্জেন্টিনা এমনই হিমশিম খাচ্ছিল যে কাউন্টার অ্যাটাক করার কোন সুযোগ তারা পাচ্ছিল না, কিন্তু ডিফেন্স এবং গোলকিপার গাইকোচিয়ার একের পর এক সেভে জার্মানির সমর্থকদের উৎকণ্ঠায় ফেলে দেয়, যাহোক যখন তারা পেরে উঠতে পারছিল না, তখন হয়তো তারা রেফারি কোডেসলের সহায়তা লাভ করে। রেফারী আর্জেন্টিনার চৌকষ ডিফেন্সের প্লেয়ার ১৫ নং জার্সিধারীকে সামান্য কারণে লাল কার্ড দেখায়।
তাতেও যখন সমাধান হচ্ছিল না তখন সে সামান্য একটা কারণে একটা পেনাল্টি দিয়ে বসে। সেই পেনাল্টিতে ব্রেহেমে গোল করে জার্মানিকে এগিয়ে দেয়। আর্জেন্টিনা মরণ কামড় দেবে তার উপায় রইল না যখন ৯ নং জার্সিধারীকে লাল কার্ড দেখানো হয়। এভাবেই আর্জেন্টিনার প্রতিরোধকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে জার্মানিকে ৯০ বিশ্বকাপটা তুলে দিল।

এই খেলায় আমিনের মনে বিশেষ কষ্ট হলো। ৮৬ সালে কান্না থেকে ব্রাজিল আউট হয়ে গিয়েছিল তার মন থেকে, কিন্তু ৯০ এর কান্নায় আর্জেন্টিনার প্রতি ভালোবাসা তার আরো বৃদ্ধি পেলে।
###

এরপরে আমিনের জীবনে কত বিশ্বকাপ এলো আর গেল, আর্জেন্টিনা চ্যাম্পিয়ন না হলেও সে আর সাপোর্ট থেকে সরলো না কারণ ওই ম্যারাডোনা, কারণ এটা ম্যারাডোনার দেশ, এরপরেও ব্রাজিল দুইবার চ্যাম্পিয়ন হলো কিন্তু আমিনের তাতে কিছু গেল আসলো না। তার প্রিয় হল ওর্তেগা, রিকলমে, বাতিস্তুতা এরা, কিন্তু রোনাল্ডো, রোমারিও তার প্রিয় হল না।
এরপরে আসলো মেসি যুগ আমিনের ফুটবল সাপোর্ট রিনিউ হল ২০১৪ ও ২০২২ সালে সে আবার আর্জেন্টিনার তৃপ্ত ভক্ত হয়ে গেল ১৪ সালে রানার্সআপ এবং ২০২২ সালে চ্যাম্পিয়ন হয়ে তার ভক্তির সীমা দীর্ঘায়িত হলো,

হতেই থাকবে, হয়তো আর কোথাও যাওয়া হবে না। ব্রাজিল থেকে আমিন আর্জেন্টিনায় গেলো, আর তার ফেরা হলোনা।
ঘটনাটি ঝড় উপন্যাস থেকে নেওয়া